Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, ১০ পৌষ ১৪১৬, ৬ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ইনজুরির কাছে হেরে টেস্ট ছাড়লেন শেন বন্ড

স্পোর্টস ডেস্ক
বয়স হয়ে গেছে ৩৪। একজন ফাস্ট বোলারের আয়ু এর চেয়ে বেশি হওয়ার নজির খুব বেশি নেই। কিন্তু নয় বছরের ক্যারিয়ারে কোনো ফাস্ট বোলারকে যদি মাত্র ১৮টি টেস্ট খেলে অবসর নিতে হয়, তাহলে খেদ তো থাকবেই। বিশেষ করে যিনি বিশ্বমানের পেস বোলার হওয়ার সব উপাদান নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু ইনজুরি তাকে সেরাটা দেয়ার আগেই সরিয়ে দিল টেস্ট ক্রিকেট থেকে। হতভাগা বোলারটি হচ্ছেন কিউই ফাস্ট বোলার শেন বন্ড। শেষ পর্যন্ত চোটের কাছেই আত্মসমর্পণ করলেন শেন বন্ড। টেস্ট ক্রিকেটকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে দিলেন এই নিউজিল্যান্ড ফাস্ট বোলার। দেশের হয়ে এখন শুধু ওয়ানডে এবং টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ম্যাচে দেখা যাবে তাকে।
এ বছরের শুরুতে আইসিএল (ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগ) ছেড়ে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন বন্ড। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ব্ল্যাক ক্যাপদের হয়ে যোগ দেন। এরপর ডানেডিনে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে তার দুর্দান্ত গতিতে নাস্তানাবুদ করে টেস্ট ক্রিকেটে তার প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখেন। কিন্তু তলপেটের মাংসপেশিতে টান পড়ায় পরের দুই টেস্টের জন্য হয়ে যান দর্শক। শেষ পর্যন্ত দুই টেস্ট নয়, সারা জীবনের জন্যই টেস্ট ক্রিকেটে দর্শক হয়ে গেলেন বন্ড।
২০০১ সালে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল তার। দীর্ঘ ৯ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে ইনজুরির কারণে মাত্র ১৮টি টেস্ট খেলেছেন, উইকেট পেয়েছেন ৮৭টি। ইনজুরির কারণে ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলা হয়নি। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি দুর্দান্ত সিরিজের পর হাঁটুর চোটের কারণে ৯ মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আবারও নির্বাসনে চলে যান। বার বার চোটের কারণেই হয়তো, ক্ষোভে-দুঃখে ২০০৭ সালে আইসিএলে যোগ দেন। আইসিসির অননুমোদিত এই টুর্নামেন্টে যোগ দেয়ায় নিষিদ্ধ হন সব ধরনের ক্রিকেট থেকে। এরপরের গল্পটা তো আগেই বলা হয়েছে—২০০৯-এ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসা এবং চোটের কারণে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো।
টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে বন্ড নিজেও কিছুটা হতাশ। তার কণ্ঠেও ঝরেছে সেই হতাশা, ‘এটি আমার জন্য বেশ কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, কারণ ক্রিকেটের আসল সত্তা হলো টেস্ট ক্রিকেট। তবে আমার মনে হয়, আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। ব্ল্যাক ক্যাপদের হয়ে খেলার জন্য আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেই হয়তো ওয়ানডে এবং টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে আমি নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে পারব। দলকে এবং নিউজিল্যান্ড সমর্থকদের আমার এখনও অনেক কিছু দেয়ার বাকি আছে।’
অনেকের মতে, স্যার রিচার্ড হ্যাডলির পরে নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ফাস্ট বোলার হলেন শেন বন্ড। ১৮ টেস্টে ২২.০৯ গড়ে ৮৭ উইকেটের পরিসংখ্যানও সে কথাই বলে। শেন বন্ডকে টেস্ট ক্রিকেট থেকে হারানো নিঃসন্দেহে নিউজিল্যান্ড সমর্থকদের জন্য অনেক বেদনার, ক্রিকেট বিশ্বের জন্য কি তাই নয়? তবে এটুকু সান্ত্বনা থাকছে, ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টিতে এ পেসারকে আরও ক’দিন দেখার সুযোগ মিলবে ক্রিকেট পিপাসুদের।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?