বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে না মালয়েশিয়া
সাইফ ইসলাম দিলাল
বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে যাচ্ছে। সেখানকার শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের সব কূটনৈতিক তত্পরতা নাকচ করে তারা জানিয়ে দিয়েছে, সহসাই সেখানে বাংলাদেশের লোক নেয়ার অনুমতি দেয়া হবে না। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, ব্রুনাই, ওমান, মরিশাসে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের আকামা পরিবর্তনের সুযোগ দিলেও বাংলাদেশী শ্রমিকদের তা দেয়া হয়নি। এতে আকামাজনিত সমস্যার কারণে লক্ষাধিক শ্রমিক সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। গত এপ্রিলে সৌদি আরব সফরকালে দেশটির বাদশাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশী শ্রমিকদের আকামা নবায়ন করা হবে। কিন্তু ৮ মাস পরও সৌদি বাদশাহর সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন ঘটেনি।
এদিকে বিভিন্ন দেশে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ থাকার কারণে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৮৫ শতাংশ ব্যবসায়ীর কোনো কাজ নেই। অনেক কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেননি। জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার নির্বাহী কমিটির সদস্য ফোরকানউদ্দিন বলেন, এখন ৮৫ শতাংশ ব্যবসায়ী বেকার। বেতন দিতে না পারার কারণে অনেকে অফিসে যেতে পারছেন না। লাইসেন্স নবায়ন করতে ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ টাকা যোগাড় করতে না পারায় অনেকে লাইসেন্স নবায়নও করতে পারছেন না। সরকার যদি তত্পর হতো হয়তো এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রফতানির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়টি অনিশ্চিত। আমরা এখনও বুঝতে পারছি না কি হতে যাচ্ছে। স্থগিত হয়ে যাওয়া ৫৫ হাজার ভিসা চালু হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য নতুন করে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে কি-না সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। তবে না হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগও তেমন একটা চোখে পড়ছে না। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনো সুফল পাইনি।
গত নভেম্বরে পোর্ট অব স্পেনে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি নাজিব তুন রাজাককে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অনুরোধ জানান। কিন্তু মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাতে ইতিবাচক সাড়া দেননি।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা এবং বার্তা সংস্থাগুলো দাবি করেছে প্রতারণার মাধ্যমে বেশি টাকায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রফতানির কারণে সৃষ্ট নানা সমস্যার জন্য বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দায়ী। আর এ কারণেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া।
গত ৩ ডিসেম্বর মালয় মেইলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে আর কোনো শ্রমিক নেবে না। পত্রিকাটি আরও লিখেছে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্টদের জন্য সবচেয়ে বেশি লাভজনক। কিন্তু তারাই আবার মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করে।
১৯৯৯ সালেও মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশী শ্রমিক না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা পাল্টায়। এরপর ২০০৭ সালেও একইরকম সিদ্ধান্ত নেয়। সর্বশেষ একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলতি বছর।
মালয়েশিয়ার এ সিদ্ধান্ত জানার পর বাংলাদেশ কূটনৈতিক পর্যায়ে নানা তত্পরতা শুরু করে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মালয়েশিয়া যান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য মালয়েশিয়াকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তারপরও মালয়েশিয়ার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
আগামী দু’তিন বছরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল। এ ঘোষণার অংশ হিসেবে চলতি বছর ৫৫ হাজার বাংলাদেশী কর্মীর নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু এ নিয়ে জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং হাইকমিশনের সময়োচিত পদক্ষেপের অভাবে শেষপর্যন্ত মালয়েশিয়া শ্রমিক নিয়োগ স্থগিত করে।
