Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৩ পৌষ ১৪১৬, ৭ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

থার্টিফার্স্ট নাইটে সমুদ্র পাড়ে বর্ষবরণ : কক্সবাজার এখন মানুষের শহর

আনছার হোসেন, কক্সবাজার
পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এখন মানুষের শহরে রূপ নিয়েছে। যেখানেই যাবেন সেখানেই দলে দলে মানুষ। এরা কিন্তু কক্সবাজারের আলো-বাতাস খেয়ে বেড়ে ওঠা কেউ নন! মহান স্রষ্টার দেয়া অকৃত্রিম সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য দেখতেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন তারা। শুধু সমুদ্র দেখা নয়, সমুদ্রের কাছে দাঁড়িয়ে ইংরেজি বর্ষ বিদায় ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ উদযাপন আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ছুটে আসছে হাজার হাজার মানুষ। ২০০৯ সালকে বিদায় জানানোর এই আয়োজনকে সামনে রেখেই কক্সবাজারের দেড় শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্ট হাউস অগ্রিম বুকিং হয়ে আছে অনেকদিন আগে থেকেই। যেখানে অবস্থান করতে পারবেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ কাটাতে কক্সবাজারে অবস্থান করবে দু’লাখেরও বেশি মানুষ।
কেস স্টাডি-১ : স্বপন ঢাকার কাকরাইলের ব্যবসায়ী। তিনি বছরের শেষ মুহূর্তে স্ত্রী ও একমাত্র শিশুকন্যাকে নিয়ে কক্সবাজার আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন অনেকদিন আগেই। কিন্তু তিনি একটা ভুল করে ফেলেছেন। তিনি সময় মতো হোটেল বুকিং দিতে পারেননি। তবুও মধ্য ডিসেম্বরে যখন হোটেলের খোঁজ নিতে শুরু করলেন তখন দেখেন বুকিং পাওয়া এক দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও একটি রুম পেলেন, কিন্তু গাড়ির টিকিট নিতে গিয়ে দেখেন এমন কোনো বিলাসবহুল গাড়ি নেই, যেখানে কক্সবাজার আসার দুটি সিট তিনি পাবেন। শেষ পর্যন্ত তিনি কক্সবাজার আসার সিদ্ধান্ত বাতিলই করলেন।
কেস স্টাডি-২ : ঢাকার একটি প্রথম শ্রেণীর দৈনিক পত্রিকার হিসাবরক্ষক মিজানুর রহমান। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার পৌঁছেছেন। সঙ্গে তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসহ তিনটি পরিবার। হোটেলে বুকিং দেয়া হয়েছে ৩টি রুমের। এসে দেখেন রুম পাওয়া গেল মাত্রই একটি। দুটি আবার কোনো রকমে ম্যানেজ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন তিনি। এই হলো কক্সবাজারের বর্তমান অবস্থা। মানুষ আসতে চাইলেও রাত কাটানোর রুমের অভাবে আসতে পারছেন না। যদিও দেড় শতাধিক হোটেল-মোটেলে এখন অর্ধলক্ষাধিক পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।
হোটেল দেড় শতাধিক, রুম নেই একটিও : কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদারের মতে, কক্সবাজার শহরে এখন দেড়শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস গড়ে উঠেছে। শহরের বাইরেও রয়েছে কিছু হোটেল ও ফ্ল্যাট বাড়ি। হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে বর্তমানে ৬০ হাজার মানুষ অবস্থান করে রাত কাটাতে পারেন।
আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘প্রতি বছরই থার্টিফার্স্ট নাইট’ ও নববর্ষকে সামনে রেখে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটে কক্সবাজারে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তিনি মনে করছেন, এবার অন্তত দু’লাখ মানুষ সমুদ্র সৈকতে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করবেন।’
সর্বত্রই ‘নাই’ ‘নাই’ অবস্থা : কক্সবাজার শহরে এ পর্যন্ত গড়ে ওঠা হোটেলগুলোর মধ্যে অভিজাত বলে মনে করা হয় হোটেল সি-গাল, সি-প্যালেস, প্রাসাদ প্যারাডাইজ, মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল, লাবণী ও শৈবালকে। এসব হোটেলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বত্রই ‘নাই’ ‘নাই’ অবস্থা। হোটেল সি-গাল সূত্র জানায়, অনেক আগেই তাদের সবক’টি রুমই বুকিং হয়ে আছে। তাদের রুম রয়েছে ১৮১টি অথচ বুকিং ১৯১টি। এখন তারা চিন্তাই আছেন, কীভাবে ১০ জনের বুকিং বাতিল করানো যায়। হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইজ ও হোটেল লাবণীও জানিয়েছে, তাদের সবক’টি রুম ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং হয়ে আছে। প্রাসাদ প্যারাডাইজের রুম রয়েছে ৮১টি আর লাবণীতে আছে ১০০টি রুম। হোটেল সি-প্যালেস সূত্র এখনও সব রুম বুকিং না থাকার কথা বললেও তারা মনে করছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটের আগেই সব রুম বুকিং হয়ে যাবে। তাদের আছে ১৭০টি রুম। সাধারণমানের অন্য হোটেল, গেস্ট হাউসগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। তাদের রুমগুলো বুকিং হওয়ার পরও এখনও ফোনের পর ফোন আসছে এগুলোতে।
