মাদারীপুরে ১২০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত
মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরের বিভিন্ন জলাশয়ে ১২০ প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। জানা গেছে, অবাধে মত্স্য আহরণ, পোনা মাছ নিধন, পানি সেচ করে ও কারেন্টজাল দিয়ে মাছ ধরা, হাওরের জমিতে কীটনাশক ব্যবহার, নদী-জলাশয় পলি মাটিতে ভরাট হওয়ায় এবং সরকারি কোনো সুষ্ঠু নীতিমালা প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে মাছের উত্পাদন। হারিয়ে যাচ্ছে মাদারীপুরের হাওর, নদ-নদী আর জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ। মাদারীপুর সদর, রাজৈর, শিবচর ও কালকিনি উপজেলার প্রতিটি হাওর-বিল, নদ-নদীতে এখন আর আগের মতো দেশীয় প্রজাতির মাছ খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও উত্পাদন বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা না থাকায় অনেক প্রজাতির মাছই বিলুপ্তির অন্যতম একটি কারণ বলে জানা গেছে। মত্স্য খামার মালিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ এখন অনেক কঠিন কাজ। অতীতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদারীপুর থেকে মাছ নিয়ে বিক্রি করত মত্স্য ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন নদ-নদী, ছোট-বড় খাল, পুকুর ও জলাশয় আছে এ অঞ্চলে। এসব স্থান থেকে অতীতে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করা সম্ভব হলেও বর্তমানে নানা কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। স্থানীয়রা জানান, এক সময় প্রায় ২৭০ প্রজাতির দেশীয় মাছ এসব স্থানে থাকলেও এখন অস্তিত্ব আছে মাত্র অর্ধশত প্রজাতির। দেশীয় এসব প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল ভরাট করে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মাণ, মাছের আশ্রয়স্থলের পার্শ্ববর্তী জমিতে কীটনাশক ব্যবহারসহ অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চলাচলে বাধা প্রদান এবং পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিমওয়ালা মাছ নিধন। বর্তমানে মাদারীপুরে বছরে মাছ উত্পাদনের পরিমাণ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। কম পরিমাণ মাছ উত্পাদনের কারণে একদিকে যেমন মাছের চাহিদা মিটছে না, তেমনি বিদেশে রফতানির পরিমানও হ্রাস পাচ্ছে। এই এলাকার লোকজন এখন বিভিন্ন স্থান থেকে আমদানিকৃত মাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


