Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

টিপাইমুখ নিয়ে উদ্বিগ্ন সিলেট

কাদির কল্লোল, বিবিসি
ভারতের প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধের প্রথম আঘাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ওপর পড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন সেখানকার জনগণ। তাদের কাছে এখনও বৈজ্ঞানিক তথ্যের অভাব রয়েছে, কিন্তু তারা লোকমুখে জেনেছেন টিপাইমুখ এলাকায় বরাক নদীর ওপর ভারত যে বাঁধ তৈরি করছে তাতে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক এক পরিবেশ সঙ্কট তৈরি হবে।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের শেষপ্রান্তে জকিগঞ্জ এলাকা। এই উপজেলা শহর থেকেও ১২ কিলোমিটার দূরে ভারতের আমলশিদ নামের এলাকায় বরাক নদীর মুখ। এখানেই ভারতের বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে দু’ভাগে ভাগ হয়ে সুরমা এবং কুশিয়ারা নাম নিয়েছে।
সীমান্তের এই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে নদীর অবস্থান দেখিয়ে দিতে দিতে স্থানীয় সাংবাদিক ফয়জুর রহমান খসরু বললেন, জীবনের সাত দশক পাড়ি দিয়ে এসে তিনি এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ, টিপাইমুখ এলাকায় বরাক নদীতে বাঁধ দেয়া হলে জকিগঞ্জ এলাকার মানুষ হবেন তার প্রথম শিকার।
বরাক নদীর জলে হাওরের মাছ আর কৃষিই হচ্ছে এ এলাকার মানুষের জীবিকার মূল শক্তি। নদীর তীরঘেঁষে বসবাসকারী মানুষের সঙ্গে কথা বললে মনে হয়, এখন তাদের সবার মধ্যেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে।
ছয় সন্তান আর স্বামীসহ আটজনকে নিয়ে আমেনা বেগমের সংসার। সংসার চালিয়ে নেয়ার অন্যতম একটি অবলম্বন হচ্ছে হাওরের মাছ। কিন্তু এবার বর্ষা মৌসুমেও নদীতে পানি সেরকম আসেনি। আমেনা বেগমের বসতবাড়ি, হাওর, জমি সবই শুকনো। গত বছর থেকেই এমনটি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি এবং লোকমুখে শুনে তার ধারণা হয়েছে ভারত বরাক নদীতে টিপাইমুখ এলাকায় বাঁধ তৈরি সম্পন্ন করেছে। আমেনা বেগমের মতো তার প্রতিবেশীদেরও একই ধারণা। তারাও লোকমুখে শুনেছেন, ভারত টিপাইমুখ এলাকায় বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র তৈরি করছে।
৮৫ বছর বয়সী আবদুল মাজেদ মিয়ার বসতবাড়ি বহুবার ভেঙেছে নদীভাঙনে। বসতবাড়ির জায়গা পরিবর্তন করতে হলেও সুরমা তীরবর্তী এলাকাতেই তিনি থেকেছেন সবসময়। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তার মনেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, ভারত বরাক নদীতে বাঁধ দিয়ে সিলেট অঞ্চল শুকিয়ে ফেলছে।
বরাক নদীতে বাঁধ হলে জকিগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ এবং গোটা সিলেট অঞ্চল পড়বে ক্ষতির মুখে। বরাক নদী দু’ভাগে ভাগ হয়ে সুরমা-কুশিয়ারা নাম নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে আবার ভৈরব এলাকায় এসে এক হয়ে মেঘনা নাম নিয়েছে।
দেশের অন্যতম প্রধান এই নদী মেঘনায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এ বাঁধ—এ আশঙ্কা থেকে সিলেটে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সেখানে বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত টিপাইমুখ প্রকল্প প্রতিরোধ কমিটির নেতা বেদানন্দ ভট্টাচার্য বলছেন, তারা স্থানীয়ভাবে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছেন।
ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংগঠন সেখানে গিয়ে লংমার্চের মতো বড় ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে। সিলেট বিভাগ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ তিনদিন ধরে লংমার্চ করেছে ওই এলাকায়। কিছুদিন আগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীও সেখানে লংমার্চ এবং নৌমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে।
সিলেটে বিরোধী দল বিএনপি এ ব্যাপারে যেমন সোচ্চার তেমনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী যারা আছেন তারাও কিন্তু টিপাইমুখ প্রকল্পের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং আওয়ামী লীগ নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, বিষয়টিতে সবার ঐক্যবদ্ধভাবে এগুনো উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে সরকার যেসব তথ্য তুলে ধরেছে তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না সিলেট অঞ্চলের মানুষ। সিলেটের জকিগঞ্জের একটি বাজারে ব্যবসায়ী মনোয়ার আলীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তার বক্তব্য হচ্ছে, তাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি বেড়েই চলেছে। তার সঙ্গে কথা বলার সময় সেখানে জড়ো হয়েছিলেন আরও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। তারাও একই রকম বক্তব্য তুলে ধরেন।
সুরমা এবং কুশিয়ারা নদীর পাড়ের মানুষ টিপাইমুখ প্রকল্পের ব্যাপারে সঠিক তথ্য এবং পরিষ্কার চিত্র জানতে চান। দল-মত নির্বিশেষে স্থানীয় রাজনীতিকরাও একইভাবে ভাবেন বলে মনে হয়েছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?