Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

প্রতিবন্ধীদের চাকরি দিলে আয়কর রিবেট বিবেচনা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোনো কর্পোরেট বা বেসরকারি শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীদের চাকরি প্রদান করলে তাদের আয়কর রিবেট দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী-উপযোগী কর্মক্ষেত্র চিহ্নিত করার কাজ শুুরু করেছে। প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুসারে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
বাসস জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি জহুরুল আলম ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম আহমেদ নুরুল কবির। এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন্নেসা খানম। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের বৃত্তি ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। এছাড়া তিনি ১০ জন প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ারও দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০১১ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে শতকরা ১০০ ভাগ ভর্তি নিশ্চিত করতে চাই, যা প্রতিবন্ধীদের বাদ দিয়ে সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয়ে ভর্তিতে উত্সাহিত ও ঝরে পড়া রোধে আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপ-বৃত্তি বাড়ানো হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধিতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি প্রতিটি স্কুলে ১ জন করে বিশেষজ্ঞ নিয়োগেরও পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে সব প্রতিবন্ধীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো অসুখ নয়, মানব বৈচিত্র্যেরই একটি অংশ এবং প্রতিবন্ধীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পরিবারের মধ্যেও প্রতিবন্ধীরা বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে তাদের বিশেষ যত্ন ও সেবার প্রয়োজন, সেখানে দেখা যায় তারা উল্টো অবহেলার শিকার হয়, অন্যের গলগ্রহ হয়ে বেঁচে থাকতে হয়। সমাজের সবার এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন করতে পারলে অবশ্যই প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন আসবে। এজন্য সবার ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করতে হবে পাঠ্যসূচিতে তা থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি প্রতিবন্ধীদের প্রতি আচরণের বিষয়টি ছোটদের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের সব জনগণের জন্য সমতা, মানব মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তিনি ২০১১ সালে অনুষ্ঠিতব্য আদমশুমারিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিকভাবে গণনা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো এবং যানবাহনে বিশেষ করে বিআরটিসি বাসে যাতে তারা চলাচল করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইসিটির গুরুত্ব অনেক বেশি। আইসিটির কল্যাণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এমনসব শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশ নিতে পারছে, যেখানে আগে তাদের কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে এখন দেখা হচ্ছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ, যা তাদের সমাজে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ অবশ্যই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেছে। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বৈষম্য বা ডিজিটাল ডিভাইড প্রতিরোধে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করবে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী এবং সহজলভ্য করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি দেশব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্সবের আয়োজন করে অথচ প্রতিবন্ধী শিল্পীদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ একেবারেই সীমিত। প্রতিবন্ধী শিল্পী সৃষ্টিতে ও তাদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক উত্সব আয়োজনের পাশাপাশি মূলধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিতে শিল্প একাডেমিসহ অন্যান্য একাডেমিকে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, আমাদের সম্পদ সীমিত। এর মধ্য থেকেই আমাদের সবার কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আমাদের পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা প্রয়োজন। সব মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যদিয়েও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। শেখ হাসিনা বলেন, কর্মজীবী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ঢাকার মিরপুরের জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে মহিলা ও পুরুষ কর্মজীবী প্রতিবন্ধীদের হোস্টেল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি প্রতিবন্ধীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘তোমরা নিজেদের অসহায় ভেবো না। তোমাদের অভিভাবকদের পাশাপাশি আমরাও তোমাদের সঙ্গে আছি। তোমাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আমি সব রকমের ব্যবস্থা নেব ইনশা আল্লাহ।’ পরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের তৈরি হস্তশিল্প ও সহায়ক উপকরণ পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?