Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৭ পৌষ ১৪১৬, ১৩ হররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মালয়েশিয়ার কৃষিতে বিপ্লব ঘটাচ্ছেন বাংলাদেশীরা : পুকুরে মাছ, ক্ষেতে সবজি বড় আয়ের উত্স অনেকের

সৈয়দ মিজানুর রহমান, কুয়ালালামপুর থেকে
পুকুরে মাছ আর ক্ষেতে সবজি চাষ করে মালয়েশিয়ার কৃষিখাতে বড় ধরনের অবদান রাখছেন বাংলাদেশীরা। কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে যেমন নিজের আয়ের উত্স খুঁজে পেয়েছেন তারা, তেমনি মালয়েশিয়ার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে রাখছেন বড় ভূমিকা। মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া, কেমেরুন হাইল্যান্ড, পাহাং, পুচং, ইপোসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। কোনো খামারের মালিক একজন, আবার কোনোটির রয়েছে একাধিক উদ্যোক্তা।
সরেজমিন বেশ কয়েকটি কৃষি খামার ঘুরে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকার খামারিদের দিচ্ছেন সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিনা মূল্যে সার, সেচ ও কৃষি যন্ত্রাংশসহ নানা সুবিধা। নামমাত্র মূল্যে দীর্ঘমেয়াদে জমি লিজ নিয়ে বাংলাদেশীরা গড়ে তুলছেন কৃষি খামার।
সবজির মধ্যে লাউ, কুমড়া, পেঁপে, ঢেঁড়শ, শসা, বেগুন, বরবটি চাষ হচ্ছে বিস্তীর্ণ জমিনে। চাষ হচ্ছে পুঁইশাক, লাউশাক, লালশাক, পালং শাক, ধনিয়া, কাঁচামরিচ, টম্যাটো।
বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা পুকুরে চাষ করছেন নানা জাতের মাছ। পুকুরে কৈ মাছ, শিং মাছ, পাঙ্গাশ, আইড়, তেলাপিয়া, সরপুঁটি, শোল মাছ চাষ হচ্ছে। বড় বড় খামারে গাভী পালন করে দুধ থেকে আয় হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।
পুত্রজায়ার পাশে পুচং এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ে প্রবাসী বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের একাধিক কৃষি খামার। প্রায় ১৫ একর জমিতে একটি খামার গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশী ৩ যুবক। ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার একেএম ফজলুল হক, সাভারের নূর মোহাম্মদ ও একই এলাকার মানিক হোসেন— এই তিন উদ্যোক্তার কৃষি খামারে চাষ হচ্ছে সব ধরনের শাক-সবজি ও মাছ।
‘বাংলা খামার’ নামের এই কৃষি ফার্মের চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক আমার দেশকে জানান, প্রায় একযুগ আগে মালয়েশিয়ায় আসেন তিনি। এই সময়ে বিভিন্ন ব্যবসা করেছেন। সব শেষে তাদের ব্যবসায় যোগ হয়েছে কৃষি খামার। তিনি জানান, কৃষিপণ্যে ৮০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে থাকে মালয়েশিয়া সরকার। সার, সেচ, কৃষি যন্ত্রাংশ সবকিছুই সস্তা। খামার করতে জমি দিতেও কোনো কার্পণ্য নেই সরকারের। যে কোনো উদ্যোক্তা জমি লিজ নিয়ে চালু করতে পারেন কৃষি খামার।
‘বাংলাদেশে কি কখনও এরকম খামার ছিল? সেখানে না করে মালয়েশিয়ায় কেন এ ধরনের উদ্যোগ?’ প্রশ্ন করা হলে বাংলা খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানিক হোসেন বলেন, আমরা এ প্রকল্প হাতে নেয়ার মাত্র ১ মাসের মধ্যেই সরকারের কাছ থেকে জমি লিজ পেয়েছি। ২ মাসের মাথায় একটি ব্যাংক মোটা অঙ্কের কৃষিঋণ দিয়েছে। জমি লিজ নিয়ে পুকুর কাটা থেকে শুরু করে বর্তমানে কৃষিপণ্য ও মাছ বিক্রি পর্যন্ত কাউকে কোনো ঘুষ বা চাঁদা দিতে হয়নি। পুকুরের মাছ বিষ দিয়ে মেরে ফেলার কোনো ভয়ও এখানে নেই। এসব সুবিধা তো আর বাংলাদেশে পেতাম না। এ খামারে কাজ করছে ২০ জন শ্রমিক। এরা সবাই বাংলাদেশী। খামারের কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, ৩ মাস আগে তিনি অন্য চাকরি ছেড়ে এখানে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বেতন পাচ্ছেন ৪৫ হাজার টাকা। তবে তিনি নিজে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত নন। বাংলাদেশে কৃষি বিষয়ে ৬ মাসের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স করেই এখানে কাজ করছেন এখন।
জানা গেছে, খামার থেকে প্রতিকেজি পুঁইশাক বিক্রি হয় পাইকারি ৬০ টাকা, লালশাক ৬৩ টাকা, ঢেঁড়শ ৭০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, বরবটি ৫৫ টাকা, ধনেপাতা ২১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা দরে।
খামারিরা পুকুরের মাছ বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন। খামার থেকে কৈ মাছ বিক্রি হয় ২২০ টাকা, সরপুঁটি ১২০ টাকা, কাতল ৩০০ টাকা, শোল আড়াইশ’ টাকা ও পাঙ্গাশ বিক্রি হয় ১১০ টাকা কেজি দরে।
পুত্রজায়ার পার্শ্ববর্তী এলাকা ইপোয় গিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশী মালিকানাধীন একাধিক গরুর খামার। প্রবাসী বাংলাদেশী দুলাল মিয়া ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তুলেছেন এই খামার। বর্তমানে ৭০টি গরু আছে এ খামারে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি গাভী। প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকার দুধ বিক্রি হয় এ খামার থেকে। পাইকারি প্রতি লিটার দুধের দাম এখানে ৪ রিংগিত বা বাংলাদেশী ৮০ টাকা।
সবুজ বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা কৃষি খামারগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকরা কাজ করেন পরম মমতার পরিচর্যা দিয়ে। বিদেশের মাটিতে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি দেশীয় শাক-সজির বাজার তৈরি করতে পারায় খুশি শ্রমিকরা। উদ্যোক্তারা জানান, দেশীয় ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার কৃষিতে অবদান রাখতেই নেয়া হয়েছে এ উদ্যোগ।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?