Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৭ পৌষ ১৪১৬, ১৩ হররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিদায় ঘটনাবহুল ২০০৯

এম আবদুল্লাহ
ঝরা পল্লবের মতো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে আজ খসে পড়বে ২০০৯। মহাকালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে আরও একটি বছর। দু’বছরের জরুরি শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একটি নির্বাচিত সরকারের গণতান্ত্রিক শাসনের প্রথম বছরটি অনেক ঘটনা-অঘটনের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হতে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের সূর্যোদয়ের বছর হিসেবে দেখার প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হলেও জনমনে নানামুখী হতাশা ছড়িয়ে বিদায় নিতে হচ্ছে বছরটিকে। আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হবে নতুন বছরের যাত্রা। বিশ্বজুড়ে বরণ করা হবে শুভ নববর্ষ ২০১০কে। নতুন এ বছরকে বরণের মধ্য দিয়ে গেল বছরের আনন্দ-বেদন আর সুখ-দুঃখের একরাশ স্মৃতি বুকে নিয়ে বিদায় জানানো হবে ২০০৯কে। বছরটি হয়ে যাবে ইতিহাস। তবুও অবিস্মরণীয় অনেক ঘটনা ধারণ করায় বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতির জানালায় হয়তো বার বার হানা দেবে বছরটি।
বিদায়ী বছরটি অসাংবিধানিক শাসন অবসানের বছর। বছরের গোড়াতে ৬ জানুয়ারি বিদায় নেয় ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের জরুরি সরকার। দায়িত্ব গ্রহণ করে মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার। একরাশ আশায় বুক বাঁধে মানুষ। আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এনে ১০ টাকায় চাল খাওয়া ও বিনামূল্যে সার পাওয়ার অঙ্গীকারে আস্থা এনেছিল ১৫ কোটি মানুষ। কিন্তু বছর শেষে এসেও মানুষকে মোটা চাল খেতে হচ্ছে ২৭/২৮ টাকায়। মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময়ও চালের দাম একই পর্যায়ে ছিল। মাঝে ২০/২২ টাকায় নেমে এলেও এখন আবার চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম জরুরি আমলের সমান। এছাড়া মহাজোট সরকারের এই এক বছরে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা প্রকট রূপ নিয়েছে। বিনিয়োগে সৃষ্টি হয়েছে বন্ধ্যাত্ব। বিদেশি শ্রমবাজার সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। তবে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে। শিল্প-কারখানায় উত্পাদন কমেছে।
বিদায়ী ২০০৯ সালটি যুগ যুগ ধরে চিহ্নিত হয়ে আসবে বিডিআর ট্র্যাজেডির বছর হিসেবে। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ ঘটে। ৫৭ সেনা অফিসারসহ নিহত হন ৭৪ জন। ঘটনার নেপথ্য কারণ ও নায়করা আড়ালেই রয়ে গেছে বছর শেষেও। ঢাকার বাইরের কয়েকটি স্থানে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার শুরু হলেও পিলখানার মূল ঘটনার তদন্তই এখনও শেষ হয়নি।
গত বছর প্রধান দু’দলের কাউন্সিল ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। কাউন্সিলের মাধ্যমে দু’দলকেই ঢেলে সাজানো হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আইনি বাধ্যকতার কারণে দায়সারা গোছের কাউন্সিল করে। তবে ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। অনেক হেভিওয়েট নেতা দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ পড়েছেন। তাদের স্থান হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদে। এছাড়াও নতুন ও তরুণদের মধ্যে অনেকেই প্রেসিডিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
তুলনামূলকভাবে বিএনপির কাউন্সিল হয়েছে জাঁকজমক আয়োজনে। তৃণমূল থেকে কাউন্সিলর নির্বাচন করে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ৮ ডিসেম্বর। ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত কাউন্সিলটি চিহ্নিত হয় দলের ঘুরে দাঁড়ানোর টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে। সফল কাউন্সিলের পর এরই মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছে। তাতে চমক দিয়েছেন দলীয় চেয়ারপার্সন। নির্বাহী কমিটির কিছু পদেও নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তারেক রহমানকে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা ছিল কাউন্সিলের অন্যতম দিক।
বিগত বছরে সংবাদপত্র ও সাংবাদিক দলনের বিভিন্ন ঘটনাও আলোচিত বিষয় হিসেবে উঠে আসে। মহাজোট সরকার মিডিয়ার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বলে দাবি করলেও আচরণ করছে উল্টো। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে ১৭৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা, মামলা, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩ জন। সর্বশেষ দৈনিক আমার দেশ-এ ১৭ ডিসেম্বর ‘তৌফিক এলাহী ও জয়ের বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সম্পাদককে হুমকি, প্রতিবেদকের ওপর হামলা এবং গতকাল পর্যন্ত মোট ২১টি মামলা করা হয়েছে সরকারি দলের পক্ষ থেকে।
বিদায়ী বছরে সরকারের বড় অর্জন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় লাভ। এছাড়াও বিভিন্ন মামলার তদন্তে ব্যস্ত ছিল সরকার। তবে আজ সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে একটি বছরকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি মানুষ আশায় বুক বেঁধে আছে নতুন বছরে সরকার দেশকে সামনে এগিয়ে নেবে। জনজীবনে এনে দেবে স্বস্তি।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?