Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জলবায়ু শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা : জলবায়ু সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম হুমকির মুখে বাংলাদেশের অবস্থান হলেও তা থেকে বাঁচতে করণীয় সম্পর্কে সরকারের জানা নেই। কোপেনহেগেনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত বিশ্ব শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্মেলনে অংশ নিলেও বাংলাদেশ শক্তভাবে তাতে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রাকৃতিক আঘাত মোকাবিলায় দেশেও প্রয়োজনীয় সরকারি ব্যবস্থা নেই। সেজন্যই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, আশ্রয় এবং সামাজিক নিরাপত্তার সমস্যা তীব্র হয়ে ওঠে। তাতে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। গতকাল ‘জলবায়ু পরিবর্তন, ধর্ম ও রাষ্ট্র এবং নারী-শিশুর অব্যাহত সংগ্রাম’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে বাঁচাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের করণীয় সম্পর্কে ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নেন খ্যাতিমান সাংবাদিক আতাউস সামাদ, বাম রাজনীতিক হায়দার আকবর খান রনো, চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল প্রমুখ। কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। গতকাল সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মানবাধিকার মঞ্চে আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শিরীন শেখ মাঈন উদ্দীন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা।
আলোচনায় আতাউস সামাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে করণীয় সম্পর্কে সরকারের কিছু জানা না থাকাটা অমার্জনীয়। সরকার চেষ্টা করলে তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে জানাটা অসম্ভব কিছু নয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তার মিত্রদেরও জলবায়ু সম্পর্কে কথা না বলতে হুশিয়ার করে দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনেও যোগ দেন। তাই ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বাংলাদেশ সরকারকে বহির্বিশ্ব থেকে কিছু আদায় করে নিতে হবে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, কোপেনহেগেনে আলোচনার মূল থিমটাই বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বুঝতে পারেননি। সরকার সমর্থক মিডিয়া এ সম্মেলনকে সফল বললেও, প্রকৃত অর্থে সেটি ব্যর্থ। দেশের প্রধান বিরোধী দলও সম্মেলনের আগে সরকারকে এ সংক্রান্ত কোনো গাইডলাইন দিতে পারেনি।
কর্মশালায় সারাদেশ থেকে বিভিন্ন এনজিওর ১০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সকাল ৯টায় শুরু হয় প্রতিনিধিদের মতামত পর্ব। এ পর্বে সাবেক সচিব হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। সকাল ১১টায় শুরু হয় মুক্ত আলোচনা। এতে দেশের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। এ পর্বে সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জিল্লুর রহমান। দু’পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে ১৯টি সুপারিশের প্রস্তাব করা হয় সরকার ও জনগণের উদ্দেশে। এর মধ্যে রয়েছে নারী-শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ, নারী-শিশুর বৈষম্যের বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা, উপকূলীয় এলাকায় জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার অভিযান, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সিডও সনদের বাস্তবায়ন, উপকূলীয় এলাকার বাঁধগুলোকে শক্তিশালী, উঁচু এবং টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিহত করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা ইত্যাদি। এছাড়া বেশি গাছ লাগানো, যেখানে-সেখানে মাছের চাষ না করা, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ না করা, ফতোয়ার শিকার নারীদের আইনি সহায়তা দেয়া এবং সরকারি ও বেসরকারি সংগঠন একত্রিত হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ওপর জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন করার কথাও সুপারিশের মধ্যে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনার ফাঁকে পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ওপর ‘বাতাসপুর’ নামে ১০ মিনিটের একটি নাটিকা মঞ্চস্থ হয়। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার শিল্পীরা অভিনয়ে অংশ নেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন বেলা’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?