থার্টিফার্স্ট নাইটের আয়োজন : হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজারে প্রতি বছরই থার্টিফার্স্ট নাইট কাটাচ্ছেন। প্রতি বছরই এ সংখ্যা বাড়ছে। এবারও যারা আসছেন তারা কীভাবে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করবেন? তাদের জন্য বিভিন্ন হোটেল ও মোটেলে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন। প্রাসাদ প্যারাডাইজের কর্মকর্তা দিদারুল আলম জানিয়েছেন, তাদের পার্টনার প্রতিষ্ঠান ‘ভ্রমণ ট্যুরস’ থার্টিফার্স্ট নাইটে ওপেন এয়ার কনসার্টের আয়োজন করছে। সাধারণের জন্যও দর্শনীর বিনিময়ে এ আয়োজন উন্মুক্ত থাকবে।
হোটেল সি-গাল সূত্র জানায়, থার্টিফার্স্ট নাইটে মার্কেট এক্সেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান হোটেল সি-গালে ‘ডিজে’ প্রোগ্রামের আয়োজন করছে। এই আয়োজনের মধ্যদিয়ে তারা নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন। হোটেল লাবণীর সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের হোটেলে নিজস্ব কোনো আয়োজন না থাকলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ‘ইনডোর প্রোগ্রাম’ থাকছে অনেকগুলো। অনেক হোটেলেই এ রকম আয়োজন থাকছে।
এনটিভির বিচ কনসার্ট : ৩১ ডিসেম্বর বিকালে সমুদ্র সৈকতের বালুকাবেলায় এনটিভি আয়োজন করছে ‘বিচ কনসার্ট’। এনটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত এই কনসার্ট শেষ হবে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে। এই আয়োজনে ঢাকা থেকে আসছেন অনেক প্রখ্যাত তারকাশিল্পী।
পর্যটকরা যাবেন কোথায়? : লাখ লাখ পর্যটক কক্সবাজার এসে শুধু কি সমুদ্র সৈকত দেখবেন আর সৈকতেই ঘুরে বেড়াবেন? এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। তাদের জন্য উত্তর হলো, শুধু সমুদ্র সৈকত নয়, হিমছড়ির ঝরনা, ইনানির পাথুরে সৈকত আর ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। তাছাড়াও মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামু রামকোট মন্দিরও দেখার মতোই স্থান। সেন্টমার্টিন দ্বীপ তো পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় ও লোভনীয় একটি দ্বীপ। জাহাজে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের মজাই অন্য রকম।
খাবেন কোথায়? : শুধু কি ঘুরলেই চলবে। পেটে খিদে থাকলে তো বেড়ানোর আনন্দ আর আনন্দ থাকবে না। এই খাবারের জন্য এখন পর্যটকদের বেশি দৌড়াতে হবে না। নতুন গড়ে ওঠা প্রায় প্রতিটি হোটেল, গেস্ট হাউসেই নিজস্ব রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি রেস্টুরেন্টেই আবার ভালোমানের খাবার পাবেন, এ নিশ্চয়তা দেয়া যাবে না। তবে যারা পারিবারিক পরিবেশে ভালো খাবার খেতে চান তাদের কিন্তু হোটেল ছেড়ে কক্সবাজারের মূল শহরে ঢুকতে হবে। শহরের সায়মান সড়কে পউষী ও ঝাউবন পর্যটকদের জন্য খাবার জগতে অদ্বিতীয় হয়ে উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সমুদ্র সৈকতের বেশকিছু রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে, যেখানে বিকালে নাশতা সেরে নেয়া উত্তম হতে পারে।
কী কিনবেন, কোথায় কিনবেন : কক্সবাজার এসে ঝিনুক মার্কেট আর বার্মিজ মার্কেটে যাবেন না, এমন পর্যটক খুঁজে পাওয়া যাবে না। সবাই একবার হলেও এ মার্কেটগুলোতে ঢুঁ মারেই। ইদানীং এক প্রকার ‘ফ্যাশন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে শুঁটকি কেনা। এখন সমুদ্র পাড়েও শুঁটকির দোকান গড়ে উঠেছে। ঝিনুক মার্কেটে ঝিনুক শামুকের তৈরি পণ্যই বেশি পাওয়া যায়। পর্যটকরা অবশ্যই এটি ঘুরে দেখেন। সমুদ্র সৈকতের ঝিনুকের দোকানগুলো গড়ে উঠেছে। কিন্তু বার্মিজ মার্কেটগুলো শহরের বাজারঘাটা এলাকায় গড়ে উঠলেও এখন তা সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। সমুদ্র পাড়ে, হোটেল লবিতে এখন বার্মিজ পণ্যের দোকানের দেখা মিলছে।
এ মার্কেটগুলোতে বার্মিজ পণ্য বলতে প্রথমেই ‘আচার’কেই মনে করা হয়। তারপর বার্মিজ থামি, লুঙ্গি, স্যান্ডেল ও চাদর এবং নানা প্রকার প্রসাধন ও শোপিচ কেনা যায়।
সাবধান, ঠকবেন না : এখন বার্মিজ মার্কেটগুলোতে বার্মিজ পণ্যের চেয়েও দেশি পণ্যই বেশি। দেশি পণ্যই বার্মিজ বলে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কক্সবাজার শহরে আচার ও স্যান্ডেল তৈরি করে তা বার্মিজ বলে বিক্রি করা হয়। একটু সতর্ক হলেই এ প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে পারেন আপনিও।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?