Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, ১০ পৌষ ১৪১৬, ৬ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ওয়ার্ল্ড ক্ল্যাসিক : ওজের জাদুকর

মূল : লেম্যান ফ্রাঙ্ক বাউম, ভাষান্তর : মোহাম্মদ সাফিউন নাসির
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
: তোমার সাঁতার আমাদের কি উপকারে আসবে?
জানতে চাইলো ডরোথি। ভীতু সিংহ বললো, আশা করি উপকারে আসবে। তোমরা যদি শক্ত করে আমার লেজ ধরে থাকতে পারো, আমি তাহলে ভেলাটাকে টেনে নিয়ে যেতে পারবো। দেখবো নাকি চেষ্টা করে?
ডরোথি বললো, হ্যাঁ, তাই করো। নইলে এ জীবনে আর পান্না নগরে যাওয়া হবে না।
ডরোথির অনুমতি পেয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লো ভীতু সিংহ। শক্ত করে সিংহের লেজ টেনে ধরে রইলো টিনের কাঠুরিয়া। ডরোথি কোমর পেঁচিয়ে ধরলো টিনের কাঠুরিয়ার। আর টোটো কামড়ে ধরলো ডরোথির ফ্রক।
ভীতু সিংহের সাহসটা একটু কম ছিলো কিন্তু শক্তি ছিলো অন্য সিংহের মতোই। সেই শক্তি কাজে লাগিয়ে ভীতু সিংহ প্রাণপণে সাঁতরে চললো স্রোতের উল্টো দিকে। আরোহীসহ ভেলাটাকে টেনে নিতে খুব কষ্ট হলো বেচারার কিন্তু সফলও হলো সে। এক সময় ঠিকই ভেলাটাকে নদীর কিনারায় ভেড়াতে পারলো।
ভেলা থেমে যাওয়ার পর প্রথম পাড়ে উঠলো ভীতু সিংহ। তারপর নামলো টিনের কাঠুরিয়া। টোটো ডরোথির অনুমতির অপেক্ষা না করে কুঁইকুঁই করতে করতে ঝাঁপিয়ে পড়লো নিচে। সবার শেষে খুব সাবধানে ভেলা থেকে নামলো ডরোথি।
সবাই ভেলা থেকে নেমে আসার পর প্রথম কথা বললো টিনের কাঠুরিয়া। সে বললো, আরে আরে! নদীর ওপারে যে হলুদ পথ ছিলো ওটা গেলো কোথায়? ওখানে তো পথটা নেই!
ভীতু সিংহ বললো, আরে বোকা, পথটা তো পথের জায়গায় পড়ে রয়েছে। আমরাই বরং স্রোতের টানে পথ ছেড়ে অনেক দূর চলে এসেছি। এখন আবার সেই পথের বরাবর ফিরে যেতে হবে।
ডরোথি বললো, মানে যেখান থেকে বেলা ছেড়েছিলাম সেখানে ফিরে যেতে হবে। চলো তোমরা। আর দেরি করা ঠিক হবে না।
দেশটা ছিলো ছবির মতো সুন্দর। চারদিকে হাজারো রকম গাছগাছালি। তাতে থরে থরে ঝুলে আছে চেনা-অচেনা পাকা ফল। ডালে ডালে ফুটে আছে রঙিন ফুল। পাখিরা গান গাইছে মিষ্টি সুরে। ডরোথির মন কেড়ে নিতে চাইছিলো এ দেশের সৌন্দর্য। কিন্তু ডরোথি জানে যে কোনো মূল্যে ওকে পান্না নগর পৌঁছতে হবে। তাই নদীর পাড় ধরে পুব দিকে হেঁটে চললো ডরোথি। ওর পেছন পেছন চললো অন্য সবাই।
ওরা হাঁটছিলো আর চেয়ে চেয়ে দেখছিলো সেই দেশটির সৌন্দর্য। হঠাত্ পেছন দিক থেকে চেঁচিয়ে উঠলো ভীতু সিংহ—ওই যে আমাদের কাকতাড়ুয়া। ওই দেখো নদীর মাঝে লগির সঙ্গে ঝুলে আছে।
ভীতু সিংহের কথা শুনে সবাই ঘুরে তাকালো নদীর দিকে। দেখলো সত্যি সত্যিই কাকতাড়ুয়া লগিটাকে জড়িয়ে ধরে স্রোতের হাত থেকে বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
কাকতাড়ুয়ার দিকে তাকিয়ে ডরোথির খুব মায়া হলো। অন্যদের চোখও ছলছল করে উঠলো।
ডরোথি বললো, কাকতাড়ুয়া খুব ভালো বন্ধু। আমাদের উচিত যে কোনো উপায়ে ওকে উদ্ধার করে আনা। চলো ভেবে দেখি কোনো উপায় খুঁজে পাওয়া যায় কিনা।
ডরোথি বসলো নদীর পাড়ের নরম ঘাসের ওপর। ওর দেখাদেখি অন্যরাও বসলো। তারপর ভেবে চললো কাকতাড়ুয়াকে উদ্ধার করার উপায়। কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও কারো মাথা থেকেই কোনো বুদ্ধি বের হলো না।
একটু দূরে নদীর অল্প পানিতে হেঁটে হেঁটে মাছ খাচ্ছিলো একটা বিশাল সারস। হঠাত্ পাড়ের দিকে ঘুরে তাকাতেই সারস দেখতে পেলো ডরোথি আর তার দলবল। সারসটা তখন এক পা এক পা করে নদী থেকে উঠে এসে দাঁড়ালো ওদের সামনে। তারপর বললো, তোমরা কারা গো? কখনো এ তল্লাটে দেখেছি বলে তো মনে পড়ে না।
ডরোথি বললো, আমরা কেউ এ দেশের নই। আমি বহু দূরের দেশ ক্যানসাসের মেয়ে। আমার নাম ডরোথি গেইল। ওর নাম ভীতু সিংহ। এটা হলো টোটো আমার কুকুর বন্ধু। আর এই চকচকেটা টিনের কাঠুরিয়া। সবাই আমরা অন্তরঙ্গ বন্ধু।
: বন্ধু? সে তো ভালো কথা। কিন্তু তোমরা এখানে এসেছো কেনো?
: আমরা ওজের রাজধানী পান্না নগর যাচ্ছি।
: পান্না নগর? খুব ভালো। খুব সুন্দর শহর। কিন্তু এটা তো পান্না নগর যাওয়ার পথ নয়!
চিন্তিত কণ্ঠে বললো সারস। ডরোথি বললো, তা অবশ্য জানি। আমাদের এক বন্ধু বিপদে পড়েছে। এখানে বসে চিন্তা করছি কি করে ওকে উদ্ধার করা যায়। [চলবে]
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?