চুনারুঘাটের ৫০ গ্রামে দু’হাজার অবৈধ ফার্নিচার কারখানা
মোঃ আলমগীর হোসেন চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
বনাঞ্চলবেষ্টিত চুনারুঘাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবাধে ফার্নিচারের কারখানা গড়ে উঠেছে। চুনারুঘাটে প্রায় দুই হাজার অবৈধ ফার্নিচার কারখানা রয়েছে; যার কোনো কাঠ কেনা এবং চেরাই করার অনুমতি নেই। এতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। চুনারুঘাটের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার মোট ৩৫ হাজার একর বনভূমির মধ্যে চুনারুঘাটের রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার একর বনভূমি। তিনটি রেঞ্জের অধীনে এখানে চারটি বনবিট রয়েছে। এখানে সেগুন, গর্জন ,শাল আকাশি মেহগনি, গামার, বনাক, আওয়াল, কড়ই, জাম, চিকরাশি, হারগাজা, জারুল, বয়রা, হরীতকী, আমলকী, পিনজাম, লোহাকাঠসহ প্রায় দেড়শ’ প্রজাতির গাছ রয়েছে। বনাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোয় রয়েছে চিহ্নিত বনদস্যু। চুনারুঘাট, রানীগাঁও, পারকুল, জিবদরছড়া, হাকাজুরা, শ্রীবাড়ী, সাটিয়াজুড়ি, নাছিমাবাদ, তেরাসুল, বড়জুষ, হরিণমারা, কালেঙ্গা, কুমারকাদা, জলিলপুর, কালিকাপুর, ভোলারজুম, মিরাশী, আমতলা, নিশ্চিন্তপুর, জালিয়াবস্তী, আলোনিয়া, গোয়াছপুর, আদমপুর, বড়াব্দা, কবিলাশপুর, লাতুরগাঁও, বাসুলা, আলীনগর, বাগিয়ারগাঁও, রেমা, চেগানগর, শালটিলা, বদরগাজী, রঘুনন্দন, লালচান্দ, পঞ্চাশ, মহিমাউড়া, দেওরগাছ, ইনাতাবাদ, সাড়েকোনাসহ অন্তত ৫০টি গ্রামে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ফার্নিচার কারখানা। বনদস্যুরা জঙ্গল থেকে গাছ চুরি করে এসব কারখানা মালিকদের কাছে বিক্রি করে। কারখানার মালিকরা স’মিল অথবা গ্রামের করাতির মাধ্যমে কাঠ চেরাই করে ফার্নিচার তৈরি করে। অবৈধ ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা এসব ফার্নিচার রিকশা, ভ্যান, মিনি ট্রাক ভর্তি করে মিরপুর, হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ, বি-বাড়িয়া, নবীনগর, কসবা, মুরাদনগর, নরসিংদী, ঢাকা, গোয়ালাবাজার, নবীগঞ্জ, কুমিল্লা ও ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে। এ ছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ ও লস্করপুর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে বেশির ভাগ সময় অবৈধ ফার্নিচার পাচার হয়ে থাকে। চুনারুঘাট উপজেলা সদরের ৭টি ফার্নিচারের দোকানে চেরাই কাঠ কেনার অনুমতি রয়েছে। বাকি ফার্নিচারের দোকানে কোনো ধরনের চেরাই অথবা কাঠ কেনার অনুমতি নেই। চুনারুঘাটে অবস্থিত বন বিভাগের বিশেষ টহল বাহিনীর ওসি আবদুল আহাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ফার্নিচার তৈরির আগে মালিকদের নিলাম অথবা টেন্ডারে কাঠ কিনতে হবে। স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্তপূবর্ক রিপোর্ট পেশ করলে বিভাগীয় বনকর্মকর্তা চেরায়ের অনুমতি দেন। এদিকে উপজেলার বড়াব্দা, লাতুরগাঁও, কবিলাশপুর নিশ্চিন্তপুর, বাসুল্লা, আলীনগর, রানীগাঁও ও পারকুল গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ওইসব গ্রামের ৯০ শতাংশ বাড়িতে চোরাই ফার্নিচারের কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব চোরাই ফার্নিচার কারখানাতে স্থানীয় বন বিভাগের বিশেষ টহল বাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী ও টাস্কফোর্স কয়েকবার হানা দিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছে। কারণ দূর্গম এসব গ্রামে চোরাকারবারীদের রয়েছে শক্ত নেটওয়ার্ক। এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও অপতত্পরতা তাদের থেমে নেই।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


