Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৭ পৌষ ১৪১৬, ১৩ হররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ঢাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন : সভাপতিসহ ৮টি নীল সম্পাদকসহ ৭টি পদে সাদা প্যানেল জয়ী : জাবি ও বুয়েট শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত, আজ চবিতে নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতিসহ ৮টি পদে আওয়ামী সমর্থিত নীল দল এবং সাধারণ সম্পাদকসহ ৭টি পদে জাতীয়তাবাদী সমর্থিত সাদা দল নির্বাচিত হয়েছে। গত সেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম আবার নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪টি পদে জয় পেয়েছে ভিসি সমর্থিত আওয়ামী প্যানেল। জাতীয়তাবাদী সমর্থিত প্যানেল পেয়েছে মাত্র ১টি সদস্য পদ।
তবে কোনো প্রকার দলীয় প্যানেল ছাড়াই বুয়েটে এবারও শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাপতি পদে অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদিন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. একেএম মাসুদ নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনের ফল সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পুনঃনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে সবক’টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিসি, প্রো-ভিসিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়। সাধারণ নীতি বর্জন করে অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স ও ঐতিহ্য ভঙ্গ করে তারা শিক্ষক নিয়োগ করে। আর এর প্রভাব শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে নীল দল থেকে সভাপতি পদে ৫৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা দলের প্রার্থী অধ্যাপক ড. তাজমেরী এসএ ইসলাম পেয়েছেন ৫৩৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ৫৮৩ ভোট পেয়ে সাদা দলের অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নীল দলের অধ্যাপক ড. অহিদুজ্জামান চান পেয়েছেন ৫০৪ ভোট। এছাড়া সহ-সভাপতি পদে অধ্যাপক শহীদ আকতার হোসেন (ভোট ৫৫৭) ও ট্রেজারার পদে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (ভোট ৬৩০) নীল দল থেকে নির্বাচিত হন। ৫৮৪ ভোট পেয়ে যুগ্ম সম্পাদক পদে সাদা দল থেকে নির্বাচিত হন অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত।
কার্যনির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্য পদে সাদা ও নীল ৫টি করে পায়। সাদা দলের নির্বাচিতরা হলেন অধ্যাপক সদরুল আমিন (ভোট ৬৫৮, দ্বিতীয়), অধ্যাপক আবু আহমেদ (ভোট ৬১৭, চতুর্থ), অধ্যাপক লুত্ফর রহমান (ভোট ৫৬৮, ষষ্ঠ), অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম (ভোট ৫৫৫, অষ্টম), অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ (ভোট ৫৫১, নবম)।
নীল প্যানেলের নির্বাচিত সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান (ভোট ৬৭৭, প্রথম), অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম (ভোট ৬৪৬, তৃতীয়), অধ্যাপক ফকরুল আলম (ভোট ৬১০, পঞ্চম), অধ্যাপক মুবিনা খন্দকার (ভোট ৫৬৩, সপ্তম), অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খান (ভোট ৫৪৪, দশম)।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় : জাহাঙ্গীরনগর প্রতিনিধি জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির একটি পদ ব্যতীত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪টি পদে ভিসি সমর্থিত আওয়ামী প্যানেল জয় পেয়েছে। নির্বাচিতরা হলেন সভাপতি পদে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি পদে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল খায়ের, কোষাধ্যক্ষ পদে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোঃ শামসুল আলম, সম্পাদক পদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আরজু মিয়া ও যুগ্ম সম্পাদক পদে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আনোয়ার খসরু পারভেজ।
অপরদিকে, ১০টি নির্বাহী সদস্য পদে একই প্যানেলে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ ইসমাইল হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রীথিলা নাজনীন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক লুত্ফর রহমান, ইংরেজি বিভাগের মোঃ মনিরুজ্জামান, আইবিএ’র মোঃ বখতিয়ার রানা, ফার্মেসি বিভাগের সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু, লোক প্রশাসন বিভাগের নুসরাত জাহান চৌধুরী জয়লাভ করে। অপরদিকে জাতীয়তাবাদী প্যানেলের সদস্য পদে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক সোহেল রানা জয়লাভ করেন। নির্বাচন শেষে ভোট গণনাকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মহড়া দেয়ায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয়তাবাদী প্যানেলের পরাজিত প্রার্থীরা। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না করে বর্তমান প্রশাসন নির্বাচন দিয়েছে এবং নির্বাচনের আগ মুহূর্তে অর্ধশতাধিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে; যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে।
প্রসঙ্গত, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বুয়েট : কোনো প্রকার দলীয় প্যানেল ছাড়াই বুয়েট শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদিন ২০৮ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক ড. আমিনুল হক পান ১০০ ভোট। অধ্যাপক ড. মোঃ আতাউর রহমান ১৭৩ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ১৬৭ ভোট।
বিজয়ী অন্যরা হলেন সহসভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মাসুদ, কোষাধ্যক্ষ মোঃ রিয়াজ উদ্দীন (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), যুগ্ম সম্পাদক ড. মোঃ শাকিল আখতার (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), পত্রিকা সম্পাদক ড. মোঃ মাহবুবুল আলম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), আপ্যায়ন সম্পাদক নুসায়ের মোহাম্মদ ইবনে হাসান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) এবং সদস্যের ছয়টি পদে ড. মোঃ আবদুল মতিন, ড. মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ড. খোন্দকার শাহরিয়ার ইসলাম, ড. সারওয়ার জাহান, ড. মোঃ শহিদুল আমিন, অধ্যাপক তাহমীদ মালিক আল হুসাইনী নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহুরুল হক। তিনি আমার দেশকে জানান, বুয়েটের নির্বাচনে ৪০৩ জন ভোটার ছিলেন। এর মধ্যে ৩৫০ জন ভোট দেন। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন বলে ড. জহুরুল হক উল্লেখ করেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?