বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২০ হাজার কোটি টাকার পর্যটন প্রস্তাবনা
মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম
বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী এক প্রস্তাবনা গ্রহণ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিশাল বাজেটের এই প্রকল্প প্রস্তাবনা আসন্ন সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রস্তাবনায় কক্সবাজার ও বান্দরবান পার্বত্য জেলাকে পর্যটনের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল তিনদিন ধরে রাঙামাটি ও বান্দরবান সফর করে। পার্বত্য জেলা সফরের প্রথমদিন রাঙামাটির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মিলনায়তনে এই সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিটির অপরাপর সদস্যের সঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী একে খোন্দকারও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগানোর জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। বেসরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন শিল্প বিকাশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাতের মাধ্যমে এসব এলাকা অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আমার দেশ’কে জানান, এর মধ্যেই দেশের পর্যটন নীতিমালাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও বিনিয়োগে উত্সাহিত করা হবে। ২০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবনা উচ্চাভিলাষী কিনা জানতে চাইলে ড. অলি আহমেদ বলেন, এটা ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাবনা। এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা না হলে বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এ প্রস্তাবনা কোনোভাবেই উচ্চাভিলাষী হিসেবে ভাবা যায় না। এ প্রস্তাবনায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে পার্বত্য এলাকায় পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী কোনো জাতি-গোষ্ঠী যাতে উচ্ছেদ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখা হবে বলে জানান।
বান্দরবান-রাঙামাটির পাহাড়ি সৌন্দর্য ও কাপ্তাই হ্রদের যুগল নিসর্গ উপভোগের জন্য কেবলকার স্থাপনের চিন্তাও রয়েছে পর্যটন প্রস্তাবনায়। এই প্রস্তাবনায় রাঙামাটি ও বান্দরবানের ৫টি স্থানকে কেবলকারের উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া বিদেশি পর্যটকদের বিশেষ সুবিধার জন্য কক্সবাজার ও বান্দরবানে এক্সুক্লুসিভ পর্যটন জোন গড়ে তোলার ওপর গুরুুত্বারোপ করে একটি সুপারিশমালা পর্যটন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে বলে জানান সংসদীয় কমিটির সভাপতি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্প বিকাশে যে বিষয়টি সংসদীয় কমিটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে, তা হচ্ছে পাহাড়ি এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি।
এখানে সংসদীয় কমিটি বলেছে, পার্বত্য এলাকা থেকে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে পাহাড়ি এবং বাঙালিদের মধ্যে যেন নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সরকারকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যটন বিকাশে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির রাঙামাটি বৈঠকে সাতটি মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব মন্ত্রণালয়ের জন্য ১২টি মূল সুপারিশের মধ্যে আরও ২৭টি প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাঙামাটি বৈঠকে যেসব মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পর্যটন খাতসহ পার্বত্য এলাকার অন্যান্য বিষয়ের উন্নয়ন প্রস্তাবনা করা হয়েছে সেসব মন্ত্রণালয় হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং মত্স্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়।
কমিটির বৈঠকে বলা হয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান দুটি বড় খাত হচ্ছে গার্মেন্ট সেক্টর ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো মুদ্রা। এই দুটি খাতের বিশ্ববাজার দিন দিন সঙ্কুুচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। আগামী ১০ বছরে এই দুটি খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে না। কাজেই এখন থেকে বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে। ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্পই হয়ে উঠতে পারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। সরকারের উচিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প বিকাশে গুরুত্ব দেয়া।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রস্তাবনায় কক্সবাজার ও বান্দরবান পার্বত্য জেলাকে পর্যটনের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল তিনদিন ধরে রাঙামাটি ও বান্দরবান সফর করে। পার্বত্য জেলা সফরের প্রথমদিন রাঙামাটির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মিলনায়তনে এই সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিটির অপরাপর সদস্যের সঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী একে খোন্দকারও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগানোর জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। বেসরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন শিল্প বিকাশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাতের মাধ্যমে এসব এলাকা অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আমার দেশ’কে জানান, এর মধ্যেই দেশের পর্যটন নীতিমালাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও বিনিয়োগে উত্সাহিত করা হবে। ২০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবনা উচ্চাভিলাষী কিনা জানতে চাইলে ড. অলি আহমেদ বলেন, এটা ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাবনা। এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা না হলে বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এ প্রস্তাবনা কোনোভাবেই উচ্চাভিলাষী হিসেবে ভাবা যায় না। এ প্রস্তাবনায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে পার্বত্য এলাকায় পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী কোনো জাতি-গোষ্ঠী যাতে উচ্ছেদ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখা হবে বলে জানান।
বান্দরবান-রাঙামাটির পাহাড়ি সৌন্দর্য ও কাপ্তাই হ্রদের যুগল নিসর্গ উপভোগের জন্য কেবলকার স্থাপনের চিন্তাও রয়েছে পর্যটন প্রস্তাবনায়। এই প্রস্তাবনায় রাঙামাটি ও বান্দরবানের ৫টি স্থানকে কেবলকারের উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া বিদেশি পর্যটকদের বিশেষ সুবিধার জন্য কক্সবাজার ও বান্দরবানে এক্সুক্লুসিভ পর্যটন জোন গড়ে তোলার ওপর গুরুুত্বারোপ করে একটি সুপারিশমালা পর্যটন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে বলে জানান সংসদীয় কমিটির সভাপতি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্প বিকাশে যে বিষয়টি সংসদীয় কমিটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে, তা হচ্ছে পাহাড়ি এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি।
এখানে সংসদীয় কমিটি বলেছে, পার্বত্য এলাকা থেকে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে পাহাড়ি এবং বাঙালিদের মধ্যে যেন নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সরকারকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যটন বিকাশে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির রাঙামাটি বৈঠকে সাতটি মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব মন্ত্রণালয়ের জন্য ১২টি মূল সুপারিশের মধ্যে আরও ২৭টি প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাঙামাটি বৈঠকে যেসব মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পর্যটন খাতসহ পার্বত্য এলাকার অন্যান্য বিষয়ের উন্নয়ন প্রস্তাবনা করা হয়েছে সেসব মন্ত্রণালয় হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং মত্স্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়।
কমিটির বৈঠকে বলা হয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান দুটি বড় খাত হচ্ছে গার্মেন্ট সেক্টর ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো মুদ্রা। এই দুটি খাতের বিশ্ববাজার দিন দিন সঙ্কুুচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। আগামী ১০ বছরে এই দুটি খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে না। কাজেই এখন থেকে বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে। ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্পই হয়ে উঠতে পারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। সরকারের উচিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প বিকাশে গুরুত্ব দেয়া।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


