Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

এ বছরও কাগুজে শেয়ার থেকে মুক্ত হলো না পুঁজিবাজার : ডিমেট না করায় ২২ কোম্পানি ‘এ’ থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অবনমিত হচ্ছে

কাওসার আলম
এ বছরও কাগুজে শেয়ার থেকে মুক্ত হলো না দেশের শেয়ারবাজার। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রায় এক চতুর্থাংশ কোম্পানির শেয়ারই এখন পর্যন্ত কাগুজে। কাগুজে শেয়ার লেনদেনে নানা জটিলতার কারণে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কাগুজে শেয়ারকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে (ডিমেট) রূপান্তরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও কোম্পানিগুলো এ ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিমেট শেয়ারে রূপান্তরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া উচিত। বাজার ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই এটি করা প্রয়োজন।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগুজে শেয়ারকে ডিমেট শেয়ারে রূপান্তর না করায় আগামী বছর থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির ২২টি কোম্পানি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অবনমিত হচ্ছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির যেসব কোম্পানির কাগুজে শেয়ার রয়েছে সেগুলোকে ডিমেট শেয়ারে রূপান্তর করা না হলে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এসব কোম্পানি ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত হবে বলে এসইসি গত জুলাই মাসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এসইসির সে সিদ্ধান্তের কারণে ২৩টি কোম্পানি ‘এ’ থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত হবে। ফলে আগামী বছর থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোনো কোম্পানির আর কাগুজে শেয়ার থাকছে না। এর ফলে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ১৯১ থেকে কমে গিয়ে দাঁড়াবে ১৬৮টিতে। অপরদিকে ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির সংখ্যা হবে ৫০টি, বর্তমানে এ সংখ্যা ২৭টি।
পুঁজিবাজারে মোট চারটি ক্যাটাগরির কোম্পানি রয়েছে। ক্যাটাগরিগুলো হলো ‘এ’, ‘বি’, ‘এন’ এবং ‘জেড’। যেসব কোম্পানি তার শেয়ারহোল্ডারদের বছর শেষে কমপক্ষে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে থাকে সেগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানি, ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের কম নগদ লভ্যাংশদানকারী কোম্পানি ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, যেসব কোম্পানি কোনো নগদ লভ্যাংশ দেয় না সেগুলো ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নতুন কোম্পানি ‘এন’ ক্যাটাগরি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে থাকে। কিন্তু আগামী বছর থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত হতে হলে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ার কাগুজে হতে পারবে না।
কাগুজে শেয়ার রয়েছে এমনসব কোম্পানির শেয়ার ডিমেটে রূপান্তর করতে এসইসি এ ধরনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে মার্জিন লোন নিষিদ্ধ করেছে। মূলত পুঁজিবাজারের লেনদেন পুরোপুরি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় আনতে এসইসি কোম্পানির ওপর এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। কিন্তু তারপরও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো এ ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী হচ্ছে না। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটিড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২০টি কোম্পানি তাদের কাগুজে শেয়ারকে ডিমেটে রূপান্তর করেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর দুটি কোম্পানি তাদের কাগুজে শেয়ারকে ডিমেটে রূপান্তর করেছে। কোম্পানি দুটি হচ্ছে ফু ওয়াং ফুড এবং এপেক্স ফুড। এ দুটি কোম্পানিই ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত।
ডিএসই’র সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জানা গেছে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে লেনদেনকৃত কোম্পানির সংখ্যা ২৫৬টি। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ১৯১টি এবং কাগুজে শেয়ার রয়েছে ২৩টি কোম্পানির। ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত ২৭টি কোম্পানির মধ্যে ১৯টি কোম্পানির শেয়ারই কাগুজে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৩০ টি কোম্পানির মধ্যে ১৬টি কোম্পানির কাগুজে শেয়ার রয়েছে। অবশ্য ‘এন’ ক্যাটাগরির ৮টি কোম্পানির শেয়ারই ডিমেট শেয়ার।
কাগুজে শেয়ার লেনদেন একদিকে যেমন সময়সাপেক্ষ, অন্যদিকে এ ধরনের শেয়ার লেনদেনে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। আবার কাগুজে শেয়ারকে জাল করা যায় বিধায় এ ধরনের শেয়ার লেনদেনে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কাগুজে শেয়ারকে। কাগুজে শেয়ারের কারণে ভুয়া সার্টিফিকেট ছাপিয়ে অসাধুচক্র বাজার থেকে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারের ব্যবস্থাপনা কম্পিউটারাইজড করার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে থেকে ধীরে ধীরে ব্রোকারেজ হাউজ, তালিকাভুক্ত কোম্পানিসহ সার্বিক লেনদেন সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সিস্টেম (সিডিএস) ব্যবস্থায় নিয়ে আসা শুরু হয়। বর্তমানে যে কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হলে সেটিকে অবশ্য সিডিএসভুক্ত হতে হয়।
ডিএসই’র নভেম্বরের মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে কাগুজে শেয়ার রয়েছে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অবশ্য গত ২৪ ডিসেম্বর আরও দুটি কোম্পানির শেয়ার ডিমেটে রূপান্তরিত হওয়ায় এ পরিমাণ আরও কমে গেছে। তবে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) নামে আলাদা যে মার্কেট রয়েছে সেখানে তালিকাভুক্ত ৫১টি কোম্পানির মধ্যে ৫০টি কোম্পানির শেয়ারই কাগুজে।
এদিকে কাগুজে শেয়ারের কারণে যে কোম্পানিগুলো আগামী বছর ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অবনমিত হবে সেগুলো হলো মুন্নু জুটেক্স, মুন্নু স্টাফলার্স, জেমিনি সি ফুড, ন্যাশনাল টি, বাংলাদেশ প্লান্টেশন, হিল প্লান্টেশন, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, জুট স্পিনার্স, সোনালি আঁশ, সায়হাম টেক্সটাইল, প্রাইম টেক্সটাইল, ফার্মা এইডস, কোহিনূর কেমিকেলস, লিবরা ইনফিউশন, আজাদী প্রিন্টার্স, বাংলাদেশ হোটেলস, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, মুন্নু সিরামিক, দি ইঞ্জিনিয়ার্স, হিমাদ্রি, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?