Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে পাচ্ছি না : খাদ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
পিপিআরসি আয়োজিত পলিসি সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বিগত চার বছর বাংলাদেশে চালের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে কম। তাই আমদানি করে দেশের খাদ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মূল্য নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বৃদ্ধি। এ জন্য কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গের সঙ্গে উদ্বাস্তু আতঙ্ক উপকূলের কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে। দেশের দক্ষিণাংশে মঙ্গা চলছে বলে সেমিনারে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল আগারগাঁওয়ের এলজিইডি মিলনায়তনে ‘ফুড প্রাইস ইনফ্লাশন : ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড রেসপন্স’ শীর্ষক এ সেমিনারে খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি এবং সাবেক উপদেষ্টা ড. সিএস করিম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পিপিআরসি নির্বাহী সভাপতি ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্যানেল আলোচক ছিলেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক ড. উত্তম কুমার দেব, বার্ক-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ওয়াইজ কবীর, বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. কেএএস মুর্শিদ, ইআরজি পরিচালক ড. সাজ্জাদ জহির, মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও হুমায়রা আজিজ। আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, ড. শহীদুল ইসলাম, আহসান হাবিব মনসুর প্রমুখ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিপিআরসি’র গবেষক লিয়াকত আলী চৌধুরী।
খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দেশে খাদ্য উত্পাদন এখন আশাব্যঞ্জক। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের তুলনায় এখন তিনগুণ চাল উত্পাদন হচ্ছে। কিন্তু কৃষককে কীভাবে ন্যায্য মূল্য দেয়া যায় সে কৌশল এখনও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই কৃষকের কথা বলেন, কিন্তু কেউ সঠিক পদ্ধতি বলতে পারছেন না। তবে সরকার যদি চালের মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ না করত, তাহলে প্রতি কেজি ১০ টাকায় বিক্রি হতো। কৃষকের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে চালের মূল্য আর বাড়বে না। বাড়তে দেখলে টিআর, কাবিখা এবং ওএসএম কর্মসূচির মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তিনি অভ্যন্তরীণ খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য কোস্টাল, হিল ও হাওর অঞ্চলের কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন। তিনি আরও সাড়ে ৭ লাখ টনের খাদ্য গুদাম তৈরিতে সরকারি পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, বেসরকারি খাতে গুদাম তৈরিতে কম সুদে ঋণ দেয়া হবে।
সাবেক উপদেষ্টা ড. সিএস করিম বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কাছাকাছি। এ জন্য উত্পাদনের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে। গুদাম সুবিধা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, কৃষি এবং উত্পাদনই হচ্ছে আমাদের মূল নিরাপত্তার জায়গা। তাই কৃষককে ঠকিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ উচিত নয়। ২০০৭-০৮ সালে দেশে খাদ্য সঙ্কট ছিল না উল্লেখ করে সাবেক কৃষি উপদেষ্টা বলেন, তখন জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ছিল না। এ জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়ও বাড়াতে হবে।
পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, খাদ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে উপকূলে উদ্বাস্তু আতঙ্ক ছড়িয়ে কৃষককে হতাশ করা হচ্ছে। কিন্তু উপকূল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা কেবল গবেষণার কথা। এটা কৃষকদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। এখন বরং কৃষককে পরিবর্তন উপযোগী কৃষিতে সমর্থন যোগাতে ড. জিল্লুর বলেন, ২০০৭-০৮ সালে দেশে চালের মূল্য ছিল আন্তর্জাতিক বাজারের ৬০/৭০ ভাগ। এ সময় কৃষকই লাভবান হয়েছে। তিনি দারিদ্র্য বিমোচনকে প্রধান কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলই হচ্ছে এখন দারিদ্র্যের ঘাঁটি।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, খাদ্য উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই হচ্ছে খাদ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের পথ। খাদ্যে সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরতা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ড. উত্তম কুমার দেব বলেন, ২০০৬ সাল থেকেই দেশের বাজার থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের মূল্য বেশি। তাই আমদানি করে খাদ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা জনগণকে খাওয়ানো সম্ভব নয়। প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বৃদ্ধি। তিনি বলেন, বিশ্বে চাল উত্পাদন এ বছর তিন ভাগ কমবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ খাতে জটিলতা আরও বাড়বে। তাই বোরো উত্পাদন বাড়াতে হবে।
ড. সাজ্জাদ জহির বলেন, নব্বই দশক থেকে দেশের চালের দাম ওঠানামা করেছে ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। তখন চালের মূল্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে বিডিআর শপ খোলা হয়েছে। আর বাজার মূল্য দেখে বিডিআর শপের মূল্য ঠিক করা হতো কেন তা উদঘাটন করা দরকার। রুহুল আমিন বলেন, বন্যা-সিডরের কারণে দেশে চালের মূল্য বাড়েনি, মূল্য বেড়েছে ভুল পলিসির কারণে। তখন খাদ্য বিভাগকে কাজে না লাগিয়ে বিডিআরকে দিয়ে খাদ্য আমদানি করানো হয়েছে। দাম ঠিক রাখতে খাদ্য গুদাম জরুরি বলে মনে করেন তিনি। ড. ওয়াইজ কবীর বলেন, দেশে ৮ থেকে ১০ ভাগ খাদ্য আমদানি করতে হয়। সেমিনারে আগামী বোরো মৌসুমে কৃষির প্রতি তীক্ষষ্ট নজর রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?