চলনবিলের নৌকাস্কুল
জাকির হোসেন, চলনবিল থেকে ফিরে
উত্তরাঞ্চলের চলনবিল সংলগ্ন নন্দকুজা, আত্রাই, বারনই, গুমানী, বড়াল, ফুজজোড় এবং গুরনাই নদীর তীরবর্তী কৃষক, দিনমজুর ইত্যাদি নানা শ্রেণী-পেশার দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা এখন প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। তবে দরিদ্র পরিবারের শিশু রত্না, পলি, আলিফদের স্কুলে যেতে হয় না। তারা দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বই খাতা কলম নিয়ে বাড়ির কাছেই নদীর ধারে এসে বসে। আর স্রোতহীন ম্রিয়মাণ নদীর পানিতে ভেসে আসে একটি সুদৃশ্য নৌকা। এ নৌকায় সাধারণ স্কুলের মতোই সারি সারি সাজানো রয়েছে বেঞ্চ। আরও আছে দুটি করে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার। নৌকার ছাদে প্রতিস্থাপিত সৌর প্যানেলে চলে এ কম্পিউটার। নৌকা পাড়ে ভিড়লেই চওড়া সিঁড়ি দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা এতে উঠে বই-খাতা নিয়ে পড়তে বসে। এর মাধ্যমে তারা প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সম্যক ধারণা লাভ করছে।
এ অঞ্চলে নৌকা দিয়ে শুধু প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমই পরিচালিত হচ্ছে না। একই উপায়ে দেয়া হচ্ছে সর্বস্তরের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের জন্য লাইব্রেরি ব্যবহারের সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বাড়িতে রাতের অন্ধকার লাঘবের জন্য সৌর হারিকেন সেবা। এই চলনবিল অঞ্চলের নদী তীরবর্তী হতদরিদ্র মানুষরা এসব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে ‘সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা’র নৌকাভিত্তিক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে। শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সৌরবিদ্যুত্ উত্পাদন, কৃষি প্রশিক্ষণ, পাঠাগারসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে চলনবিল এলাকায় প্রতিটি ঘর আলোকিত করার স্বপ্ন দেখে এ নৌকা। এ সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুপ্রকাশ পাল জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ৯২টি নৌকা। এর মধ্যে স্কুলের জন্য ১৮টি, লাইব্রেরির জন্য ১০টি, স্বাস্থ্যসেবায় ৫টি নৌকা নিয়োজিত। বাকিগুলো কৃষি প্রশিক্ষণ, সোলার সার্ভিস এবং যাতায়াতের কাজে নিয়োজিত। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সম্প্রতি নাটোরের সিংড়া থানার বারনই নদীর তীরবর্তী পুণ্ডরী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি নৌকায় লেখাপড়া করছে ৩০ জন শিশু। এখানকার সবচেয়ে কাছের প্রাইমারি স্কুলটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। এছাড়া বৃষ্টি ও বন্যার পুরো সময়ই স্কুলে যাওয়া শিশুদের সম্ভব হয় না। তাই এ নৌকা-স্কুলই ঘরের কাছে চলে আসায় বছরের একটা বড় সময় এদের লেখাপড়া বন্ধ থাকে না বলে জানান নৌকা-স্কুলের শিক্ষিকা রোমানা খাতুন। এই যে শিক্ষার্থীরা বর্ষা ও বন্যার কারণে স্কুলে যেতে পারছে না, এ সমস্যার সমাধান করতেই জন্ম নিয়েছে নৌকা-স্কুল।
এ স্কুল-নৌকার কাছেই আরেকটি লাইব্রেরি-নৌকায় দেখা যায় মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের ব্যস্ততা। কেউ বই পড়ছে। কেউবা ল্যাপটপে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের পাতায় চোখ বুলাচ্ছে, কিউ প্রয়োজনীয় ইমেইল পাঠাতেও ব্যস্ত। একটু দূরে নাদিয়ারকান্দি গ্রামে দেখা গেল নৌকায় সব বয়সের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে। আর একটি নৌকায় দেখা যায় কৃষক-কৃষাণীদের কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ নিতে।
পানিতে ভেসে আসা স্কুল : সংস্থাটি নদীর পাড় ধরে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে শুরু করে তাদের এ কাজ। সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা মূলত চলনবিল অঞ্চলের নন্দকুজা, আত্রাই, বারনই, গুমানী, বড়াল, ফুজজোড় এবং গুরনাই নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০০২ সালে প্রথম নৌকা-স্কুল কার্যক্রম শুরু হয়। এখন এই ২০০৯ সালে তাদের ১৮টি নৌকায় করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৫৪টি স্থানে স্কুল কার্যকম চলছে। চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠ শেষে এখানকার ছাত্রছাত্রীরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।
লাইব্রেরি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম : প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি ১০টি নৌকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পাঠাগার। প্রতিটি নৌকায় রয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর বিভিন্ন পাঠ্যবইসহ গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি নানা বিষয়ের প্রায় ১৫শ’ বই। ছাত্রছাত্রীসহ সব বয়সের যে কোনো মানুষ নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে সদস্য হয়ে লাইব্রেরিতে বসে এবং বাড়িতে নিয়ে নানারকম বই পড়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। এজন্য কোনো জামানত এবং মাসিক ফি দিতে হয় না। এ লাইব্রেরির প্রতিটিতে রয়েছে কমপক্ষে দুটি করে ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ কম্পিউটার। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পায়। একইভাবে তাদের এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল এবং পাওয়ার পয়েন্ট বিষয়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
