Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৭ পৌষ ১৪১৬, ১৩ হররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ক্রসফায়ার : কে সত্য বলছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না র্যাবের মহাপরিচালক

ফকরুল আলম কাঞ্চন/শামসুস সালেহীন
কে সত্য কথা বলছেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নাকি র্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার। সরকারের পুলিশমন্ত্রী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিকবার জোর দিয়ে বলছেন, দেশে কোনো ক্রসফায়ার হচ্ছে না। মন্ত্রী আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, তার সরকার ক্রসফায়ার সমর্থন করে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে কোনো ক্রসফায়ারই হয়নি। অথচ মন্ত্রী একথা বলার কয়েক দিন পরেই র্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, গত এক বছরে র্যাবের ক্রসফায়ারে ৬০ জন প্রাণ হারিয়েছে।
র্যাবের ডিজির এই সত্য ভাষণের পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে। যেখানে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে, মিডিয়ায় তার সচিত্র সংবাদও প্রচারিত হচ্ছে; অথচ খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবকিছু অস্বীকার করে জোর গলায় বলছেন, দেশে ক্রসফায়ার বলতে কিছুই নেই। দেশের সর্বোচ্চ আদালতও ক্রসফায়ারকে কেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে গণ্য করা হবে না তা জানতে চেয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করেছেন।
গত ১৩ নভেম্বর মাদারীপুরের শিরখারা ইউনিয়নে সর্বহারা সদস্য দুই ভাই লুত্ফর খালাসী ও খায়রুল খালাসীকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতারের পর লুত্ফর খালাসীর ছেলে বাবলু খালাসী ঢাকা ও মাদারীপুরে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে আশঙ্কা প্রকাশ করে তার বাবা ও চাচাকে ক্রসফায়ারে দেয়া হতে পারে। ঢাকায় যেদিন সংবাদ সম্মেলন করা হয় ওইদিন রাতেই অর্থাত্ ১৬ নভেম্বর দুই ভাইকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়। এ ঘটনার পরের দিনই আদালত সুয়োমোটো রুল জারি করেন। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে সরকার ও র্যাবের কাছে জানতে চান, দুই সহোদরের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, র্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ৪ জনকে ওই রুলের জবাব দিতে বলেন। বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান ও বিচারপতি ইমদাদুল হক আজাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। আদালত ১৪ ডিসেম্বর শুনানিতে বলেন, আদালত সুয়োমোটো রুল জারি করার পরও ১১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এরপর আদালত ৯ জানুয়ারি শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত যেখানে স্বপ্রণোদিত হয়ে ক্রসফায়ারকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছেন, সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রসফায়ারের কথা স্বীকারই করছেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেই যাচ্ছেন, ক্রসফায়ার হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন গত ১৭ নভেম্বর বলেছেন, ‘আমাদের সরকার আসার পর দেশে কোনো ক্রসফায়ার হয়নি। আমরা কোনো ক্রসফায়ার করছি না।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃংখলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এর কয়েক দিন পর গত ২৬ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিতীয় দফায় জোর দিয়ে বললেন, ‘ক্রসফায়ার বলে দেশে কিছু নেই। ক্রসফায়ার এখন হচ্ছে না, কখনও হবে না। তার সরকার ক্রসফায়ার সমর্থন করে না।’ রাজধানীর মাইলস্টোন কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রীর কথার রেশ না কাটতেই গত মঙ্গলবার র্যাবের ডিজি হাসান মাহমুদ খন্দকার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, প্রতিমাসে গড়ে ৫ জন ক্রসফায়ারে নিহত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সংখ্যা অস্বাভাবিক নয়। গত এক বছরে র্যাবের ৫৭টি ক্রসফায়ারের ঘটনায় ৬০ জন নিহত হয়েছে। র্যাবের ডিজি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা কমে আসছে। যেখানে র্যাবের মতো একটি এলিট ফোর্সের মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলন করে মিডিয়াকে বলেছেন, ক্রসফায়ার হচ্ছে; সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কীভাবে ক্রসফায়ারের সব ঘটনার কথা অস্বীকার করে সাফ বলছেন, দেশে কোনো ক্রসফায়ার হয়নি। র্যাবের সরকারি পরিসংখ্যান ৬০ জন হলেও পুলিশের হাতে ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। র্যাবের মতো পুলিশের ক্রসফায়ারের সংখ্যাও কম নয়।
বর্তমান সরকার বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও ক্রসফায়ার বন্ধের অঙ্গীকারের কথা রয়েছে। কিন্তু মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সব অঙ্গীকার যেন বেমালুম ভুলে গেছেন। র্যাব-পুলিশের ক্রসফায়ার চলছে সমানতালে। সর্বোচ্চ আদালতের সুয়োমোটো রুল, সুশীল সমাজের মতামত এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনের বিরোধিতা সত্ত্বেও ক্রসফায়ার বন্ধ হচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে নানা অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেও ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রসফায়ারকে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?