রাজশাহীতে চিকিত্সা বিড়ম্বনা
রাজশাহী অফিস
‘এক ডাক্তার বলেন, নাক-কান-গলা বিভাগে যাও। আবার নাক-কান-গলা বিভাগের ডাক্তার বলেন, যারা পাঠিয়েছে তাদের কাছে যাও তারাই ব্যবস্থা করবে। এভাবে আর কত ঘুরব? অসহায়ত্বের আকুতি জড়ানো এসব প্রশ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তঘেঁষা সোনামসজিদ এলাকার তাহমিনার (৩৫)। দু’দিন থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিট থেকে প্রায় এককিলো দূরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘুরছেন তিনি। তাহমিনার নিচের চোয়ালের সামনে একটি ছিস্ট (টিউমার জাতীয়) হয়েছে। সঙ্গে এসেছেন তাহমিনার স্বামী কৃষিজীবী আবুল কালাম ও আবুল কালামের ভাতিজা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী নাদিম ইসলাম। দু’দিন ঘুরার পর ব্যর্থ হয়ে গত মঙ্গলবার হাসপাতালের আউটডোরের সামনে দাঁতের প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন তাহমিনা। গত বুধবার পর্যন্ত তাহমিনার কোনো চিকিত্সা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হয়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোঃ ওবায়দুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, আমাদের ওটি বন্ধ রয়েছে। তাই এখানকার অপারেশনের রোগীদের নাক-কান-গলা বিভাগের ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই অপারেশন হতো। কিন্তু গত প্রায় ২ মাস হলো নাক-কান-গলা বিভাগের নতুন একজন প্রফেসর আসার পর ওই ওয়ার্ডে ডেন্টাল ইউনিটের রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। কি কারণে হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কথা বলব। এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালকের দেখা করতে গেলে তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিত্সকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, যে সমস্যার কথা বলে তাহমিনার অপারেশন হচ্ছে না সেটি মোটেও ঠিক নয়। এটা কৃত্রিম সঙ্কট। এ ডেন্টাল ইউনিটের জন্য একরামুল হক নামের একজন সহকারী অধ্যাপকও নিয়োগ দেয়া হয়েছে গত ৯ বছর ধরে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওটি চালু করা হয় না। একবার চালু করা হয়েছিল, কিন্তু ৫৫ দিনের মাথায় সেটি যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে। সিনিয়র ওই চিকিত্সকরা জানান, এছাড়াও হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে অনকোলজি বিভাগে ৪টি বেড রয়েছে ডেন্টাল ইউনিটের জন্য বরাদ্দ। সেখানে বুধবার পর্যন্ত ৩টি বেড খালি রয়েছে, কিন্তু তাহমিনার ভর্তির জন্য সিট নেই বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে নাক-কান-গলা বিভাগ। হাসপাতালের ওই চিকিত্সকরা অভিযোগ করে বলেন, এভাবে রোগীরা ঘুরে ঘুরে নিরুপায় হয়ে চলে যান নগরীর বেসরকারি ক্লিনিকে। আর পকেট ভারি হয় সুবিধাবাজ চিকিত্সকদের।
তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিত্সকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, যে সমস্যার কথা বলে তাহমিনার অপারেশন হচ্ছে না সেটি মোটেও ঠিক নয়। এটা কৃত্রিম সঙ্কট। এ ডেন্টাল ইউনিটের জন্য একরামুল হক নামের একজন সহকারী অধ্যাপকও নিয়োগ দেয়া হয়েছে গত ৯ বছর ধরে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওটি চালু করা হয় না। একবার চালু করা হয়েছিল, কিন্তু ৫৫ দিনের মাথায় সেটি যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে। সিনিয়র ওই চিকিত্সকরা জানান, এছাড়াও হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে অনকোলজি বিভাগে ৪টি বেড রয়েছে ডেন্টাল ইউনিটের জন্য বরাদ্দ। সেখানে বুধবার পর্যন্ত ৩টি বেড খালি রয়েছে, কিন্তু তাহমিনার ভর্তির জন্য সিট নেই বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে নাক-কান-গলা বিভাগ। হাসপাতালের ওই চিকিত্সকরা অভিযোগ করে বলেন, এভাবে রোগীরা ঘুরে ঘুরে নিরুপায় হয়ে চলে যান নগরীর বেসরকারি ক্লিনিকে। আর পকেট ভারি হয় সুবিধাবাজ চিকিত্সকদের।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


