মুহম্মদ বিন কাসিম
সিন্ধু বিজেতা মুহম্মদ বিন কাসিম ৬৯৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তায়েফে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সিন্ধু বিজয় করে তিনি এ অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন। খুব অল্প বয়সেই তিনি পিতা কাসিম বিন ইউসুফকে হারান। এ অবস্থায় তার শিক্ষাদীক্ষার দায়িত্ব নেন তার মা। তবে চাচা উমাইয়া শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে তিনি যুদ্ধবিদ্যা এবং প্রশাসন বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন। চাচাতো বোন জুবায়দাহেক তিনি বিয়ে করেন। হাজ্জাজের পৃষ্ঠপোষকতায় কাসিম পার্সিয়ার গভর্নর নিযুক্ত হন এবং বিদ্রোহ দমনে দক্ষতার পরিচয় দেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি উমাইয়া খলিফা ১ম আল ওয়ালিদ কর্তৃক সিন্ধুর দেবল (বর্তমান করাচি) বন্দরে প্রেরিত হন অপহৃত নারী ও শিশুদের উদ্ধারে। এটা ছিল বিন কাসিমের নেতৃত্বে ৩য় ও চূড়ান্ত অভিযান। কথিত আছে যে, বাগদাদে যাওয়ার প্রাক্কালে মুসলিম বণিকদের মালামাল ও স্ত্রী-সন্তানরা দেবল বন্দরে জলদস্যু কর্তৃক লুণ্ঠিত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে খলিফা ওয়ালিদ সিন্ধুরাজ দাহিরের কাছে চিঠি লিখে তাদের মুক্তির জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু দাহির খলিফার কথায় কর্ণপাত করেননি। এ অবস্থায় খলিফা ক্ষুব্ধ হয়ে মুহম্মদ বিন কাসিমকে অভিযানে প্রেরণ করেন। প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর দাহির কাসিমের কাছে পরাজিত হন। ৭১৫ সালের ১৮ জুলাই তরুণ বীর কাসিম ইন্তেকাল করেন। তবে তার মৃত্যু নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বলা হয়, দাহিরের পতনের পর তার দুই কন্যা কাসিম কর্তৃক আটক হন ও খলিফার হারেমে প্রেরিত হন। খলিফার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দাহিরকন্যাদ্বয় কৌশলের আশ্রয় নেয়। কাসিমের বিরুদ্ধে খলিফার কাছে তারা নালিশ করে, খলিফার কাছে পাঠানোর আগে কাসিম তাদের নষ্ট করে। খলিফা দাহির কন্যাদ্বয়ের কথায় প্রভাবিত হয়ে গরুর চামড়ায় পুরে কাসিমকে সিরিয়ায় পাঠানোর নির্দেশ দেন। পথিমধ্যে কাসিম শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। —ইমরান রহমান
-
ফিরে দেখা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


