চট্টগ্রামে কোন্দলে বছর কেটেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির
মজুমদার নাজিম উদ্দিন চট্টগ্রাম
২০০৯ সালে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল অস্থির। প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জর্জরিত ছিল অন্তর্কোন্দলে। ঘরের আগুন সামাল দিতেই সারাবছর হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। উভয় দলের নেতাকর্মীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেয়। তবে আওয়ামী লীগের কোন্দল ছিল তুলনামূলক বেশি। দলটির চার শীর্ষনেতা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আকতারুজ্জামান বাবু এমপি, এমএ লতিফ এমপি ও নুরুল ইসলাম বিএসসি এমপিকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিষোদগার ও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। আনোয়ারায় মেয়রের জনসভায় হামলা চালায় আকতারুজ্জামান বাবুর সমর্থকরা। ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের নেতৃত্বের দখল নিয়ে মেয়র মহিউদ্দিন ও মন্ত্রী আফসারুল আমীনের সমর্থকদের হাতে প্রহৃত হন চট্টগ্রাম-১০ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি এমএ লতিফ। বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপিতেও দেখা দেয় কোন্দল। বিরোধের জের ধরে নগর বিএনপির সম্মেলনে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। দক্ষিণ জেলা বিএনপির দু’পক্ষ পৃথক সম্মেলনের আয়োজন করে। উত্তর জেলায় কোন্দলের কারণে সম্মেলন হয়নি।
নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে এমপি এমএ লতিফের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয় মে মাসে। নগরীতে দিনের বেলা ট্রাক চলাচল ইস্যুতে দুজন মুখোমুখি অবস্থান নেন। মেয়র নগরীতে দিনের বেলা ট্রাক চলাচলের বিরোধিতা করলে লতিফ অবস্থান নেন তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলে তুমুল বাকযুদ্ধ। লতিফ মেয়রকে ব্যবসায়ীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে অভিযোগ করে বলেন, বন্দর নিয়ে তিনি অতীতে অনেক নোংরা রাজনীতি করেছেন। কথায় কথায় বন্দর অচল করার দিন এখন শেষ হয়ে গেছে বলেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। জবাবে মেয়র বলেন, পাগলে কিনা বলে। সে আবোলতাবোল বকছে। দুজনের বিরোধের চরম বহির্প্রকাশ ঘটে ১২ জুন। ওইদিন অভ্যন্তরীণ রুটের জাহাজ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের সভায় সংগঠনের আহ্বায়ক লতিফকে প্রবেশ করতে দেয়নি মেয়র মহিউদ্দিন ও মন্ত্রী আফসারুল আমিনের সমর্থকরা। পুলিশের সহায়তায় মেয়র ও মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই সভাস্থলের সামনে লতিফকে দফায় দফায় প্রহার করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। প্রকাশ্য দিনের আলোয় ক্ষমতাসীন দলের একজন এমপিকে মাটিতে শুইয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রহারের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
গত মে মাসেই মেয়র মহিউদ্দিন ও নগরীর কোতোয়ালি-বাকলিয়া আসনের এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসির মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। মেয়র সিটি কর্পোরেশনে ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে নুরুল ইসলাম বিএসসিকে কটূক্তি করেন। জবাবে বিএসসি বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী কখনোই কাউকে রাজনীতি শেখাননি। রাজনীতি করেন নিজের স্বার্থে। রমজানের ঈদের পরদিন মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েন মেয়র। নুরুল ইসলাম বিএসসি ও আকতারুজ্জামান বাবুর সমর্থকরা মেয়র মহিউদ্দিনের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। আনোয়ারায় ৫টি ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়ায় মেয়রের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এমপির। এর জের ধরে আনোয়ারায় মহিউদ্দিন চৌধুরী একটি সমাবেশে বাবু সমর্থকদের হামলায় ৪ জন আহত হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আকতারুজ্জামান বাবুর পুরনো বিরোধ নতুন করে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বর্তমানে চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরী, এমএ লতিফ, নুরুল ইসলাম বিএসসি ও আকতারুজ্জামান বাবুকে ঘিরে ৪টি গ্রুপ সক্রিয়। অবশ্য বিভিন্ন সময় মেয়র মহিউদ্দিনবিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও চেষ্টা চালিয়েছেন।
গত সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিতে কিছুদিন প্রকাশ্য বিরোধ দেখা যায়নি। বছরের শেষদিকে জেলা, থানা ও ইউনিয়নের কমিটি গঠনের কাজ শুরু হলে বিএনপিতেও কোন্দল চাঙ্গা হয়ে ওঠে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে সম্মেলনের জন্য কমিটি গঠন করা হলে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ না পাওয়া কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সমাবেশ করেন। পরে তাদের কয়েকজনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করলে কোন্দল কমে আসে। প্রায় ১৬ বছর পর গত ১৬ নভেম্বর আহ্বায়ক কমিটি নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলনের আয়োজন করে। আমীর খসরু মাহমুদ ও আবদুল্লাহ আল নোমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং চেয়ার ছোড়াছুড়ির কারণে সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। পরে ঢাকা থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি, ডা. শাহাদাত হোসেনকে সেক্রেটারি করে নগর বিএনপির একটি সংক্ষিপ্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ওদিকে দক্ষিণ জেলার মূল সম্মেলন কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বাঁশখালীতে অনুষ্ঠিত হলেও একইদিনে আরেক গ্রুপ আরেকটি কমিটি ঘোষণা করে। স্থান নিয়ে কোন্দল সৃষ্টির আশঙ্কায় উত্তর জেলা বিএনপির সম্মেলন শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়। জাফরুল ইসলাম চৌধুরী দক্ষিণ জেলার সভাপতি ও শেখ মহিউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেও