Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পীরগাছার দেবী চৌধুরাণীর পুকুর এখন আবর্জনার ভাগাড়

শাহ কামাল ফারুখ লাবু, পীরগাছা (রংপুর)
রংপুরের পীরগাছার ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রদূত বীরাঙ্গনা নারী দেবী চৌধুরাণীর ঐতিহাসিক পুকুরটি বর্তমানে বাজারের পয়ঃনিষ্কাশনের ময়লা, মলমূত্রসহ আবর্জনা ফেলার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পুকুরের পানি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে এবং মাছচাষ ব্যাহত হয়ে পড়ায় সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, দেবী চৌধুরাণী ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের চৌধুরাণী বাজারের পাশে প্রায় সাড়ে ৫ একর জমির ওপর এলাকাবাসীর পানীয়জলের অসুবিধা দূরীকরণের জন্য একটি বিশাল পুকুর খনন করেন। দেবী চৌধুরাণী নিজ অর্থ ব্যয় করে এ পুকুরটি খনন করেন বলে তার নামানুসারে পুকুরটির নামকরণ করা হয়। পুকুরটি চৌধুরাণী হাটের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় পুকুরের দক্ষিণ, পূর্ব এবং উত্তর পাড়ে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। এছাড়া প্রতিদিন এখানে বাজারও বসে। প্রতি হাটবার দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখানে ব্যবসা করেন। কথিত আছে, এক সময় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা-পার্বণের সময় এ পুকুরের পানিতে নেমে গলবস্ত্র (গলাবস্ত্র) হয়ে প্রার্থনা করলে পুকুর থেকে সোনার চালুনি ও বাতি ভেসে উঠত এবং পূজা-পার্বণ শেষ হলে আবার সেই চালুনি ও বাতি পুকুরে ডুবে যেত।
সরেজমিন দেখা যায়, পুকুরের দক্ষিণ দিকে বাজারের পয়ঃনিষ্কাশনের নালা, ল্যাট্রিন ও প্রস্রাবখানার নালা পুকুরের সঙ্গে সংযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও বাজারের ময়লা-আবর্জনা ওই পুকুরে ভাগাড় হিসেবে ফেলা হচ্ছে। অপরদিকে পুকুরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত বাসাবাড়ির পয়ঃনিষ্কাশনসহ ল্যাট্রিনের নালা পুকুরের সঙ্গে সংযোগ করা হয়েছে। বাজারের পয়ঃনিষ্কাশন, ল্যাট্রিন, প্রস্রাবখানার মলমূত্র পুকুরে পড়ে পানি বিষাক্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিংবদন্তির ঐতিহাসিক এ পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এবং এভাবে মলমূত্র ও আবর্জনা ফেলার কারণে মাছচাষ ব্যাহত হচ্ছে। মাছচাষ ব্যাহত হওয়ায় সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চৌধুরাণী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, এ পুকুরের পানিতে এলাকার মানুষ অজু ও গোসল করত। চৌধুরাণী রামচন্দ্র পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, রনিসহ অনেকে জানান, আগে এ পুকুরের পানিতে মানুষ গোসল করত এবং খাবার পানি হিসেবেও ব্যবহার করত। বর্তমানে পুকুরের পানিতে মলমূত্র ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। চৌধুরাণী বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা জানান, এ পুকুরের পানিতে আগে আমরা শাকসবজি ধুয়ে পরিষ্কার করতাম। এখন পুকুরের পানি নষ্ট হওয়ায় তা থেকে সবসময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। চৌধুরাণী বাজার জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম আবদুর রাজ্জাক ও ইমাম মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, পুকুরের পানি বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় এখানে মুসল্লিরা আর অজু-গোসল করেন না। কৈকুড়ী ইউনিয়ন সমবায় সমিতি ও পূর্বাশা যুবকল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, মলমূত্র ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে এর পানি বিষাক্ত হয়ে মাছচাষ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা একটি সমবায় সমিতির নামে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে ৫ বছরের জন্য পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছচাষ করছি; কিন্তু পানি বিষাক্ত হওয়ার কারণে ক্ষতির সম্মুখীত হচ্ছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে কেউ লিজ গ্রহণ করবে না। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে।
কৈকুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, পুকুরটি সংস্কারসহ মলমূত্র ও আবর্জনা ফেলা বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অনেক আবেদন করা হয়েছে। পুুকুরটি দূষণমুক্ত করতে সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?