Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৭ পৌষ ১৪১৬, ১৩ হররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

প্রসঙ্গ : ক্রিকেট সঙ্কট : প্রথম রাউন্ডে বিসিবির হার!

স্পোর্টস রিপোর্টার
লড়াইয়ের প্রথম রাউন্ড শেষ হলো কাল।
—লড়াই, কিসের লড়াই?
কেন—বিসিবি বনাম কোয়াব!
আপাতত এই রাউন্ডে বিসিবি হারল। গতকালের মধ্যে জাতীয় লীগের ছয় দলের ক্রিকেটারদের অনুশীলনে নামার জন্য চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল বিসিবি। কাল রাতে নিশ্চিত তথ্য মিলেছে—বিসিবির এই আলটিমেটাম মোটেও পাত্তা দেননি ক্রিকেটাররা। ছয় বিভাগীয় দলের কোনো দলই মাঠে আসেনি অনুশীলনের জন্য। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নির্দেশিত পথেই এখনও আছেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় লীগ থেকে বিরত থাকার কোয়াবের প্রেসক্রিপশন এখনও মেনে চলছেন ক্রিকেটাররা।
প্রথম রাউন্ডের এই লড়াইয়ে হারের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করে ফেলেছে বিসিবি। আজ সকালে মিরপুরে ক্রিকেট বোর্ডের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই জাতীয় ক্রিকেট লীগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে চারধারের যা পরিস্থিতি তাতে এই মুহূর্তে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে এই সমস্যা সমাধানের উপায় আপাতত তিনটি।
প্রথমত, সব অভিমান ও ইগো ভুলে কোয়াবের সঙ্গে আলোচনায় বসা। ধারণা করা হচ্ছে আলোচনায় বসলেই এই সঙ্কটের সমাধান সম্ভব। দ্বিতীয়ত, বিদ্রোহী ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে নতুন দল নিয়ে জাতীয় লীগ শুরু করা। এই প্রস্তাবের পক্ষেও অনেকে তাদের মতামত দিয়েছেন। তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত যদি ক্রিকেট বোর্ড নেয় তাহলে সেটা ভালোর চেয়ে মন্দের কারণই বেশি হবে।
তৃতীয়ত, এবারের জাতীয় লীগ বাতিল করে দেয়া।
ক্রিকেটের চলতি সঙ্কট নিরসনে আজ বিসিবির পরিচালকরা ওপরের এই তিন সিদ্ধান্তের কোনটি নেন তার পুরোটা নির্ভর করছে তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং নেতৃত্বসুলভ দৃঢ়তার ওপর।
অফস্টাম্পের বাইরের বল বিসিবি খেলবে নাকি ছেড়ে দেবে—সিদ্ধান্তটা তাদেরই! না খেললে রান হবে না। আর খেললে উইকেটের পেছনে ক্যাচ হওয়ার আশঙ্কা থাকছে!
তবে বিসিবির সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ের প্রথম রাউন্ডে জিতে কোয়াবও কিন্তু খুশি নয়। কাল কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল জানালেন, ‘এখানে জয়-পরাজয়ের কোনো বিষয় নয়। আমরা ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি। বোর্ডের সঙ্গে বসতে চেয়েছি। আমাদের বিশ্বাস এখনও সময় আছে। আমরা আলোচনায় বসলে এই সঙ্কটের সমাধান সম্ভব। সেই সঙ্গে আমরা এটাও বিশ্বাস করি, আমরা যে প্রস্তাবনাগুলো দিয়েছি সেটা খুবই যৌক্তিক।’
জাতীয় লীগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী বিভাগীয় দলের অধিনায়ক খালেদ মাসুদও কাল দৈনিক আমার দেশকে জানান, ‘আমি ঢাকায় ছিলাম না। রাজশাহী গিয়েছিলাম আমার স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। আজই ঢাকায় ফিরলাম। যেহেতু কোয়াব আমাদের অনুশীলনে নামতে মানা করেছে তাই আমরা সেই সিদ্ধান্তে অটল আছি। কোয়াব তো ক্রিকেটারদেরই সংগঠন। ক্রিকেটাররাই ঠিক করে দিয়েছে বিসিবিতে কোয়াবের কাউন্সিলর কে হবে। তাই ক্রিকেটাররা যদি এখন কোয়াবের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে তবে সেখানে দোষের কিছু নেই। তাছাড়া কোয়াবের দাবিগুলোও অযৌক্তিক কিছু নয়। ঢাকা লীগ শেষ হওয়ার পর অনেক ক্রিকেটার ইনজুরিতে আছে। তাই কিছুদিন বিশ্রাম চেয়েছিল ক্রিকেটাররা। সেজন্যই লীগ ১ জানুয়ারির বদলে কয়েকদিন পিছিয়ে দিতে বলা হয়েছিল।’ কোয়াবের সঙ্গে বোর্ড আলোচনায় বসলেই এই সঙ্কট এতদূর গড়াত না বলে বিশ্বাস করেন মাসুদ। তবে বিসিবি যদি বিকল্প ক্রিকেটারদের দিয়ে জোর করে এবারের জাতীয় লীগ করতে চায় সেটাও খুব বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু হবে না বলে মত মাসুদের, ‘চাচা, মামা, ভাগ্নে দিয়ে একটা দলের মতো হয়তো ঠিকই দাঁড় করানো যাবে কিন্তু সেটা কেমন মানসম্মত হবে সেটাও বড় বিবেচ্য। ছয় দলের ১৫ জন করে লীগের শীর্ষ ৯০ ক্রিকেটার যদি জাতীয় লীগে না খেলেন তবে সেটা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের জন্য মোটেও কোনো সুখবর নয়। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট একটা দেশের জন্য অনেক বড় মর্যাদার ব্যাপার। এটা নিয়ে হেলাফেলা করা মোটেও উচিত হবে না।’
এদিকে ঢাকা বিভাগীয় দলের এক কর্মকতা কাল রাতে জানান, ‘আজ যে অনুশীলনে কেউ আসেনি সেটা বোর্ডে লিপু ভাইকে জানিয়েছি। যদি বিকল্প ক্রিকেটার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত আসে তবে সেভাবে মাঠে নামতেও আমরা তৈরি আছি।’
দেখা যাক বিসিবি আজ কি সিদ্ধান্ত নেয়।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?