জানা গেছে, দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ী ও কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গড়ে ওঠা দালাল চক্রের কারণে বাংলাদেশী শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একদিকে চাকরি না পেয়ে শ্রমিকরা হাইকমিশনে আশ্রয় নিচ্ছেন, অন্যদিকে হাইকমিশন থেকে ভুয়া কোম্পানি, সাজানো কোম্পানি, প্রয়োজনাতিরিক্ত শ্রমিক চাহিদাপত্রে অনুমোদন দিয়ে গেছেন বিতর্কিত লেবার কাউন্সিলর। তিনি চোখ বুঝেই বলে দিতে পারতেন কোথায় শ্রমিকের ভালো হবে কোথায় শ্রমিক বিপদে পড়বেন। তারপরও তিনি জেনেশুনেই খারাপ কাজের অনুমোদন দিতেন। বিশেষ করে ৫০-৬০ জনের ডিমান্ড লেটারের প্রায় ৯০ শতাংশ ছিল ভুয়া।
মালয়েশিয়ার সরকারি নিয়মে ৫০ জনের উপরে গেলেই ডাইরেক্ট কোম্পানি আর কম হলে আউট সোর্সিং কোম্পানির অধীনে শ্রমিক আনতে হবে। আর সে নিয়ম রক্ষায় যেখানে ২০-৩০ জন শ্রমিক প্রয়োজন হতো সেখানে সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০-এর ওপর করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত শ্রমিকের সর্বনাশ হয়েছে। তারা এসে চাকরি পাননি। হাতেগোনা কিছু চিহ্নিত দালালই তালাত মাহমুদ খানের উপদেষ্টা হয়ে কাজ করত। কার অনুমোদন বাতিল করতে হলে কার কাছে অনুমোদন দিতে হবে তা বাতলে দিত দালালরাই। তার সহকারী শাজাহান দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও বর্তমান সরকার তার টিকিটিও ছুঁয়ে দেখেনি। তিনি এখনও বহাল তবিয়তে মন্ত্রণালয়ে চাকরি করছেন বলে জানা গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের কর্মকর্তা পর্যন্ত প্রায় সবাই শ্রমিক প্রতারণার অর্থে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন সাবেক ওই লেবার কাউন্সিলরের আশীর্বাদে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে এসে তদন্তকারী দল ও টাস্কফোর্সের সদস্যরাই মোটা টাকার দুর্নীতিতে জড়িয়ে গেছেন। জানা গেছে, তাদের ওই অর্থেরও যোগান দিয়েছে হাইকমিশনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, দালাল ও অসাধু আদম বেপারিরা। আর ভাগ্যাহত শ্রমিকদের রাত কেটেছে ব্রিজের নিচে, ফুটপাতে, খেয়ে-না খেয়ে। পৈতৃক ভিটেমাটিসহ সহায়সম্পদ বিক্রি করে আসা হতভাগ্যরা ক্ষুধার জ্বালায় ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট খাবার কুড়িয়ে খেয়েছেন। চাকরি না পেয়ে বেকার শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন। হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন অনেকে।
এদিকে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, ব্রুনাই, ওমান, মরিশাসে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের আকামা পরিবর্তনের সুযোগ দিলেও বাংলাদেশী শ্রমিকদের তা দেয়া হয়নি। এতে আকামাজনিত সমস্যার কারণে লক্ষাধিক শ্রমিক সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। গত এপ্রিলে সৌদি আরব সফরকালে দেশটির বাদশাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশী শ্রমিকদের আকামা নবায়ন করা হবে। কিন্তু ৮ মাস পরও সৌদি বাদশাহর সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন ঘটেনি।
এদিকে বিভিন্ন দেশে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ থাকার কারণে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৮৫ শতাংশ ব্যবসায়ীর কোনো কাজ নেই। অনেক কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেননি। জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার নির্বাহী কমিটির সদস্য ফোরকানউদ্দিন বলেন, এখন ৮৫ শতাংশ ব্যবসায়ী বেকার। বেতন দিতে না পারার কারণে অনেকে অফিসে যেতে পারছেন না। লাইসেন্স নবায়ন করতে ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ টাকা যোগাড় করতে না পারায় অনেকে লাইসেন্স নবায়নও করতে পারছেন না। সরকার যদি তত্পর হতো হয়তো এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রফতানির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়টি অনিশ্চিত। আমরা এখনও বুঝতে পারছি না কি হতে যাচ্ছে। স্থগিত হয়ে যাওয়া ৫৫ হাজার ভিসা চালু হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য নতুন করে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে কি-না সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। তবে না হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগও তেমন একটা চোখে পড়ছে না। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনো সুফল পাইনি।
