Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

গুড় উত্পাদনও হতে পারে শিল্প

জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর
আমাদের দেশে শীত মৌসুমে শুরু হয় খেজুর ও তালের রস উত্পাদন। আর সরকার যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে খেজুর ও তালের রস সংগ্রহ করলে এ দেশেই গুড় উত্পাদনকে শিল্পে রূপান্তর করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
তাদের মতে, নীলফামারীর সৈয়দপুরের মাটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি উর্বর। যার ফলে খেজুর বা তালের বীজ জমিতে পড়লেই তা অঙ্কুরিত হয়। এই দুই জাতের গাছ গরু-ছাগলে খেয়ে ফেলারও আশঙ্কা নেই। কীটপতঙ্গও ক্ষতি করতে পারে না এসব গাছের।
কৃষি বিভাগ জানায়, পরিকল্পনা মতো এসব গাছ রোপণ করলে এক বিঘা জমিতে প্রায় ১ থেকে দেড়শত গাছ লাগানো সম্ভব। গাছ লাগানোর ৭ বছর পর থেকে প্রায় ২৫/৩০ বছর পর্যন্ত রস অথবা রস থেকে গুড় উত্পাদন করে আয়ের উত্স করা সম্ভব।
গতকাল শহরের গোলাহাট এলাকার গাছি বাটু সরকারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তার জমিতে লাগানো রয়েছে প্রায় ২ হাজার খেজুর গাছ। শীত মৌসুমে একেকটি খেজুর গাছ থেকে রস বিক্রি করে তিনি পান ১ থেকে ২ হাজার টাকা। এভাবেই তিনি ২ হাজার গাছ থেকে শীত মৌসুমে আয় করেন প্রায় ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে তাকে খরচ করতে হয় মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে সৈয়দপুরের লক্ষণপুর এলাকার তালগাছি জগেন জানান, তার এলাকায় তালগাছ রয়েছে প্রায় ১ হাজারের মতো। ওই এলাকার তালগাছিরা রস বিক্রি করে দেন এক ধরনের ব্যবসায়ীদের কাছে। তারা এসব রস কিনে তৈরি করেন নেশাজাতীয় দ্রব্য। যা পান করে বিপদগামী হচ্ছে যুবসমাজসহ শ্রমজীবী মানুষ। এতে বাড়ছে ছিনতাই, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপকর্ম।
এলাকার গাছিসহ সাধারণ মানুষ জানান, সৈয়দপুর উপজেলা জুড়ে রয়েছে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি তাল ও খেজুর গাছ। সরকার যদি এসব গাছের রস দিয়ে গুড় উত্পাদন করত তাহলে যেমন একদিকে শিল্পে রূপ পেত, তেমনি এ অঞ্চলের বেকারত্ব দূর হতো।
বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন, সরকারি উদ্যোগ থাকলে সৈয়দপুর উপজেলা থেকে শুধু খেজুর ও তালগাছ থেকে শীত মৌসুমে বছরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?