মামুনুল জেতালেন মোহামেডানকে
স্পোর্টস রিপোর্টার
ম্যাচের বয়স তখন ১০ মিনিট। বাঁ প্রান্তের পাশবন মোল্লার কর্নারে আনিসুর আলম সুইটের বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শটটি মোহামেডানের গোলরক্ষক আমিনুল হক রুখতে পারেননি। বল গোললাইন অতিক্রমের পরে আমিনুল ডাইভ দিয়েছিলেন। এই অবস্থায় রহমতগঞ্জের গোলের উল্লাস থামিয়ে দেন সহকারী রেফারি মাহবুবুর রহমান। অফসাইডের কারণে গোল বাতিলের পরে আর কোনো বলই সাদা-কালো জার্সির জালে আশ্রয় নেয়নি। ৩৫ মিনিটে মোহামেডান জয়সূচক গোলটি করে টানা ষষ্ঠ জয় নিশ্চিত করেছে। গোলদাতা হলেন মামুনুল ইসলাম। কমলাপুর স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জের গোলটি বাতিল নিয়ে শোরগোল কম হয়নি। প্রেসবক্স থেকে যতদূর বোঝা গিয়েছিল সুইটের দেয়া গোলটির সময় অফসাইড হয়নি। সতীর্থ ইদ্রিস কাসুরি বলের পজিশন থেকে দূরে থাকলেও কেন গোল বাতিল হলো বোধগম্য হয়নি। গোল কেন বাতিল হলো? এ নিয়ে ওজর-আপত্তি চলল ৫ মিনিটের মতো। শেষ পর্যন্ত রহমতগঞ্জের খেলোয়াড়রা ম্যাচে ফিরে আসেন। সহকারী রেফারি মাহবুবুর রহমান পতাকা উঁচিয়ে গোল বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘গোলরক্ষকের দৃষ্টির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে ভিশন অফসাইড হয়েছে।’ আর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ‘বিতর্কিত’ এই রেফারি মাঠ ছেড়ে যান। ম্যাচে মূল রেফারি তৈয়ব হাসানও সতীর্থকে সমর্থন করে মাঠ ছাড়েন। কিন্তু ম্যাচশেষে রহমতগঞ্জ শিবির নিজেদের গোল নিয়েই পরিতাপ করল। ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক সালাউদ্দিন কালা বললেন, ‘রেফারি গোলের চূড়ান্ত বাঁশি দেয়ার পরিবর্তে বাতিল করলেন। এটা আমাদের যথার্থ গোল ছিল। আমরা দুর্বল রেফারিংয়ের শিকার হলাম।’ ক্লাব কর্মকর্তা টিপু সুলতান বললেন, ‘বাফুফের কাছে এ ম্যাচ নিয়ে অভিযোগ করার চিন্তা-ভাবনা করছি। পরিষ্কার গোলটি রেফারি আমাদের দিল না।’ নিয়মিত কোচ মীর ফারুক আগের ম্যাচে মনোমালিন্যের কারণে কাল মাঠেই আসেননি। যদিও বলা হচ্ছে তিনি ‘অসুস্থ’। গুঞ্জন উঠেছে কামাল বাবু ও জসিম উদ্দিন জোসির পথে রয়েছেন এ বর্ষীয়ান কোচ। পাঁচ ম্যাচে একটি মাত্র পয়েন্ট রহমতগঞ্জের। মোহামেডানের বিপক্ষে শুরুটা তাদের খারাপ ছিল না। প্রথমার্ধে গোল বাতিলের সঙ্গে দু’দলের ফাউল করে খেলা চোখে পড়েছে। ৩৫ মিনিটে মামুনুলের বক্সের ভেতরে ক্রসটি ড্রপ খেয়ে গোলরক্ষক হিমেলের দৃষ্টি ফাঁকি দিয়ে পোস্টে আশ্রয় নেয়। মামুনুলের ক্রসে এমিলি হেড করার চেষ্টা চালিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের নিজের দিকে দৃষ্টি নিয়ে আসেন। তিনি হেড করতে না পারলেও বল ঠিকই ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে মোহামেডান পরিকল্পিত ফুটবল উপহার দিয়ে গোল ব্যবধান বাড়ানোর দিকে জোর দেয়। মামুনুল, এমিলি ও কোমলরা মিলে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ভালো ধাক্কা দিয়েছিলেন। ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। বদলি হিসেবে নেমে জাহিদ তেমন কিছু করতে পারেননি। মামুনুলের প্রথম শটটি গোলরক্ষক হিমেল পাঞ্চ করেন। পরেরটি বার উঁচিয়ে যায়। এমিলির দুটি সুযোগও বারের ওপর দিয়ে যায়। কোচ মারুফুল হক বললেন, ‘ওদের গোলটি আসলেই অফসাইড ছিল। নানা কারণে খেলোয়াড়রা ভালো খেলতে পারছে না। এর মধ্যে মাঠ সমস্যা অন্যতম। এই মাঠে ভালো ফুটবল খেলা কঠিন।’ ৬ ম্যাচে পূর্ণ ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা আবাহনীর সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে চলে এলো মতিঝিলের দলটি।
-
খেলাধুলা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


