Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ফেরার লড়াইয়ে জিতছেন মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার
জাতীয় দল দু’ভাগ হয়ে খেলছে।
কারা জিতল?
সেই প্রশ্ন কেউ খুঁজলেন না।
সব প্রশ্ন এবং কৌতূহল শুধু দুজনকে ঘিরে। যার বেশিরভাগ জুড়েই থাকলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং বাকি অংশে তামিম ইকবাল। ইনজুরি নিয়ে জাতীয় দলের এই দুই ক্রিকেটার ‘ব্যাট-বলের ক্রিকেট’ থেকে অনেকদিন ধরে মাঠের বাইরে। কাল দুজনেই ব্যাট-বলের পুরনো সেই অ্যাকশনে ফিরলেন। তাদের দুজনকে ঘিরেই চারপাশের একটাই খোঁজ—‘খেলার মতো ফিটনেস কি ফিরে পেয়েছেন তারা?’
‘মাশরাফি পরিস্থিতি’ জানুন আগে।
অস্ট্রেলিয়ায় দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচার শেষে কালই পুরোদস্তুর দৌড়ে বোলিং করলেন। ব্যাটিংয়েও নামলেন। অনুশীলন ম্যাচের শুরুর অংশে আগে ব্যাটিং করলেন। মন্দ নয়। পাঁচ ওভার ব্যাটিংয়ে নড়াচড়া করলেন স্বাচ্ছন্দ্যে। ফ্লাডলাইটের আলোয় বল নিয়ে রানআপে যেতেই সতীর্থ, প্রিয়জন সবার চিন্তাযুক্ত অপেক্ষা—পারবেন তো মাশরাফি?
ফিরে আসার সেই লড়াইয়ের প্রথম যুদ্ধে জিতলেন মাশরাফি। কাল প্রথম স্পেলে চার ওভার বোলিং করলেন। শুরুতে একটু আস্তে আস্তে করলেন। তবে সেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঘুচিয়ে পুরো গতিতে যখন ফিরলেন সেই ধাক্কায় মোহাম্মদ আশরাফুল আউট। ফিরে আসার এ লড়াইয়ে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই মাশরাফি সাফল্য পেলেন। আশরাফুলকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন। শুরুর চার ওভারে মাশরাফি যথাক্রমে রান দিলেন ১০, ৬, ৫ ও ৯। যেহেতু অনেকদিন পরে বল হাতে অ্যাকশনে নামা। তাই মাশরাফির প্রতিটি ক্রিকেটীয় নড়াচাড়া সাংবাদিকরাও লক্ষ্য করলেন। নোট নিলেন। ছুটলেন জাতীয় দলের বোলিং কোচ চম্পাকা রামানায়েকের কাছে।
—কেমন দেখলেন মাশরাফিকে?
রামানায়েকে জানালেন, ‘শুরুর দিকে রানআপ অত মসৃণ ছিল না। আমার মনে হয় অনেকদিন বাদে ক্রিকেটে ফেরায় এটা হয়েছে। তবে এটা মোটেও তেমন কিছু নয়। আমার তো মনে হয় সব সমস্যা কাটিয়ে উঠছে সে।’
মাশরাফি যখন বোলিং স্পটে এলেন তখন আর সবার সঙ্গে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমও পুরো মনোযোগ দিলেন সেদিকেই। মাশরাফির বোলিংয়ের বর্ণনা করতে গিয়ে রফিকুল বলছিলেন, ‘ভালো বোলিং করেছে সে। তাকে বাদ দেয়ার মতো কোনো কিছু যে ঘটেনি। তবে গুুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সে নিজে কেমন অনুভব করছে সেটা আমাদের জানতে হবে। তাছাড়া ফিজিওর রিপোর্টও দেখব আমরা।’
প্রথমে চার ওভারের স্পেলে বোলিং করার পর মাশরাফি পরে আরও দুই ওভার করে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে। শুধু ব্যাটিং-বোলিং নয়, ফিল্ডিংয়ে যেভাবে ঝাঁপিয়ে বল ঠেকান তাতে দড়ির বাইরে দাঁড়ানো অনেকের চিন্তা বাড়ছিল। কিন্তু মাশরাফি অমনই।
যে কোনো কিছুতে জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। মানসিকভাবে দারুণ শক্তপোক্ত। ক্যারিয়ারের সেই শুরুর সময় থেকে ইনজুরির সঙ্গে লড়তে লড়তে আজ এতটা পথ পেরিয়ে এসেছেন মাশরাফি। জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়ে গেল অগাস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গেলেও সিরিজের প্রথম টেস্টেই ইনজুরিতে পড়েন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে এখনও বাংলাদেশের হয়ে কোনো ম্যাচে খেলতে পারেননি মাশরাফি। এবার ফিরে আসার লড়াইয়ে যেভাবে লড়ছেন তাতে আশাটা তিনি দেখতেই পারেন। মিরপুরে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে আরও দুটি অনুশীলন ম্যাচে খেলবে জাতীয় দল। সেই ম্যাচ দুটিতে মাশরাফি যদি কালকের মতো ফিটনেস গ্রাউন্ডে ‘পাসমার্ক’ পান তবে ৪ জানুয়ারি এই মাঠে টস করতে নামবেন তিনি। তিনজাতি ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচে সেদিন শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
মাশরাফি কাল সেন্ট্রাল উইকেটে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে অংশ নিলেও তামিম ইকবাল শুধু ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করেন। সুখবর আছে সেখানে। তামিম ব্যাটিংয়ের সময় হাতে কোনো ব্যথা অনুভব করেননি। সামনের প্র্যাকটিস ম্যাচে সেন্ট্রাল উইকেটের অ্যাকশনে তাকেও দেখা যাবে।
কাল মাশরাফি ও তামিমের ফিটনেসে নজর বুলিয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিরপুরের উইকেটে রাতের শিশির এবং ফ্লাডলাইটের আলোয় নিজেদের ক্রিকেট ঝালাই করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অনুশীলনের প্রথম দিনে মাশরাফি ও তামিমের ফিরে আসার লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার স্বস্তিকর সংবাদের পাশে একজন ব্যাটসম্যানের ফর্মটাইকে একটু বেশি রুগ্ন মনে হচ্ছে। ব্যাটসম্যানের নাম জুনায়েদ সিদ্দিকী। দু’বার আউট হয়েও মাত্র ১৮ রান করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?