যশোরের প্রথম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাবঞ্চিত
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
যশোর জেলার প্রথম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হাজারিলাল তরফদার ওরফে গোসাই। সবাই তাকে গোসাইদা বলেই চেনেন। এই গোসাইদা বীর প্রতীক উপাধি পেয়েও আজ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ খেতাবের ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তিনি চৌগাছা উপজেলার রানীয়ালী গ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি কুচক্রী মহল তার পৈতৃক ভিটেবাড়ি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। সেই থেকেই তিনি ভবঘুরে জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে তিনি ঝিকরগাছা পৌর সদরের কৃষ্ণনগর গ্রামে পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দিনেশ চন্দ্র মিস্ত্রির বাড়িতে বসবাস করছেন। গোসাইদা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৮ নং সেক্টরের অধীন বিভিন্ন অভিযানে সম্মুখসমরে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধের সময় তিনি ঝিকরগাছার দোসতিনা গ্রামের পাকিস্তানি পুলিশ ক্যাম্পের ১৫ জনকে বিষ মিশ্রিত কলা খাইয়ে হত্যা করেন। ওই গ্রামে কপোতাক্ষ নদের উপর কলা গাছের ভেলার তৈরি সেতু নষ্ট করে দেয়ায় পাকিস্তানিরা ওই সেতু পার হওয়ার সময় ৫০ সেনা পানিতে ডুবে মারা যায়। এরপর গোসাইদা চৌগাছা উপজেলার মাটশিয়া সীমান্তের কুচবিলের যুদ্ধ শেষে ফিরে এসে ঝিকরগাছা উপজেলার পাল্লা গ্রামের ৫৮ পাকিস্তানিকে গুলি করে হত্যা করেন। তিনি ১ রাজাকার ও ২ পাকিস্তানি সৈন্যের হাতে আটক হলে কৌশলে তাদের খতম করেন। এ সময় গোসাইদার বাম হাতে একটি গুলি লাগে। যুদ্ধের কলাকৌশলে সন্তুষ্ট হয়ে ৮ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার মিত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন হুদা ওই এলাকার সর্বশেষ পাকিস্তানি ক্যাম্প শার্শার গোড়পাড়া ঘাঁটি উচ্ছেদের নির্দেশ দেন তাকে। একই সঙ্গে তাকে বিশেষ পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর গোসাই, জলিলসহ ১০/১২ জনের একটি দল ওই ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৫ পাকিস্তানি সদস্যকে হত্যা করে ওই ক্যাম্প দখল করেন। ক্যাম্প দখলের পর ১৭টি গরুর গাড়িভর্তি যুদ্ধসামগ্রীসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ক্যাপ্টেন হুদার কাছে জমা দেন। দেশ স্বাধীনের পর তাকে বীর প্রতীকের খেতাব দেয়া হয়। গোসাইদা সরকারের কাছে তার ভিটেমাটি ফেরতসহ নিশ্চিন্তে দু’মুঠো খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান, কিন্তু তার সে আশা আজও পূরণ হয়নি।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


