Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রাজশাহীর চরাঞ্চলে ৫০ হাজার মানুষের মানবেতর জীবনযাপন : নাগরিক সুবিধার বালাই নেই

সরদার এম আনিছুর রহমান, রাজশাহী
স্বাধীনতার ৩৮ বছরেও রাজশাহীর পদ্মার চরাঞ্চলের ৫০ হাজারও বেশি মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত, কেউ তাদের খোঁজ রাখে না। যুগ যুগ ধরে তারা ঝড়-বন্যা এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাকে তাদের ভাগ্যের লিখন বলে মেনে নিয়েছেন। যে কোনো নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা তাদের ভাগ্যের উন্নয়নের হাজারও প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কেউ তাদের খোঁজ রাখেন না। বর্তমান সরকারও ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশের প্রায় সব এলাকায় ভিজিএফ কার্ড ও টিআর প্রকল্পের চাল বিতরণ করলেও তাদের কাছে পৌঁছেনি।
পদ্মা নদীর এপার রাজশাহী বিভাগীয় শহর আর ওপারে রয়েছে ১০-১২টি গ্রাম। এর আশপাশে রাজশাহী জেলাভুক্ত রয়েছে আরও অনেক চর। যেখানে বসবাস করেন অর্ধলাখেরও বেশি মানুষ। রাজশাহী শহর থেকে এ জনপদের দূরত্ব খুবই সামান্য। অথচ দু’জনপদের মাঝে কতই না ফারাক। আর পদ্মাচরের ওই মানুষগুলোর জীবন কাটছে অনেকটাই আঁধারে। উন্মুক্ত বিরাণভূমি এক বৈচিত্র্যহীন জীবনযাপন করে চলেছেন তারা যুগ যুগ ধরে। সেখানে নেই কোনো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বিদ্যুতের আলো ও হাট-বাজার। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নয়ন ঘটলেও এখানে এর বিন্দুমাত্র ছোঁয়া লাগেনি।
রাজশাহী শহরের ওপারে রয়েছে চরখঞ্জনপুর, চরখিদিরপুর, চরমাঝারদিয়ার, চরতারানগর, চরখানপুর, চরআষাঢ়িয়াদহ, চরনবীনগর। এছাড়াও রাজশাহী জেলার অধীনে আরও রয়েছে বাঘা ও গোড়াগাড়ীর বিশাল চরাঞ্চল। দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে এদের ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার আটত্রিশ বছর পরও তারা রাষ্ট্রীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে রয়েছেন বঞ্চিত। জাতীয় দৈনিক তো দূরের কথা রাজশাহী শহর থেকে প্রকাশিত স্থানীয় কাগজের সংবাদকর্মীদের কাছেও তা পৌঁছে না। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। ওদের ছেলেমেয়েরা বাবার মুখ থেকে কেবল কথাটি শুনেছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো কিছুই এদের দেখা সম্ভব হয়নি। বয়স্করা জানেন বাঁচতে হলে মাঠে ফসল ফলাতে হবে। আর যুবকরা জানেন চোরাচালান করে তাদের বাঁচতে হবে। আগে ভরা পদ্মায় তারা নৌকা চালিয়ে ও মাছ ধরে জীবনযাপন করতেন। মরণফাঁদ ফারাক্কার প্রভাবে শুষ্ক পদ্মায় তাদের পেশা পাল্টে গেছে। জেগে ওঠা চরে তারা করছেন নানান ফসলের আবাদ। ফসলের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালালেও তাদের আর্থিক দৈন্যতা, দুঃখ-বেদনা ও বঞ্চনা দেখার কেউ নেই। নির্বাচন এলে সবাই চর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু পরে আর বাস্তবায়ন হয় না। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, তারা অধিকাংশই ক্ষেতে কাজ করেন। তাছাড়া তারা পালন করেন গরু-মহিষ। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে একদল গরু-মহিষ ও ছাগল।
এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে বিগত বিএনপি সরকারের আমলে রাজশাহী থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কবির হোসেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজশাহীর চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ জন্য তখন ৯ কোটি টাকার ব্যয়সম্পন্ন একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। তবে বরাদ্দের মাত্র এক কোটি টাকা আসে, যা দিয়ে ৩টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, চিকিত্সা কেন্দ্র, রাস্তা-ঘাট ও কালভার্ট তৈরি করা হয়। এছাড়াও এখানকার বেশকিছু দরিদ্র মানুষকে বাড়িঘর বানিয়ে দেয়া হয়। এলাকাবাসী জানান, এরপর আর কোনো কিছু হয়নি। এলাকাবাসী ও চরাঞ্চলের ইউপি সদস্য আজাদ জানান, এরই মধ্যে বন্যার তোড়ে স্কুল, কালভার্ট ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি চরাঞ্চলবাসীর উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলে রিজভী আল হাসান মঞ্জিল বলেন, গত রমজান মাসের প্রথমদিকে কিছুসংখ্যক হতদরিদ্রকে ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। হরিয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন বলেন, এই ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ড চরাঞ্চল। চরখিদিরপুর ও চরতারানগর এ দুটি এলাকায় অনেক লোকের বসবাস। কিন্তু তারাও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সেলিম মাহমুদ-উল-হাসান হরিয়ান ও হরিপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, গত রমজানে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে কিছু ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণ করা হয়। তবে কী পরিমাণ চাল বিতরণ করা হয় এ তথ্য তিনি জানাতে পারেননি।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?