Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, ১০ পৌষ ১৪১৬, ৬ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জনসংখ্যা বৃদ্ধিরোধে প্রচার-প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই : ফি বছর বাড়ছ ২৫-৩০ লাখ জনসংখ্যা

এমরানা আহমেদ
দেশে বছরে গড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ করে জনসংখ্যা বাড়ছে। বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এক দশমিক ৪৭ শতাংশ। এক ভয়াবহ জনসংখ্যা বিস্ফোরণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। এই অবস্থায় আগামী ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে। এই অবস্থা রোধ করতে না পারলে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিত্সাসহ মানুষের অন্যান্য মৌলিক অধিকার যেমন হরণ হবে, তেমনি বেকারত্ব বৃদ্ধি, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাস, পরিবেশ বিপর্যয়সহ নানা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দেশ। জনসংখ্যার এই বৃদ্ধিরোধে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বগতিতে বিশেষজ্ঞরা রীতিমত আতঙ্কিত। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, জনসংখ্যাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এখনই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নিতে হবে। সরকারের সব পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জনসংখ্যা। সরকারের উদ্যোগকে যথাযথ মনে না করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যাকে দেশের ১ নম্বর সমস্যা বলে বিবেচনা করা উচিত। কারণ এর সঙ্গে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো জড়িত। এই সমস্যা সমাধানে সরকারকে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনসহ জনসংখ্যা বৃদ্ধিরোধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শতকরা মাত্র ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করে। এর মধ্যে মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করে। এছাড়া সরকারি হিসাবেই ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ আগ্রহী মানুষের কাছে এখনও পৌঁছে দেয়া যায়নি জন্মনিরোধক সামগ্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে বিবাহিত নারীদের ৫৮ শতাংশ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তাদের ৪৮ শতাংশ আধুনিক এবং ৮ শতাংশ সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দেশের ১৭ শতাংশ নারী পরিবার পরিকল্পনার কোনো পদ্ধতিই হাতের কাছে পান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে সরকারকে জোরদার ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারোর হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালে দেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২২ কোটিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১০ সালে টিএফআর ২ দশমিক ২ শতাংশে নামানো সম্ভব হবে না। আর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ব্যাপক পরিবর্তন না আনলে বর্তমান সরকার ২০২১ সালে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তাও অর্জন সম্ভব হবে না।
জানা গেছে, সারাদেশে বর্তমানে ৬৪টি জেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় ৭০টি মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র আছে। আরও ৩১টি মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩ হাজার ৭১৯টি ও উপজেলা পর্যায়ে ৪১০টি ইউএইচএইডএফভিসি কেন্দ্র রয়েছে। এই সব কেন্দ্রের মাধ্যমে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিসটেম্লট (এফডব্লিউএ) ইউনিট প্রতি ৫শ’ পরিবারে জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কাজ করছে। এই ইউনিট দু’মাসে ৫শ’ পরিবারে গিয়ে জন্মনিরোধক সামগ্রী বিতরণ ও ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মহিলাদের পরামর্শ দেয়। এছাড়া গ্রাম পর্যায়ে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমেও জন্মনিয়ন্ত্রণ রোধে কাজ করা হচ্ছে।
সর্বশেষ বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (২০০৭) অনুসারে দেশে কিশোরী মাতৃত্ব ৩৩ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প বয়সে বিয়ে করা নারীদের সন্তান ধারণের প্রবণতাও বেশি। অল্প বয়সে বিয়ে বন্ধের ব্যাপারে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই বলেও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
১৯৯৮ সালে সরকার স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা খাত কর্মসূচির (এইচপিএসপি) আওতায় পরিবার পরিকল্পনা মাঠকর্মীদের পরিবর্তে গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করে সেবা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়। দেশের অনগ্রসর সামাজিক বাস্তবতায় নারীরা বাড়ির বাইরে গিয়ে পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আগ্রহী না হওয়ায় এ কার্যক্রম সাফল্যের মুখ দেখেনি।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমকর্তা বলছেন, অধিদফতরের মাঠকর্মীরা আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে আগের মতো সেবা দিচ্ছেন না। দেশের সক্ষম দম্পতিদের তুলনায় তাদের মাঠকর্মীর সংখ্যা কম। সক্ষম দম্পতির সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু মাঠকর্মীর সংখ্যা বাড়েনি। প্রতি দু’মাস অন্তরও এসব মাঠকর্মী ওইসব দম্পতির কাছে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারছেন না। প্রচারও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে তারা জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. একেএম নূরুন্নবী আমার দেশ’কে বলেন, বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপকতা সব ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোসহ অন্য সুযোগ-সুবিধার আওতা কমে যায়। বেড়ে যায় অদক্ষ, অনুপযুক্ত মানুষের সংখ্যা। কর্মসংস্থান কমে বৃদ্ধি পায় বেকারত্ব।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?