Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, ১০ পৌষ ১৪১৬, ৬ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে এনএসসির ভাগ—বানিজ্য : পছন্দের লোককে কাজ দিতে টেন্ডারে ঘাপলা : বিসিবি উদ্বিগ্ন, চিন্তিত

এম. এম. কায়সার
২০১১ সালের বিশ্বকাপের তিন আয়োজকের অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের দুটি কোয়ার্টার ফাইনালসহ মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও হবে ঢাকায়। বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের পাঁচটি স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ বাবদ বিপুল অঙ্কের বাজেট সরকার ইতোমধ্যে পাস করেছে। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। পাঁচটি স্টেডিয়ামের এই কোটি কোটি টাকার সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে দেনদরবারও শুরু হয়েছে। তবে এই দেনদরবার এবং চোখে পড়ার মতো অনিয়মে বাকি সবকিছুকে পেছনে ফেলেছে স্টেডিয়ামে ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ড স্থাপনের কাজ পাওয়া নিয়ে যে হুড়োহুড়ি চলছে তা।
নিজের পছন্দের লোকজনকে ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের স্টেডিয়ামে ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ড স্থাপনের কাজ পাইয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা যা করেছেন সেটা পরিষ্কার ভাষায় অনিয়ম। আর এই অনিয়মটা করতে গিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এই কাজের জন্য টেন্ডারে ঘাপলা করেছে। নিজেদের পছন্দের ব্যক্তি এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে এনএসসি দু’বার টেন্ডার জমা দেয়ার তারিখ পিছিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, নতুন টেন্ডারে আগের শর্তগুলোও সহজ করে দেয়া হয়, যাতে নিজের পছন্দের (হোক না সেটা কম অভিজ্ঞ এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠান!) প্রতিষ্ঠানকে এই কোটি কোটি টাকার কাজ সহজেই দেয়া যায়। আর এই কাজের মধ্যস্বত্বভোগীরাও যাতে কিছুটা কামিয়ে নিতে পারেন। ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং নারায়ণগঞ্জে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের জুহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এবং খুলনায় শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ড স্থাপনের কাজের জন্য গত ৭ অক্টোবর পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। টেন্ডার জমা দেয়ার তারিখ ছিল ৯ নভেম্বর। কিন্তু টেন্ডার জমা দেয়ার সেই তারিখ এনএসসি হঠাত্ করেই পিছিয়ে দেয়। প্রথম দফা সেই তারিখ পিছিয়ে ২৫ নভেম্বর ঠিক করা হয়। সেই তারিখেও এনএসসি স্থির থাকতে পারেনি। দ্বিতীয় দফা পিছিয়ে দিয়ে নতুন তারিখ ঠিক করা হয় ১৫ ডিসেম্বর। সেই সঙ্গে বদলে যায় এই টেন্ডারে অংশ নেয়ার জন্য বিভিন্ন শর্ত। নতুন দরপত্রে আন্তর্জাতিক মান গায়েব হয়ে সেখানে স্থানীয় মান বসিয়ে দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, এই ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ড স্থাপনের কাজের জন্য টেন্ডারে অংশগ্রহণে প্রযুক্তিগত যোগ্যতার শর্তাদিও কমিয়ে আনা হয়। ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ড স্থাপনের জন্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গ্যারান্টির প্রত্যায়নপত্র দাখিলের যে পূর্বশর্ত ছিল সেটাও পরিবর্তিত টেন্ডারে বেমালুম বদলে দেয়া হয়। নতুন টেন্ডারে এই গ্যারান্টিপত্র প্রতিস্থাপনকারী/ সরবরাহকারীর কাছ থেকে নিয়েও দাখিল করার সহজ শর্ত নতুন করে জুড়ে দেয়া হয়েছে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, পুনঃটেন্ডারে এই কাজের শর্ত কেন সহজ করল এনএসসি? সহজ উত্তর হলো—যাতে করে তাদের পছন্দের লোক সহজেই এই কাজ বাগাতে পারে। নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠান যাতে এই টেন্ডারে অংশ নেয়ার জন্য কাগজপত্র তৈরি করতে পারে সেজন্যই দ্বিতীয়বারের মতো টেন্ডার জমাদানের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে এই বিষয়ে কাল এনএসসি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে সেটা একই সঙ্গে খুব কৌতুকপূর্ণও বটে! জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক আবদুর রহমান জানান, ‘এই টেন্ডারে যাতে আগ্রহী সব প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারে সেজন্যই আমরা টেন্ডারের বিভিন্ন কাজের শর্তে যোগ্যতার ধাপ কমিয়ে এনেছি। নির্দিষ্ট কোনো একটা গ্রুপের মধ্যেই আমরা কাজটা সীমিত রাখতে চাই না। আর নতুন করে টেন্ডার নোটিশ দেয়ার সময়ে আমরা বিষয়টা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কেন্দ্রীয় ক্রয় ও প্রশিক্ষণ ইউনিটের মতামতও নিয়েছিলাম।’
এদিকে এই ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ড স্থাপনের কাজ নিয়ে এনএসসি’র ভজঘট কাণ্ডে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চিন্তিত হয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এনএসসি এই স্টেডিয়ামগুলোর সংস্কার কাজ করতে পারবে কিনা—সেই আশঙ্কাও করছেন অনেকে। আর ভদ্রভাষায় সেই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিসিবি গত ২৫ নভেম্বর এনএসসি’র কাছে একটি চিঠি পাঠায়। বিসিবি সভাপতি আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এনএসসির চেয়ারম্যান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের কাছে সেই চিঠিতে লেখা আছে—‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মনে করে বর্তমান অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চাহিদানুযায়ী স্টেডিয়ামগুলোর আধুনিকায়ন, উন্নয়ন এবং এর সংস্কার সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পাদনের দায়িত্ব জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। এই কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।’
বিসিবির এই চিঠিই জানাচ্ছে—বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যু নিয়ে এনএসসি যেভাবে বারবার টেন্ডারের তারিখ, শর্তাদির রদবদল এবং সব মহলকে অংশগ্রহণের নামে আইসিসির বেঁধে দেয়া আন্তর্জাতিক মান থেকে সরে আসার পাঁয়তারা করছে, সেটা মোটেও বড় পরিসরের জন্য সুখকর কিছু নয়।
গত অক্টোবরে আইসিসির ভেন্যু পর্যবেক্ষক দল ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিদর্শন শেষে এই স্টেডিয়ামগুলোর ফ্লাডলাইট, ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ড, ভিডিও রিপ্লে পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কথা জানায়।
আইসিসির সেই প্রয়োজন ভালোভাবেই বুঝতে সক্ষম হয় বিসিবি। আর সেই অনুযায়ী রূপরেখা তৈরি করে সেটা এনএসসির কাছে দেয়া হয়। কিন্তু এনএসসি পছন্দের লোকজনের কাছে ‘কাজ বিক্রি’ করার যে বিপজ্জনক পথে এগুচ্ছে সেটা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্নকে নসাত্ও করে দিতে পারে!
—সেটা কিভাবে?
আইসিসির বেঁধে দেয়া মান অনুযায়ী স্টেডিয়ামে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হলে আইসিসি এখান থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নিতে পারে। বিশ্বকাপ চুক্তিতে তেমন একটা ধারা কিন্তু রেখেছে আইসিসি।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?