সৌর হারিকেন : এ অঞ্চলে বিদ্যুত্ নেই। তাই সৌরশক্তি ব্যবহার উপযোগী হারিকেনের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে গ্রামের ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে আলো। নৌকায় উত্পাদিত সৌরশক্তির মাধ্যমে গ্রামের মানুষরা এ হারিকেন জ্বালানোর সুযোগ পাচ্%E
এ অঞ্চলে নৌকা দিয়ে শুধু প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমই পরিচালিত হচ্ছে না। একই উপায়ে দেয়া হচ্ছে সর্বস্তরের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের জন্য লাইব্রেরি ব্যবহারের সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বাড়িতে রাতের অন্ধকার লাঘবের জন্য সৌর হারিকেন সেবা। এই চলনবিল অঞ্চলের নদী তীরবর্তী হতদরিদ্র মানুষরা এসব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে ‘সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা’র নৌকাভিত্তিক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে। শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সৌরবিদ্যুত্ উত্পাদন, কৃষি প্রশিক্ষণ, পাঠাগারসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে চলনবিল এলাকায় প্রতিটি ঘর আলোকিত করার স্বপ্ন দেখে এ নৌকা। এ সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুপ্রকাশ পাল জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ৯২টি নৌকা। এর মধ্যে স্কুলের জন্য ১৮টি, লাইব্রেরির জন্য ১০টি, স্বাস্থ্যসেবায় ৫টি নৌকা নিয়োজিত। বাকিগুলো কৃষি প্রশিক্ষণ, সোলার সার্ভিস এবং যাতায়াতের কাজে নিয়োজিত। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সম্প্রতি নাটোরের সিংড়া থানার বারনই নদীর তীরবর্তী পুণ্ডরী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি নৌকায় লেখাপড়া করছে ৩০ জন শিশু। এখানকার সবচেয়ে কাছের প্রাইমারি স্কুলটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। এছাড়া বৃষ্টি ও বন্যার পুরো সময়ই স্কুলে যাওয়া শিশুদের সম্ভব হয় না। তাই এ নৌকা-স্কুলই ঘরের কাছে চলে আসায় বছরের একটা বড় সময় এদের লেখাপড়া বন্ধ থাকে না বলে জানান নৌকা-স্কুলের শিক্ষিকা রোমানা খাতুন। এই যে শিক্ষার্থীরা বর্ষা ও বন্যার কারণে স্কুলে যেতে পারছে না, এ সমস্যার সমাধান করতেই জন্ম নিয়েছে নৌকা-স্কুল।
এ স্কুল-নৌকার কাছেই আরেকটি লাইব্রেরি-নৌকায় দেখা যায় মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের ব্যস্ততা। কেউ বই পড়ছে। কেউবা ল্যাপটপে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের পাতায় চোখ বুলাচ্ছে, কিউ প্রয়োজনীয় ইমেইল পাঠাতেও ব্যস্ত। একটু দূরে নাদিয়ারকান্দি গ্রামে দেখা গেল নৌকায় সব বয়সের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে। আর একটি নৌকায় দেখা যায় কৃষক-কৃষাণীদের কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ নিতে।
পানিতে ভেসে আসা স্কুল : সংস্থাটি নদীর পাড় ধরে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে শুরু করে তাদের এ কাজ। সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা মূলত চলনবিল অঞ্চলের নন্দকুজা, আত্রাই, বারনই, গুমানী, বড়াল, ফুজজোড় এবং গুরনাই নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০০২ সালে প্রথম নৌকা-স্কুল কার্যক্রম শুরু হয়। এখন এই ২০০৯ সালে তাদের ১৮টি নৌকায় করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৫৪টি স্থানে স্কুল কার্যকম চলছে। চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠ শেষে এখানকার ছাত্রছাত্রীরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।
লাইব্রেরি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম : প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি ১০টি নৌকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পাঠাগার। প্রতিটি নৌকায় রয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর বিভিন্ন পাঠ্যবইসহ গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি নানা বিষয়ের প্রায় ১৫শ’ বই। ছাত্রছাত্রীসহ সব বয়সের যে কোনো মানুষ নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে সদস্য হয়ে লাইব্রেরিতে বসে এবং বাড়িতে নিয়ে নানারকম বই পড়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। এজন্য কোনো জামানত এবং মাসিক ফি দিতে হয় না। এ লাইব্রেরির প্রতিটিতে রয়েছে কমপক্ষে দুটি করে ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ কম্পিউটার। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পায়। একইভাবে তাদের এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল এবং পাওয়ার পয়েন্ট বিষয়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
সৌর হারিকেন : এ অঞ্চলে বিদ্যুত্ নেই। তাই সৌরশক্তি ব্যবহার উপযোগী হারিকেনের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে গ্রামের ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে আলো। নৌকায় উত্পাদিত সৌরশক্তির মাধ্যমে গ্রামের মানুষরা এ হারিকেন জ্বালানোর সুযোগ পাচ্%E
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


