Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, ১০ পৌষ ১৪১৬, ৬ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আমার দেশ কার্যালয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিশিষ্টজনরা : গণমাধ্যমের লড়াই গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হবে

স্টাফ রিপোর্টার
সম্পাদককে হুমকি ও একের পর এক মামলা এবং রিপোর্টারের ওপর হামলার বিরুদ্ধে সংহতি জানাতে গতকালও আমার দেশ কার্যালয়ে ছুটে এসেছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিশিষ্টজনরা। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, গণমাধ্যমের লড়াই গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করেন তারা।
সংহতি জানাতে গতকাল সন্ধ্যায় আমার দেশ কার্যালয়ে আসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও কলিম উদ্দীন আহমেদ মিলন (সুনামগঞ্জ-৫), সাংবাদিক ও কবি আবদুল হাই শিকদার, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান, ছাতক উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া মাজকুর পাভেল, জাগপা ঢাকা মহানগর সভাপতি আসাদুর রহমান খান, কেন্দ্রীয় নেতা শওকত আলী হাসান, বেলায়েত হোসেন মোড়ল, জিএম আবদুল আজিজ, গাজী ফকির, আবদুল হালিম নান্নু, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা আহলালুল্লাহ ওয়াছেল, মাওলানা রিয়াজতুল্লাহ প্রমুখ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ-এর পরিচালক শাকিল ওয়াহেদ, মহাব্যবস্থাপক আহমেদ হোসেন মানিক ও বিশেষ প্রতিনিধি এম আবদুল্লাহ।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে দেশের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। গণমাধ্যমে কোনো কিছু প্রকাশ বা প্রচার করলে সে ব্যাপারে কোনো বক্তব্য থাকলে তা প্রকাশের পদ্ধতি আছে। প্রতিবাদ করার ভাষা আছে। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহীর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় যেভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে, তা গণতন্ত্র ও কোনো সভ্য সমাজে থাকা অনুচিত। বিশেষ করে মন্ত্রী পর্যায় থেকে সরাসরি আইন হাতে তুলে নেয়ার যে হুমকি, তা গণতন্ত্রের মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের আহত করেছে। জনগণ এসব মেনে নিতে পারেনি। সংবাদ প্রকাশের পরের দিনই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে যে প্রতিবাদ দিয়েছে আমার দেশ পত্রিকা তা হুবহু ছেপেছে। এটা গণমাধ্যমে নীতি ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সার্বিক মূল্যায়নে আমার দেশ-এর ওপর এ আঘাত কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়; গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। এ ধরনের অগণতান্ত্রিক জবরদস্তিমূলক তত্পরতা অব্যাহত থাকলে গণতন্ত্রকামী জনগণ তা প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসবে, ইনশাআল্লাহ। এ ধরনের সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের পক্ষে জনগণ সবসময়ই আছে এবং থাকবে।
সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান বলেন, সাহস, সংগ্রাম ও প্রতিবাদের প্রতীক হলেন মাহমুদুর রহমান। টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে যেমন দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন, তেমনি মাহমুদুর রহমান ও আমার দেশের ওপর আক্রমণ, হুমকির ঘটনা গোটা জাতিকে ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের শত্রু এবং জালেম, দুষ্টশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছে।
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে আমার দেশ-এর আপসহীন ভূমিকা জাতির বুকে সাহসের সঞ্চার করেছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে এ ভূমিকায় থাকতে হবে।
জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান বলেন, দেশের দুর্দিনে গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যম সবসময়ই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছে। বাকশাল থেকে শুরু করে স্বৈরাচার এরশাদ ও মইন-ফখরুদ্দীনের সরকারের আমলে সাংবাদিকরা শত বাধার মুখেও সাহসী থেকেছেন। এবারও আমার দেশ সম্পাদকের সাহসী ভূমিকা জাতির কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।
সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দীন আহমেদ মিলন বলেন, সাহসী সাংবাদিকতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে অমূল্য সম্পদ। বর্তমানে আমার দেশে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও নেতারা যেভাবে ন্যক্কারজনক নগ্ন হুমকি, হামলা ও মামলার উদ্যোগ নিয়েছেন, দেশবাসী তা ভালোভাবে নেয়নি। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা ও মামলা বন্ধ করার জন্য আমরা দাবি জানাই। বাংলাদেশের সব মানুষ এ সত্য লড়াইয়ের সঙ্গে আছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?