Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

এনবিআরের জনবল নব্বই দশকের পর এখন সবচেয়ে কম

শাহ্জাহান সিরাজ সাজু
নব্বই দশকের পর এযাবতকালের সবচেয়ে কম জনবল নিয়ে সবচেয়ে বড় আকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লড়াই করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অথচ বিগত দুই দশকে আমদানি-রফতানি প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রদানকারী শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৩২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৫ গুণ। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে কাস্টম, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অনুবিভাগের ১০৭টি ভ্যাট সার্কেল, ২৮টি ভ্যাট বিভাগ, ৭টি কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ৩টি কাস্টম হাউস, একটি কাস্টম বন্ড কমিশনারেট বিদ্যমান আছে। যা রাজস্ব আহরণের পরিধি হিসেবে খুবই অপ্রতুল। কারণ বিগত দুই দশকে আমদানি-রফতানি প্রায় দ্বিগুণ এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রদানকারী শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৩২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া রাজস্ব আদায় ৪ দশমিক ৫ গুণ বৃদ্ধি পেলেও ১৯৯১ সালের পর থেকে জনবল ও দফতরের সংখ্যা আগের মতোই রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টে রিট থাকায় ১৯৮২ সালের পর থেকে প্রায় ২৬ বছর ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। জানা যায়, মানব সম্পদনির্ভর অপর্যাপ্ত মাসিক রিটার্ন পরীক্ষা ও নীরিক্ষার অভাবে মূসক ব্যবস্থায় ট্যাক্স এভয়ডেন্স এবং ট্যাক্স ইভিশন দুটোই বাড়ছে। কারণ নিরীক্ষা করদাতার তথ্য-চাহিদা পূরণ করে এবং আস্থা বাড়ায়। বিদ্যমান প্রায় সাড়ে ছয় লাখ নিবদ্ধিত মূসক প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মাত্র ৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী মনিটর করছেন। প্রতিমাসে প্রায় দেড় লাখ প্রতিষ্ঠানের মাসিক রিটার্র পরীক্ষা এত অল্প সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা অসম্ভব। তাছাড়া মোট মূসক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ অর্থাত্ প্রায় ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবছর নিরীক্ষার কথা থাকলেও বছরে গড়ে ৪৫০টি’র বেশি প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রায় ৯৮ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এছাড়া জনবলের অভাবে মূসক প্রদানে ভোক্তাদের সচেতন করা যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, এই বাস্তবতার নিরিখে সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে নতুন দফতর ও জনবল কাঠামো বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এনবিআর। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাস্টম, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অনুবিভাগের নতুন দফতর, জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, এ সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কাস্টম, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অনুবিভাগের বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গে নতুন ১৩৬টি ভ্যাট সার্কেল, ৫৯টি ভ্যাট বিভাগ, ৩টি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ৩টি কাস্টম হাউস, দুটি কাস্টম, বন্ড কমিশনারেট সৃষ্টি হবে। এই সংশোধিত কাঠামো বাস্তবায়নে এককালীন যানবাহন খাতে ৩২৪ কোটি এবং অফিস স্থাপনে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য ১২ হাজার জনবলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য বছরে খরচ হবে মাত্র ৫ কোটি টাকা।
সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামোর বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এনবিআর সদস্য মোঃ ফরিদ উদ্দিন আমার দেশ’কে বলেন, দেশের যেসব উপজেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে, কেবল সেসব এলাকায় এনবিআর সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কারণ ৯০ দশকের পরে এযাবতকালের সবচেয়ে কম জনবল নিয়ে এনবিআর সবচেয়ে বড় আকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লড়াই করছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সরকারের ব্যয় অন্যান্য বিভাগেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এনবিআরের ব্যয়টা সরাসরি সরকারের রাজস্ব আয়ের সঙ্গে জড়িত। তাই এনবিআর থেকে কাস্টম, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অনুবিভাগের নতুন দফতর, জনবল সৃষ্টির যে প্রস্তাব সরকারের কাছে দেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হলে বিদ্যমান রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে প্রতিবছর অন্তত এক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। যদিও তা প্রথম বছর সম্ভব হবে না।
কিন্তু ক্রমান্বয়ের তা বাড়বেই। প্রসঙ্গত, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুল্ক, আবগারী ও মূসক বিভাগের কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনে কিছু প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী গত ২৮ মে অনুমোদন করায় জনবল ও দফতর বৃদ্ধি এবং পুনর্বিন্যাস কাঠামোটি ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় প্রস্তাব আকারে উত্থাপিত হয় এবং তা বাজেটে পাস হয়।
এছাড়া গত ৭ জুলাই অর্থ উপদেষ্টা দেশীয় ব্যবসায় সম্প্রসারণের দিকটি বিবেচনা করে জেলা পর্যায়ে আরও ৫৯টি মূসক সার্কেল ও ৪৫টি মূসক বিভাগীয় দফতর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?