Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৭ পৌষ ১৪১৬, ১৩ হররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বাল্যবিয়ে এখনও অভিশাপ

বহু ঘটনার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে ও নবজাতকের মৃত্যু ২০০৯ সালে ছিল আলোচনায়। বাল্যবিয়ের কারণে একদিকে বেড়েছে কিশোরী মায়ের সংখ্যা, সেই সঙ্গে বেড়েছে শিশু মৃত্যু।
বিশ্বের যে ক’টি দেশে বাল্যবিয়ের হার বেশি, এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, যৌতুকের চাহিদার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এর মূল কারণ বলে মনে করেন অনেক অবিভাবক।
বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেল্থ সার্ভে (২০০৭)-এ মেয়েদের গড় বিয়ের বয়স দেখানো হয়েছে ১৫ বছর। অপরদিকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (নিপোর্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী : বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই ৬৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়। গত দুই দশক ধরে এই হার অপরিবর্তিত আছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ ‘প্রগতির পথে’র তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চল এবং বরেন্দ্র এলাকায় ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের ৭৪ শতাংশেরই ১৮ বছর হওয়ার আগে বিয়ে হয়েছে। তাদের ভাষ্য মতে, দারিদ্র্য, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, পরিবারের সম্মান রক্ষার দায়—এসবই বাল্যবিয়ের মূল কারণ।
গর্ভ ও প্রসবজনিত কারণে বাংলাদেশে যে পরিমাণ প্রাপ্তবয়স্ক মায়ের মৃত্যু হয়, তার দ্বিগুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে কিশোরী মায়েদের বেলায়। বিশেষ করে ১৪ বছরের কম বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া কিশোরীদের প্রসবকালীন মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। মার্চ ২০০৯-এ প্রকাশিত বিডিএইচএস ২০০৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাল্যবিয়ের কারণে কিশোরী মা ও সদ্যজাত শিশুর মৃত্যুহার বেড়েই চলেছে।
এভাবে বাল্যবিয়ে চলতে থাকলে জাতি কখনও পূর্ণ মেধাবী নাগরিক পাবে না বলে মন্তব্য অনেকের। তাছাড়া অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার ফলে সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে নারীর পৃথিবী। অভিভাবক, সমাজ, সরকার যদি সচেতন ও কঠোর না হয় তাহলে বাল্যবিয়ে চলতেই থাকবে বছরের পর বছর, যা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের কারণই হবে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?