Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জাতীয় প্রেসক্লাবের অতিরিক্ত সাধারণ সভা : সংবাদপত্র দলন ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় প্রেসক্লাবের অতিরিক্ত সাধারণ সভায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা, পেশাগত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে। সভায় দৈনিক আমার দেশসহ সংবাদপত্র দলন এবং সাংবাদিক নিপীড়নের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সভার প্রস্তাবে ১৯৭৪ সালের নিউজ পেপার এমপ্লয়িজ কন্ডিশনস অ্যাক্ট পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
গতকাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতেই গত ১ বছরে ক্লাবের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।
সভায় সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ ও কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট পেশ করেন সৈয়দ আবদাল আহমদ। সভায় রিপোর্টের ওপর ২৬ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নেন।
সভায় সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ সংবাদ মাধ্যমের ওপর আক্রমণে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত এক বছরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ২২৯টি। এর মধ্যে ৩ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে যখন দুর্যোগ আসে, তখন পেশার প্রয়োজনেই সাংবাদিকরা সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু সেবাধর্মী পেশাটি বহুমুখী আক্রমণের শিকার। গণতন্ত্র চর্চার প্রাণকেন্দ্র গণমাধ্যম। কিন্তু সাংবাদিকরা শান্তিতে ঘুমাতে পারেন না। কাগজে-কলমে সংবাদপত্র স্বাধীন, বাস্তবে প্রবল হুমকির লক্ষ্যস্থল এখন গণমাধ্যম। তিনি বলেন, দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রাণনাশের হুমকি, আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এম আবদুল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিকরা শঙ্কিত। এ ধরনের আক্রমণ ও হুমকি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সভাপতির বক্তৃতায় শওকত মাহমুদ বলেন, বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের ওপর হুমকি-হামলা থেমে নেই। সাংবাদিকরা ব্যাপক হারে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রকাশিত কোনো সংবাদ বিরুদ্ধে গেলে সংশ্লিষ্টরা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছেন। তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ সৃষ্টিতে সবাই সহযোগিতা করবে।
সাধারণ আলোচনায় বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী দেশব্যাপী সাংবাদিক নির্যাতনে উদ্বেগ প্রকাশ করে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের আহ্বান জানান। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের উন্নয়নে শহীদ জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন। সভায় বক্তারা জাতীয় প্রেসক্লাবকে সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসক্লাবকে সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানান। আলোচনায় অংশ নেন প্রেসক্লাব সদস্য রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, রুহুল আমীন গাজী, আমানুল্লাহ কবীর, জিয়াউল হক, এম শাহজাহান মিয়া, আলহাজ জহিরুল হক, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, জাহিদুজ্জামান ফারুক, কবি মাহমুদ শফিক, আবদুস শহিদ, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, কবি আবদুল হাই শিকদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, শেখ এনামুল হক, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, শেখ রকিব উদ্দিন, মীর লুত্ফুল কবীর সাদী, সৈয়দ লুত্ফুল হক, একেএম মহসিন, সদরুল হাসান, রোজী ফেরদৌস, শাহীন চৌধুরী, আসাদুজ্জামান আসাদ, দেলোয়ার হাসান, খায়রুজ্জামান কামাল প্রমুখ। প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য এবিএম মূসা ও আতাউস সামাদ বাংলা একাডেমীর ফেলো নির্বাচিত হওয়ায় অনুষ্ঠানে তাদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। সভায় সরকার ঘোষিত বিশেষ দিবসে পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিষয়টিও আলোচনা হয়।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?