রাজশাহীতে পদ্মার পানি দেখতে চার কিলোমিটার হাঁটতে হয় : যেদিকে চোখ যায় বালু আর বালু
সরদার এম. আনিছুর রহমান, রাজশাহী
গতকাল শুক্রবার ভর দুপুরে পদ্মার চর থেকে রুমেল, শাহীন, শফিক ও পান্না নামের তিন শিশু খড়ের বোঝা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। তাদের চেহারায় ক্লান্তির ছাপ। কোথায় গিয়ে ছিলে জিজ্ঞেস করতেই তারা বলে আমরা পানি দেখতে সকালে বেরিয়েছিলাম। মায়ের রান্নার জন্য এগুলো চর থেকে নিয়ে যাচ্ছি। নদীর পানি কতদূরে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন অনেক দূর। পানি দেখতে হলে আপনাকে আরও প্রায় এক ঘন্টা হাঁটতে হবে। তারা আরও বলেন, আমরা শখ করে পদ্মার পানি দেখতে গিয়েছিলাম। গতকাল শুক্রবার তারা এভাবেই পদ্মার করুণ অবস্থার কথা এ প্রতিবেদকের কাছে ব্যক্ত করছিলেন।
পদ্মার মরণ বাঁধ ফারাক্কার বিরুপ প্রভাব আর বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে প্রমত্তা পদ্মা এখন বিশাল মরুভুমিতে পরিণত হয়েছে। রাজশাহী শহর থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে নদী। নদী তীরবর্তী লোকজন জানান, গত কয়েক বছরে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে মূল নদী। এখন রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদী দেখতে হলে দীর্ঘ বালুকারাশির পথ পারি দিতে হয়। ্এবার শুষ্ক মৌসুম শুরু না হতেই প্রমত্তা পদ্মা নদীর পানি বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার এই সময়ে পানির উচ্চতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। নদীর বুকে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল চর, নদীর মূলধারা বিভক্ত হয়ে পড়েছে অসংখ্য সরু ও ক্ষীণ সে্রাতধারায়। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ চর ফসলীক্ষেত, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার মাঠ হিসাবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায়। এতে বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়াও পদ্মার স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টির ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের পাশাপাশি ফারাক্কার বাঁধের প্রভাবের কারণে পদ্মার এই করুণ অবস্থা। এর ফলে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাতও কমে যাচ্ছে। বর্ষার ভরা মৌসুমেও এবার এ অঞ্চলে ছিল প্রচন্ড খরা। আর পানির সত্মর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। পানির প্রবাহ হ্রাস পেয়ে চর পড়ে পদ্মা নদী রাজশাহী শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে সরে গিয়ে একটি ক্ষীণ ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে অঞ্চলের ফসল ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। তিনি আরও বলেন, যে পদ্মার বুকে কোনো চর ছিল না, সেখানে এখন বিরাট চর জেগেছে। এটা হচ্ছে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে। আগে প্রবল স্রোতের সঙ্গে পলি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ত। এখন আর সেটা হচ্ছে না। মাঝখানে চর ফেলে একাধিক ক্ষীণ ধারায় আঁকাবাঁকা হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজশাহীর পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মার পানি এবার তুলনামূলকভাবে দ্রুত কমেছে। নদীর সর্বত্র একূল-ওকূল মাইলের পর মাইল ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে আরও অসংখ্য চর জেগে উঠবে বলে অভিজ্ঞজনদের অভিমত। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ এবং তার ওজানে গঙ্গা নদীর পানি এবার আগেভাগেই একতরফাভাবে প্রত্যাহারের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) স্থানীয় অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পদ্মার পানি কমতে শুরু করে গত সেপ্টেম্বর শুরু থেকেই। ১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী (বোয়ালিয়া-রামপুর) পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ২৮ মিটার, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৫.৮৯ মিটার। ৩০ সেপ্টেম্বর দাঁড়ায় ১৪.৩৫ মিটার। এরপর ১৫ অক্টোবর পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ১৫.৪৩ মিটারে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তা দ্রুত কমে ৩১ অক্টোবর ১২. ৯৩ মিটারে এসে দাঁড়ায়। গত ১৫ নভেম্বর ছিল ১১.৪২ মিটার, ১ ডিসেম্বর ১০.৮৮ মিটার এবং গত ১৫ ডিসেম্বর ছিল ১০.৭৭ মিটার। গত কয়েক দিনে আরো কমে ১০.৬০ মিটারে নেমে এসেছে। আর এটাই চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন পানি প্রবাহ বলে জানা গেছে। জানুয়ারি মাসে পানির উচ্চ আরো দ্রুত কমবে। যা এই সময়ে গত বছরের তুলনায় পানির উচ্চতা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। যেভাবে পদ্মার পানি কমছে তাতে এ মাসের শেষ নাগাদ ১০ মিটারের নীচে নেমে যাবে বলে অভিজ্ঞজনের অভিমত। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মার্চ-এপ্রিলে পানি প্রবাহ পূর্বের যে কোন বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌছবে। এতে বাংলাদেশ বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল আরো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। ফলে অতীতের যে কোন বছরের তুলনায় এবার পদ্মায় পানির উচ্চতা রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।