উত্তর জেলায় গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সভাপতি এবং আসলাম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা থেকে কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির তিন সাংগঠনিক জেলা কমিটিতেই সভাপতি-সেক্রেটারি পদে পুরনো নেতাদের বাদ দেয়া হয়। তিন জেলার সংক্ষিপ্ত কমিটি ঘোষণার পর বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন অনেকটাই কমে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হয়ে চমক দেখিয়েছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। গত মঙ্গলবার তিনি চট্টগ্রাম রেলস্টেশন চত্বরে দেয়া গণসংবর্ধনায় চট্টগ্রাম বিএনপিতে ঐক্যের ডাক দেন। এর আগে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে এমপি এমএ লতিফের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয় মে মাসে। নগরীতে দিনের বেলা ট্রাক চলাচল ইস্যুতে দুজন মুখোমুখি অবস্থান নেন। মেয়র নগরীতে দিনের বেলা ট্রাক চলাচলের বিরোধিতা করলে লতিফ অবস্থান নেন তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলে তুমুল বাকযুদ্ধ। লতিফ মেয়রকে ব্যবসায়ীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে অভিযোগ করে বলেন, বন্দর নিয়ে তিনি অতীতে অনেক নোংরা রাজনীতি করেছেন। কথায় কথায় বন্দর অচল করার দিন এখন শেষ হয়ে গেছে বলেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। জবাবে মেয়র বলেন, পাগলে কিনা বলে। সে আবোলতাবোল বকছে। দুজনের বিরোধের চরম বহির্প্রকাশ ঘটে ১২ জুন। ওইদিন অভ্যন্তরীণ রুটের জাহাজ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের সভায় সংগঠনের আহ্বায়ক লতিফকে প্রবেশ করতে দেয়নি মেয়র মহিউদ্দিন ও মন্ত্রী আফসারুল আমিনের সমর্থকরা। পুলিশের সহায়তায় মেয়র ও মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই সভাস্থলের সামনে লতিফকে দফায় দফায় প্রহার করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। প্রকাশ্য দিনের আলোয় ক্ষমতাসীন দলের একজন এমপিকে মাটিতে শুইয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রহারের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
গত মে মাসেই মেয়র মহিউদ্দিন ও নগরীর কোতোয়ালি-বাকলিয়া আসনের এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসির মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। মেয়র সিটি কর্পোরেশনে ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে নুরুল ইসলাম বিএসসিকে কটূক্তি করেন। জবাবে বিএসসি বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী কখনোই কাউকে রাজনীতি শেখাননি। রাজনীতি করেন নিজের স্বার্থে। রমজানের ঈদের পরদিন মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েন মেয়র। নুরুল ইসলাম বিএসসি ও আকতারুজ্জামান বাবুর সমর্থকরা মেয়র মহিউদ্দিনের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। আনোয়ারায় ৫টি ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়ায় মেয়রের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এমপির। এর জের ধরে আনোয়ারায় মহিউদ্দিন চৌধুরী একটি সমাবেশে বাবু সমর্থকদের হামলায় ৪ জন আহত হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আকতারুজ্জামান বাবুর পুরনো বিরোধ নতুন করে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বর্তমানে চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরী, এমএ লতিফ, নুরুল ইসলাম বিএসসি ও আকতারুজ্জামান বাবুকে ঘিরে ৪টি গ্রুপ সক্রিয়। অবশ্য বিভিন্ন সময় মেয়র মহিউদ্দিনবিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও চেষ্টা চালিয়েছেন।
গত সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিতে কিছুদিন প্রকাশ্য বিরোধ দেখা যায়নি। বছরের শেষদিকে জেলা, থানা ও ইউনিয়নের কমিটি গঠনের কাজ শুরু হলে বিএনপিতেও কোন্দল চাঙ্গা হয়ে ওঠে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে সম্মেলনের জন্য কমিটি গঠন করা হলে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ না পাওয়া কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সমাবেশ করেন। পরে তাদের কয়েকজনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করলে কোন্দল কমে আসে। প্রায় ১৬ বছর পর গত ১৬ নভেম্বর আহ্বায়ক কমিটি নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলনের আয়োজন করে। আমীর খসরু মাহমুদ ও আবদুল্লাহ আল নোমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং চেয়ার ছোড়াছুড়ির কারণে সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। পরে ঢাকা থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি, ডা. শাহাদাত হোসেনকে সেক্রেটারি করে নগর বিএনপির একটি সংক্ষিপ্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ওদিকে দক্ষিণ জেলার মূল সম্মেলন কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বাঁশখালীতে অনুষ্ঠিত হলেও একইদিনে আরেক গ্রুপ আরেকটি কমিটি ঘোষণা করে। স্থান নিয়ে কোন্দল সৃষ্টির আশঙ্কায় উত্তর জেলা বিএনপির সম্মেলন শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়। জাফরুল ইসলাম চৌধুরী দক্ষিণ জেলার সভাপতি ও শেখ মহিউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেও উত্তর জেলায় গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে সভাপতি এবং আসলাম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা থেকে কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির তিন সাংগঠনিক জেলা কমিটিতেই সভাপতি-সেক্রেটারি পদে পুরনো নেতাদের বাদ দেয়া হয়। তিন জেলার সংক্ষিপ্ত কমিটি ঘোষণার পর বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন অনেকটাই কমে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হয়ে চমক দেখিয়েছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। গত মঙ্গলবার তিনি চট্টগ্রাম রেলস্টেশন চত্বরে দেয়া গণসংবর্ধনায় চট্টগ্রাম বিএনপিতে ঐক্যের ডাক দেন। এর আগে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


