লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথ সংস্কারের উদ্যোগ নেই
এমএসআই জসিম লাকসাম
পাকিস্তান আমলে নির্মিত লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের সংস্কার নেই। যে কোনো সময় লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। রেল সূত্রে জানা যায়, লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথে ব্যবহৃত প্রস্তুতকৃত রেলের পাত ১৯৩০-৩৫ সালে অন্যত্র ব্যবহার করে ১৯৫৭-৬০ সালের দিকে এ লাইনে সংযোগ করা হয়। যে কোনো রেলের স্থায়িত্বকাল ৫০ বছর থাকলেও সে অনুযায়ী লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের রেলগুলোর স্থায়িত্ব ১৯৭৫-৮০ সালের দিকে শেষ হয়ে গেছে। ব্যবহৃত রেলগুলো ৬০ পাউন্ডের হলে এবং ওজন শতকরা ১০ ভাগ কমে গেলে পরিবর্তন করতে হয়। অথচ এগুলোর ওজন শতকরা ২০-২৫ ভাগ নেমে আসার পরও লাকসাম-চাঁদপুর রেল লাইনে ট্রেন চলাচল করছে। এসব রেল দিয়ে ভারি ইঞ্জিন কোনো অবস্থাতেই চলাচল নিরাপদ নয়। পাকিস্তান আমলে নির্মিত চাঁদপুর সিএসডি গোডাউন থেকে ছায়াবাণী পর্যন্ত মালামাল আনা-নেয়ার জন্য নির্মিত পাঁচশ’ গজ লাইন গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ লাইনের অধিকাংশ স্লিপার নষ্ট হয়ে পড়ায় এবং রেলপাতের স্থায়িত্ব কমে যাওয়ায় বারবার ট্রেন দুর্ঘটনা ও লাইনচ্যুত হচ্ছে। সম্প্রতি চাঁদপুর থেকে লাকসাম অভিমুখী ১০২ ডাউন যাত্রীবাহী ট্রেন লাকসামের কান্দিরপাড় নামক স্থানে লাইনচ্যুত হয় এবং চাঁদপুর-ছায়াবাণী লাইনের সিএসডির পেছনে ১০০১৬৬, বিসি, ৮৬৫৩৫ সি, ৮৭৬২৮ সি ও ৮৬৯৩ সি বগিগুলো লাইনচুত্য হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা জেলার অনেক লোক নদীপথ দিয়ে চাঁদপুর এসে ট্রেনে লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম যাতায়াত করেন। চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক ট্রেনে আসা-যাওয়া করে। এতে রেলওয়ের বছরে বিপুল অংকের টাকা রাজস্ব আয় হয়। বিগত বিএনপি জোট সরকার আমলে লাকসাম-চাঁদপুর রেললাইন সংস্কারের জন্য একশ’ কোটি টাকা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে উক্ত প্রকল্প লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