পাউবো কর্মকর্তারা বলছেন, এবার পদ্মায় পানি নেই বললেই চলে। কারণ শুষ্ক মৌসুম না আসতেই মাইলের পর মাইল বিশাল বিশাল বালু চর জেগে উঠেছে। ফলে এবার বাংলাদেশ তথা উত্তরাঞ্চল আরও বেশী বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়বে।
সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর তুলনামূলক এই সময়ে এ বছর পদ্মা নদীতে পানির উচ্চতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। গঙ্গা নদীর উজানে, বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধ পয়েন্টে আগেভাগেই ভারতের অতিরিক্ত হারে পানি প্রত্যাহারের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় পাউবো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এদিকে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় এর বিরূপ প্রভাবে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে এসব এলাকায় হাজার হাজার হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠার পরিমাণও কমে যাচ্ছে। অগভীর নলকূপগুলো বিকল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানিবিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে এবছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কম হয়েছে। একদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, অন্যদিকে পদ্মায় পানি না থাকা এবং মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির সত্মর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। গত বছর ১৮ মে রাজশাহী পাউবোর আয়োজনে ‘প্রসত্মাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প’ শীর্ষক সেমিনারে পাউবোর তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান এক প্রতিবেদনে ভূগর্ভস্থ পানির সত্মর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার একটি চিত্র তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পানির সত্মর নিম্নগামী হতে হতে ২০০৫ সালে প্রায় চার মিটারেরও বেশি নিচে নেমে এসেছে। তবে এর মধ্যে ২০০০ সালে পানির সত্মর একটু উপরে উঠেছিল। তাও ১৯৯৬ সালের উচ্চতার নিচেই ছিল।
রাজশাহী পাউবোর পানিবিজ্ঞান বিভাগের গোদাগাড়িতে বসানো ৮০-রাজ কূপের পরিমাপ অনুযায়ী গত ২০০৮ সালের মে মাসের চেয়ে এ বছরের মে মাসে ভূগর্ভস্থ পানির তল ৪০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেছে। এদিকে আজ থেকে দুই বছর আগে রাজশাহীতে এসে যারা শহরের পাশে পদ্মার ঢেউ দেখেছিলেন, এখন সেখানে কোন নদী নেই বললেই চলে। যতদূর চোখ যায়, কাশবন আর বালুচর। রাজশাহী শহরের কাছে প্রায় চার কিলোমিটার চর ফেলে পদ্মা নদী সরে গেছে দক্ষিণে। গত চার-পাঁচ বছরে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন হলেও এবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা হয়েছে বলে নদীর তীরবর্ত লোকজন জানান। এতে বদলে গেছে রাজশাহী শহরের আবহাওয়া ও পরিবেশ।
উল্লেখ্য, গঙ্গা নদী থেকে কমপক্ষে ৪০ হাজার কিউসেক (প্রতি সেকেন্ডে এক ঘনফুট) পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারত গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে। ১৯৭৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পর বাংলাদেশকে তার ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে ভারত গঙ্গা নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিতে থাকে। এর ফলে বাংলাদেশ এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। কয়েকটি অন্তর্বতীকালীন ব্যবস্থার পর ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে ভারত ও বাংলাদেশ অবশেষে স্বাক্ষর করে ৩০ সালা পানি বণ্টন চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৫০দিন গঙ্গার পানি বণ্টন করা হয়। চরম শুষ্ক সময়ে( ১মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত) উভয় দেশের ১০দিন পরপর কমপক্ষে ৩৫হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ভারত এই চুক্তি পুরোপুরি অনুসরণ করে না। প্রতিবছরই পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এ বছর তুলনামূলক অনেক আগেই পদ্মা নদীর পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় ফলে বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী তার ন্যায্য হিস্যা পাওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে অবিলম্বে পদ্মায় ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে উত্তরাঞ্চলকে মরু প্রক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষার দাবীতে সোচ্চার রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এ জন্য জেলার বিভিন্ন উপজেলা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। তারা বৈশ্বিক জলবায়ূ পরিবর্তনে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানান। মানববন্ধনে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী মানুষ, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। এতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন রাজশাহী রাজণীতিবিদরাও।