গত নভেম্বরে পোর্ট অব স্পেনে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি নাজিব তুন রাজাককে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অনুরোধ জানান। কিন্তু মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাতে ইতিবাচক সাড়া দেননি।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা এবং বার্তা সংস্থাগুলো দাবি করেছে প্রতারণার মাধ্যমে বেশি টাকায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রফতানির কারণে সৃষ্ট নানা সমস্যার জন্য বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দায়ী। আর এ কারণেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া।
গত ৩ ডিসেম্বর মালয় মেইলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে আর কোনো শ্রমিক নেবে না। পত্রিকাটি আরও লিখেছে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্টদের জন্য সবচেয়ে বেশি লাভজনক। কিন্তু তারাই আবার মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করে।
১৯৯৯ সালেও মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশী শ্রমিক না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা পাল্টায়। এরপর ২০০৭ সালেও একইরকম সিদ্ধান্ত নেয়। সর্বশেষ একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলতি বছর।
মালয়েশিয়ার এ সিদ্ধান্ত জানার পর বাংলাদেশ কূটনৈতিক পর্যায়ে নানা তত্পরতা শুরু করে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মালয়েশিয়া যান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য মালয়েশিয়াকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তারপরও মালয়েশিয়ার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
আগামী দু’তিন বছরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল। এ ঘোষণার অংশ হিসেবে চলতি বছর ৫৫ হাজার বাংলাদেশী কর্মীর নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু এ নিয়ে জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং হাইকমিশনের সময়োচিত পদক্ষেপের অভাবে শেষপর্যন্ত মালয়েশিয়া শ্রমিক নিয়োগ স্থগিত করে।
জানা গেছে, দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ী ও কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গড়ে ওঠা দালাল চক্রের কারণে বাংলাদেশী শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একদিকে চাকরি না পেয়ে শ্রমিকরা হাইকমিশনে আশ্রয় নিচ্ছেন, অন্যদিকে হাইকমিশন থেকে ভুয়া কোম্পানি, সাজানো কোম্পানি, প্রয়োজনাতিরিক্ত শ্রমিক চাহিদাপত্রে অনুমোদন দিয়ে গেছেন বিতর্কিত লেবার কাউন্সিলর। তিনি চোখ বুঝেই বলে দিতে পারতেন কোথায় শ্রমিকের ভালো হবে কোথায় শ্রমিক বিপদে পড়বেন। তারপরও তিনি জেনেশুনেই খারাপ কাজের অনুমোদন দিতেন। বিশেষ করে ৫০-৬০ জনের ডিমান্ড লেটারের প্রায় ৯০ শতাংশ ছিল ভুয়া।
মালয়েশিয়ার সরকারি নিয়মে ৫০ জনের উপরে গেলেই ডাইরেক্ট কোম্পানি আর কম হলে আউট সোর্সিং কোম্পানির অধীনে শ্রমিক আনতে হবে। আর সে নিয়ম রক্ষায় যেখানে ২০-৩০ জন শ্রমিক প্রয়োজন হতো সেখানে সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০-এর ওপর করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত শ্রমিকের সর্বনাশ হয়েছে। তারা এসে চাকরি পাননি। হাতেগোনা কিছু চিহ্নিত দালালই তালাত মাহমুদ খানের উপদেষ্টা হয়ে কাজ করত। কার অনুমোদন বাতিল করতে হলে কার কাছে অনুমোদন দিতে হবে তা বাতলে দিত দালালরাই। তার সহকারী শাজাহান দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও বর্তমান সরকার তার টিকিটিও ছুঁয়ে দেখেনি। তিনি এখনও বহাল তবিয়তে মন্ত্রণালয়ে চাকরি করছেন বলে জানা গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের কর্মকর্তা পর্যন্ত প্রায় সবাই শ্রমিক প্রতারণার অর্থে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন সাবেক ওই লেবার কাউন্সিলরের আশীর্বাদে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে এসে তদন্তকারী দল ও টাস্কফোর্সের সদস্যরাই মোটা টাকার দুর্নীতিতে জড়িয়ে গেছেন। জানা গেছে, তাদের ওই অর্থেরও যোগান দিয়েছে হাইকমিশনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, দালাল ও অসাধু আদম বেপারিরা। আর ভাগ্যাহত শ্রমিকদের রাত কেটেছে ব্রিজের নিচে, ফুটপাতে, খেয়ে-না খেয়ে। পৈতৃক ভিটেমাটিসহ সহায়সম্পদ বিক্রি করে আসা হতভাগ্যরা ক্ষুধার জ্বালায় ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট খাবার কুড়িয়ে খেয়েছেন। চাকরি না পেয়ে বেকার শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন। হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন অনেকে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


