Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ০২ জানুয়ারি ২০১০, ১৯ পৌষ ১৪১৬, ১৫ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ঝিনাইদহে মাদকের ছোবল

আরিফুল আবেদীন টিটো ঝিনাইদহ
বিভিন্ন পথে প্রতিদিন ঝিনাইদহে ঢুকছে মাদকদ্রব্য। নিষিদ্ধ ঘোষিত ভারতীয় ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন এমনকি ইয়াবা ট্যাবলেট পর্যন্ত ঝিনাইদহে অবাধে কেনাবেচা হচ্ছে। মাদকের নীলদংশনে যুবসমাজ ধ্বংসের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। মাদকসহ বিক্রেতারা গ্রেফতার হলেও কয়েকদিনের মধ্যে তারা মুক্তি পেয়ে পুরনো পেশায় ফিরে যাচ্ছে। ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার শতাধিক স্পটে বর্তমানে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এসব স্পট থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা বখরা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ঝিনাইদহে ফেনসিডিল বিক্রির মূল কেন্দ্র হচ্ছে কালীগঞ্জ। এখান থেকেই মাদকের চালান বিভিন্ন স্পটে পৌঁছে দেয়া হয়। নারী ও অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের দিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসায়ীরা এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখান থেকেই দেশের বিভন্ন স্থানে পৌঁছে যায় মাদকদ্রব্য। শহরের কোরাপাড়া কলোনি, ব্যাপারীপাড়া, আজাদ রেস্টহাউস, মাজমাদারপাড়া, সদর হাপাতালের সামনে, হামদহ, চুয়াডাঙ্গ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন গলি ও বস্তি সন্ধ্যায় পরিণত হয় মাদকের স্পটে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে ফেনসিডিল উদ্ধার করলেও ঝিনাইদহ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর পরিণত হয়েছে ঠুটো জগন্নাথে। মাদক নিয়ন্ত্রণে তাদের অর্জন নিয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন জেলা প্রশাসকসহ সদস্যরা। এছাড়া জেলায় মদ সেবনের ভুয়া পারমিট নিয়েও ক্ষোভের অন্ত নেই। খাতা-কলমে সদস্য বাড়িয়ে ঝিনাইদহ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এখানকার বৈধ মদ ব্যবসায়ীদের অবৈধ কারবার করতে সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের মদের ডিপো থেকে গোপনে পাচার হচ্ছে মদের চালান। ফলে সারা জেলায় মাদকসেবীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। অভিভাবকদের মতে, বৈধ মদ ব্যবসায়ীরাই এখন মাকদসেবীর সংখ্যা বাড়াতে ব্যস্ত। এছাড়া প্রতিদিনই ঝিনাইদহের নানাপথে ঢুকে পড়ছে মাদক। পুলিশ জানায়, কোপাড়ার এক বৃদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও সে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সদর উপজেলার ডাকবাংলোর তিন মাদক সম্রাটের হাতে জিম্মি গ্রামের সাধারণ মানুষ। হলিধানী এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে গাঁজা ও ফেনসিডিল। শহরের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে ২০ থেকে ৫০ টাকার বিনিময়ে সিগারেটের মধ্যে তৈরি করা গাঁজা পাওয়া যাচ্ছে। মাদকের মরণ ছোবলে আক্রান্ত কয়েকজন জানায়, দৈনিক নেশা করতে তাদের ৩/৪শ’ টাকা প্রয়োজন। শুরুতে তারা বাবা-মার কাছ থেকে হাত খরচের নাম করে টাকা আনতো। কিন্তু সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তাদের চুরি-ছিনতাই করতে হয়। এরকম অসংখ্য তাজা তরুণ-যুবক মাদকের ছোবলে অকালে ঝরে পড়লেও দেখার কেউ নেই। হাতের কাছে খুব সহজেই নেশা পেয়ে বিপদগামী হয়ে উঠছে এখানকার যুবসমাজ। এ ব্যাপারে পুলিশ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?