এ সব কর্মসূচি থেকে বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বঞ্চিত রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে গভীর নলকূপ দিয়ে ধান চাষের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর শুস্ক মৌসুম শুরু আগেই অনেক নীচে নেমে গেছে। ফলে আগামীতে বোরো আবাদ নিয়ে এখনই শংকিত হয়ে পড়েছে বৃহত্তর এ অঞ্চলের কৃষক। এ অবস্থায় উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প নেই দাবী করে তারা আরো বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ূ পরিবর্তন মোকাবেলায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে বৃহত্তর এ অঞ্চলকে মরু প্রকৃয়ার হাত থেকে কখনোই বাঁচানো যাবেনা। একই সাথে দেশের নদী সংস্কারের তালিকায় রাজশাহীর পদ্মা অন্তভূক্ত করে নদী ড্রেজিংয়ের আহবান জানান বক্তারা।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক জামাত খান বলেন, ফারাক্কার বিরুপ প্রভাবে পদ্মায় ব্যাপকহারে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে রুক্ষ বরেন্দ্র অঞ্চল আরো রুক্ষ হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে জলবায়ূ পরিবর্তনের কুফল ভোগ করছে এ এলাকার মানুষ। এটিকে জলবায়ূ পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন এ পরিস্থিতিতে ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ রক্ষা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খাল-বিল ও জলাশয়ে সব সময় পানি থাকবে, আবহাওয়ায় জলীয় বাস্পের উপস্থিতি থাকবে। ফলে আবহাওয়া সহনশীল হয়ে উঠবে। তিনি আরো বলেন, গভীর নলকুপের মাধ্যমে সেচ প্রকল্প ব্যবস্থা সাময়িক। মাত্র ১০/১২ বছরের মধ্যেই অকেজো হয়ে যায়।
তিনি গবেষকদের উদৃতি দিয়ে বলেন, বন্যামুক্ত বরেন্দ্র অঞ্চলে নলকূপের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা যেখানে ১৫০ এর উর্ধে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা, সেখানে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রকল্প এলাকায় ফসলের নিবিড়তা ৩০০ তে উত্তীর্ণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন বিএমডিএ প্রকল্পটি ছিল পরীক্ষা মূলক। কিন্তু পর্যায়ক্রমে বিশাল এলাকা জুড়ে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র নলকূপ বসানোর কারনে দারুনভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর। তিনি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নিকট বৈশ্বিক জলবায়ূ পরিবর্তনে প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জোর দাবী জানান।
পদ্মার মরণ বাঁধ ফারাক্কার বিরুপ প্রভাব আর বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে প্রমত্তা পদ্মা এখন বিশাল মরুভুমিতে পরিণত হয়েছে। রাজশাহী শহর থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে নদী। নদী তীরবর্তী লোকজন জানান, গত কয়েক বছরে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে মূল নদী। এখন রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদী দেখতে হলে দীর্ঘ বালুকারাশির পথ পারি দিতে হয়। ্এবার শুষ্ক মৌসুম শুরু না হতেই প্রমত্তা পদ্মা নদীর পানি বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার এই সময়ে পানির উচ্চতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। নদীর বুকে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল চর, নদীর মূলধারা বিভক্ত হয়ে পড়েছে অসংখ্য সরু ও ক্ষীণ সে্রাতধারায়। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ চর ফসলীক্ষেত, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার মাঠ হিসাবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায়। এতে বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়াও পদ্মার স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টির ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের পাশাপাশি ফারাক্কার বাঁধের প্রভাবের কারণে পদ্মার এই করুণ অবস্থা। এর ফলে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাতও কমে যাচ্ছে। বর্ষার ভরা মৌসুমেও এবার এ অঞ্চলে ছিল প্রচন্ড খরা। আর পানির সত্মর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। পানির প্রবাহ হ্রাস পেয়ে চর পড়ে পদ্মা নদী রাজশাহী শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে সরে গিয়ে একটি ক্ষীণ ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে অঞ্চলের ফসল ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। তিনি আরও বলেন, যে পদ্মার বুকে কোনো চর ছিল না, সেখানে এখন বিরাট চর জেগেছে। এটা হচ্ছে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে। আগে প্রবল স্রোতের সঙ্গে পলি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ত। এখন আর সেটা হচ্ছে না। মাঝখানে চর ফেলে একাধিক ক্ষীণ ধারায় আঁকাবাঁকা হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজশাহীর পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মার পানি এবার তুলনামূলকভাবে দ্রুত কমেছে। নদীর সর্বত্র একূল-ওকূল মাইলের পর মাইল ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে আরও অসংখ্য চর জেগে উঠবে বলে অভিজ্ঞজনদের অভিমত। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ এবং তার ওজানে গঙ্গা নদীর পানি এবার আগেভাগেই একতরফাভাবে প্রত্যাহারের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) স্থানীয় অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পদ্মার পানি কমতে শুরু করে গত সেপ্টেম্বর শুরু থেকেই। ১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী (বোয়ালিয়া-রামপুর) পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ২৮ মিটার, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৫.৮৯ মিটার। ৩০ সেপ্টেম্বর দাঁড়ায় ১৪.৩৫ মিটার। এরপর ১৫ অক্টোবর পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ১৫.৪৩ মিটারে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তা দ্রুত কমে ৩১ অক্টোবর ১২. ৯৩ মিটারে এসে দাঁড়ায়। গত ১৫ নভেম্বর ছিল ১১.৪২ মিটার, ১ ডিসেম্বর ১০.৮৮ মিটার এবং গত ১৫ ডিসেম্বর ছিল ১০.৭৭ মিটার। গত কয়েক দিনে আরো কমে ১০.৬০ মিটারে নেমে এসেছে। আর এটাই চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন পানি প্রবাহ বলে জানা গেছে। জানুয়ারি মাসে পানির উচ্চ আরো দ্রুত কমবে। যা এই সময়ে গত বছরের তুলনায় পানির উচ্চতা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। যেভাবে পদ্মার পানি কমছে তাতে এ মাসের শেষ নাগাদ ১০ মিটারের নীচে নেমে যাবে বলে অভিজ্ঞজনের অভিমত। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মার্চ-এপ্রিলে পানি প্রবাহ পূর্বের যে কোন বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌছবে। এতে বাংলাদেশ বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল আরো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। ফলে অতীতের যে কোন বছরের তুলনায় এবার পদ্মায় পানির উচ্চতা রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।
পাউবো কর্মকর্তারা বলছেন, এবার পদ্মায় পানি নেই বললেই চলে। কারণ শুষ্ক মৌসুম না আসতেই মাইলের পর মাইল বিশাল বিশাল বালু চর জেগে উঠেছে। ফলে এবার বাংলাদেশ তথা উত্তরাঞ্চল আরও বেশী বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়বে।
সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর তুলনামূলক এই সময়ে এ বছর পদ্মা নদীতে পানির উচ্চতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। গঙ্গা নদীর উজানে, বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধ পয়েন্টে আগেভাগেই ভারতের অতিরিক্ত হারে পানি প্রত্যাহারের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় পাউবো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এদিকে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় এর বিরূপ প্রভাবে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে এসব এলাকায় হাজার হাজার হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠার পরিমাণও কমে যাচ্ছে। অগভীর নলকূপগুলো বিকল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানিবিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে এবছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কম হয়েছে। একদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, অন্যদিকে পদ্মায় পানি না থাকা এবং মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির সত্মর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। গত বছর ১৮ মে রাজশাহী পাউবোর আয়োজনে ‘প্রসত্মাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প’ শীর্ষক সেমিনারে পাউবোর তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান এক প্রতিবেদনে ভূগর্ভস্থ পানির সত্মর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার একটি চিত্র তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পানির সত্মর নিম্নগামী হতে হতে ২০০৫ সালে প্রায় চার মিটারেরও বেশি নিচে নেমে এসেছে। তবে এর মধ্যে ২০০০ সালে পানির সত্মর একটু উপরে উঠেছিল। তাও ১৯৯৬ সালের উচ্চতার নিচেই ছিল।
রাজশাহী পাউবোর পানিবিজ্ঞান বিভাগের গোদাগাড়িতে বসানো ৮০-রাজ কূপের পরিমাপ অনুযায়ী গত ২০০৮ সালের মে মাসের চেয়ে এ বছরের মে মাসে ভূগর্ভস্থ পানির তল ৪০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেছে। এদিকে আজ থেকে দুই বছর আগে রাজশাহীতে এসে যারা শহরের পাশে পদ্মার ঢেউ দেখেছিলেন, এখন সেখানে কোন নদী নেই বললেই চলে। যতদূর চোখ যায়, কাশবন আর বালুচর। রাজশাহী শহরের কাছে প্রায় চার কিলোমিটার চর ফেলে পদ্মা নদী সরে গেছে দক্ষিণে। গত চার-পাঁচ বছরে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন হলেও এবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা হয়েছে বলে নদীর তীরবর্ত লোকজন জানান। এতে বদলে গেছে রাজশাহী শহরের আবহাওয়া ও পরিবেশ।
