Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নাটোরের বড়াইগ্রামে চাষ হচ্ছে ভিয়েতনামের ড্রাগন ফল

হাসানুল বান্না উজ্জ্বল, বড়াইগ্রাম (নাটোর)
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নিভৃত পল্লীতে ক্যান্সার, হৃদরোগ, এসিডিটি ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধক ড্রাগন ফলের চাষ শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক সাঈদ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ উদ্বোধন করেন। জানা যায়, ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম কামরুজ্জা-মাযান। সেখানে ড্রাগন ফলের স্বাদে মুগ্ধ হয়ে তিনি কয়েকটি চারা নিয়ে আসেন। চারাগুলো নাটোর শহরের অদূরে তার মডার্ন হর্টিকালচার সেন্টারে রোপণ করেন তিনি। চলতি বছরের শুরুর দিকে গাছগুলোতে ফল ধরে। ফলগুলোর স্বাদও একেবারেই অকৃত্রিম। এতে তিনি আরও উত্সাহিত হন। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তিনি এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুর রহিম ড্রাগন চাষের ওপর প্রশিক্ষণের জন্য ভিয়েতনাম সফর করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি এনএটিপি প্রকল্পের আওতায় বড়াইগ্রামে প্রাথমিকভাবে ১০ জন কৃষকের মাধ্যমে ড্রাগন ফল চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন।
কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জানান, ড্রাগন ফল ক্যাকটাস পরিবারভুক্ত। লতানো এ উদ্ভিদটিকে দেখে সবাই সবুজ ক্যাকটাস বলেই মনে করেন। ড্রাগন ফলের জন্ম দক্ষিণ আমেরিকার অরণ্যে। তবে ভিয়েতনামে এ ফল ব্যাপকভাবে চাষ হয়। এছাড়া এ ফল মেক্সিকো, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, ইসরাইল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায়ও চাষ করা হচ্ছে। এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ড্রাগন ছাড়াও পিটায়া ও টিহায়া নামেও পরিচিত। এই ফল কাঁচা-পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। ঔষধি ও উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ড্রাগন ফল খেতে খুবই সুস্বাদু। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, মিনারেল ও আঁশ আছে। সারা বছর এই ফলের চারা রোপণ করা যায়। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে এর চাষ ভালো হয়। শীতের চার-পাঁচ মাস ছাড়া বছরের অবশিষ্ট সাত-আট মাস ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। ড্রাগন ফল লাল, সাদা, গোলাপি ও কালচে—এই চার ধরনের হয়ে থাকে।
তবে হাইলোসেরাস অনডাইটাস অর্থাত্ সাদা ফলটি বেশি পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ দু’শটি ড্রাগন ফলের গাছ রোপণ করা যায়। গাছ থেকে ফল পাওয়া যায় দুই থেকে তিন বছর পর। প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে একশ’টির মতো ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় পাঁচশ’ থেকে আটশ’ গ্রাম । ফলটি লম্বায় ৮ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার ও চওড়ায় ৭ থেকে ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ফলের শাঁস সাদা, হলুদ, সবুজ ও লাল বর্ণের হয়ে থাকে। ড্রাগন ফল চাষে কোনো রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। গাছগুলো বায়বীয় মূলের সাহায্যে প্রায় ৫০ শতাংশ খাবার বাতাস থেকেই সংগ্রহ করে থাকে। বাকি খাবার কম্পোস্ট বা জৈব সার থেকে সংগ্রহ করে থাকে। রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব না থাকায় কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। ড্রাগন ফুলে সাধারণত স্ব-পরাগায়ন ঘটে। প্রতি কেজি ড্রাগন ফল তিন থেকে চারশ’ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানান, ড্রাগন ফল একটি পরিপূর্ণ খাবার। ভাত-রুটির মতো খাদ্যের চাহিদা মেটায়। এই ফল ডায়াবেটিক রোগীর রক্তের ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ফলটি পিচ্ছিল জাতীয়, তাই এসিডিটি কমায় এবং ক্যান্সার আর হৃদরোগের জন্য বিশেষ উপকারী। এছাড়াও এ ফল কোলেস্টেরল ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম কামরুজ্জামান জানান, আমাদের দেশে পানি জমে না এমন বেলে-দোআঁশ মাটিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা যেতে পারে। বীজ অথবা কাটিংয়ের মাধ্যমে এ ফলের চাষ করা যায় বলে তিনি জানান।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?