মৌলভীবাজারের বিরইন ধান ও নি ধান বিলুপ্তির পথে
আউয়াল কালাম বেগ, রাজনগর
রাজনগর তথা মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধী লাসাযুক্ত বিরইন ও চিকন নি ধান এখন বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে যতটুকু জমিতে চিকন নি ধান ও বিরইন ধানের চাষ হচ্ছে, রাসায়নিক সার, কীটনাশকের প্রভাব ও ভেজালের ফলে সেই আদি স্বাদ ও গন্ধ হারিয়ে গেছে। তাছাড়া ভালো বীজের সঙ্কট ও ফলন হ্রাস পাওয়ায় চাষীরা আর এ ধান উত্পাদনে আগ্রহী নন। রাজনগরে কিছু জমিতে সীমিত পরিমাণে নি ও বিরইন ধানের উত্পাদন হয়। অবস্থাপন্ন কৃষকরাই এর চাষ বেশি করে থাকেন। এখন নি ও বিরইন চালের দাম বেশি। এতে ভেজালও দেয়া হচ্ছে। রাজনগরের সব এলাকায় বিরইন ও নি ধানের চাষ হয় না। উঁচু জমিতে এ ধানের চাষ করতে হয় । রোপা আমন মৌসুমে এ ধানের চাষ হয়। বছরে একবার এ ফসল হয়। এ ধানের বিশেষত্ব হলো জমিতে জৈবসার ব্যবহার করতে হয়। রাসায়নিক সার ব্যবহার করা যায় না। বিরইন ধান দু’ধরনের—পাক বিরইন ও দুধ বিরইন। সুগন্ধী চিকন ধান দুই জাতের। এগুলো হলো কালিজিরা নি ও সাদা নি ধান। এক বিঘা জমিতে এর ফলন হয় সর্বোচ্চ ৬-৭ মণ। তাই চাষীরা ধীরে ধীরে এই ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই ধান চাষ ব্যাহত হয়। ফলে বীজ সঙ্কট দেখা দেয়। বীজ সংরক্ষণে নি ও বিরইন ধানের বীজ ভালোভাবে রোদে শুকাতে হয়। কিন্তু কৃষকের অসচেতনতার কারণে এ বীজ রোদে শুকানোর সময় অন্য বীজের মিশ্রণ ঘটে। এক স্থানীয় ভাষায় ‘ছাঁট’ বলা হয়। এই ছাঁটযুক্ত বিরইন ও নি চালের কোনোটিতেই প্রকৃত স্বাদ থাকে না। বাজারে যে নি ও বিরইন চাল বিক্রি হয় তা ছাঁটযুক্ত চাল। এর ওপর ওই চালে ভেজাল থাকে প্রচুর। ফলে সুগন্ধী লাসাযু্ক্ত বিরইন ধানের সুগন্ধ ও লাসা তেমন থাকে না। বর্তমানে রাজনগরে নি ও বিরইন ধানের উত্পাদন কম হয়। বেচাকেনা হয় কম, দামও বেশি।
তারপরও দেশ বিদেশে এর কদর আকাশচুম্বি। বিশেষ করে সিলেটের আমেরিকা-লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে যারা থাকেন তাদের কাছে এ চালের কদর বেশি।
তারপরও দেশ বিদেশে এর কদর আকাশচুম্বি। বিশেষ করে সিলেটের আমেরিকা-লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে যারা থাকেন তাদের কাছে এ চালের কদর বেশি।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