উল্লেখ্য, গঙ্গা নদী থেকে কমপক্ষে ৪০ হাজার কিউসেক (প্রতি সেকেন্ডে এক ঘনফুট) পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারত গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে। ১৯৭৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পর বাংলাদেশকে তার ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে ভারত গঙ্গা নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিতে থাকে। এর ফলে বাংলাদেশ এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। কয়েকটি অন্তর্বতীকালীন ব্যবস্থার পর ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে ভারত ও বাংলাদেশ অবশেষে স্বাক্ষর করে ৩০ সালা পানি বণ্টন চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৫০দিন গঙ্গার পানি বণ্টন করা হয়। চরম শুষ্ক সময়ে( ১মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত) উভয় দেশের ১০দিন পরপর কমপক্ষে ৩৫হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ভারত এই চুক্তি পুরোপুরি অনুসরণ করে না। প্রতিবছরই পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এ বছর তুলনামূলক অনেক আগেই পদ্মা নদীর পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় ফলে বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী তার ন্যায্য হিস্যা পাওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে অবিলম্বে পদ্মায় ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে উত্তরাঞ্চলকে মরু প্রক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষার দাবীতে সোচ্চার রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এ জন্য জেলার বিভিন্ন উপজেলা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। তারা বৈশ্বিক জলবায়ূ পরিবর্তনে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানান। মানববন্ধনে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী মানুষ, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। এতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন রাজশাহী রাজণীতিবিদরাও।
এ সব কর্মসূচি থেকে বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বঞ্চিত রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে গভীর নলকূপ দিয়ে ধান চাষের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর শুস্ক মৌসুম শুরু আগেই অনেক নীচে নেমে গেছে। ফলে আগামীতে বোরো আবাদ নিয়ে এখনই শংকিত হয়ে পড়েছে বৃহত্তর এ অঞ্চলের কৃষক। এ অবস্থায় উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প নেই দাবী করে তারা আরো বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ূ পরিবর্তন মোকাবেলায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে বৃহত্তর এ অঞ্চলকে মরু প্রকৃয়ার হাত থেকে কখনোই বাঁচানো যাবেনা। একই সাথে দেশের নদী সংস্কারের তালিকায় রাজশাহীর পদ্মা অন্তভূক্ত করে নদী ড্রেজিংয়ের আহবান জানান বক্তারা।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক জামাত খান বলেন, ফারাক্কার বিরুপ প্রভাবে পদ্মায় ব্যাপকহারে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে রুক্ষ বরেন্দ্র অঞ্চল আরো রুক্ষ হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে জলবায়ূ পরিবর্তনের কুফল ভোগ করছে এ এলাকার মানুষ। এটিকে জলবায়ূ পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন এ পরিস্থিতিতে ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ রক্ষা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খাল-বিল ও জলাশয়ে সব সময় পানি থাকবে, আবহাওয়ায় জলীয় বাস্পের উপস্থিতি থাকবে। ফলে আবহাওয়া সহনশীল হয়ে উঠবে। তিনি আরো বলেন, গভীর নলকুপের মাধ্যমে সেচ প্রকল্প ব্যবস্থা সাময়িক। মাত্র ১০/১২ বছরের মধ্যেই অকেজো হয়ে যায়।
তিনি গবেষকদের উদৃতি দিয়ে বলেন, বন্যামুক্ত বরেন্দ্র অঞ্চলে নলকূপের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা যেখানে ১৫০ এর উর্ধে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা, সেখানে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রকল্প এলাকায় ফসলের নিবিড়তা ৩০০ তে উত্তীর্ণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন বিএমডিএ প্রকল্পটি ছিল পরীক্ষা মূলক। কিন্তু পর্যায়ক্রমে বিশাল এলাকা জুড়ে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র নলকূপ বসানোর কারনে দারুনভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর। তিনি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নিকট বৈশ্বিক জলবায়ূ পরিবর্তনে প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জোর দাবী জানান।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


