ওদের সচেতন করার দায়িত্ব আপনারই
শেখ কানিতা তাসনীম ইশারা
সকাল থেকে রাত অব্দি চলে আশার ব্যস্ততা। দু’বছরের মেয়ে প্রেমাকে নিয়ে তার এই ব্যস্ততা। কী খেল, না খেল, জামাটা ভিজে গেল কিনা, ময়লা কিছু মুখে তুলল কিনা, হাত সাবান দিয়ে ধোয়া হয়েছে কিনা, গোসলের পর শরীর, মাথা ঠিকমত মোছা হলো কিনা—এসবের এক লম্বা তালিকা। কর্মজীবী মা আশা যেটুকু সময় অফিসে থাকেন সারাক্ষণই টেনশনে থাকেন তার মেয়েকে নিয়ে। কিছুক্ষণ পরপরই অফিস থেকে ফোনে বাসায় খবর নেন মেয়ের, যাকে এক কথায় বলা যেতে পারে ‘নিউজ আপডেট’। আর বাড়ি ফিরে তার ধ্যান-জ্ঞান হলো মেয়ে প্রেমা।
পাঁচটা বাড়িতে বুয়ার কাজ করে নিলুফা। সকাল আটটা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত চলে তার ডিউটি। প্রতিটি বাড়িতেই হাজির হতে হয় ঠিক সময়ে। সকালে দেড় বছরের ছেলে ছোটনকে রেখে আসে পাশের ঘরের আপার কাছে। সঙ্গে দিয়ে দেয় ডাল-চালে রান্না করা নরম খিচুড়ি। সারাদিনে একবারও আর ছেলের খবর নিতে পারে না সে। হাড়ভাঙা খাটুনির পর ছেলের বাড়তি কোনো যত্ন নিতেও ইচ্ছে করে না তার। ঘরে ফিরে কোনোরকমে ছেলেকে রাতের খাবার খাইয়ে শরীর এলিয়ে দেয় বিছানায়। সন্তানের পুষ্টি, স্বাস্থ্য—এত কিছু নিয়ে ভাববার তার সময় কোথায়?
আশা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মায়ের একটি দৃষ্টান্ত। এরকম প্রচুর মা রয়েছেন আমাদের সমাজে, যারা সন্তানের ব্যাপারে খুবই সজাগ ও সচেতন। কেননা, তারা শিক্ষিত। তারা বইপত্র, পত্র-পত্রিকা পড়ে এবং টিভি থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক তথ্য জানতে পারে। কোন বয়সে শিশুর জন্য কোন জিনিসটি প্রয়োজন তা তারা সহজেই বুঝতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণেও তারা অনেক কিছু জানতে পারছেন খুব সহজেই। আর এতসব তথ্যের ভিড় থেকে তারা তাদের সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়টি জেনে বাস্তবে তার প্রয়োগও করছেন সন্তানের ক্ষেত্রে। এই যেমন—ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য শুধু মায়ের বুকের দুধই আদর্শ খাদ্য, কিংবা শিশুর জন্মের পর জীবন বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় টিকার কথা বা শিশুর খেলার ছলে নোংরা এটা-সেটা মুখে দিয়ে পেটের অসুখ বাঁধিয়ে ফেলল কিনা, কোনো বদঅভ্যাস তার মধ্যে গড়ে উঠছে কিনা, অথবা তার কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কিনা, এ ধরনের হাজারও ব্যাপারে এসব মায়েরা সচেতন।
ঠিক একই সমস্যা কিন্তু নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মায়ের সন্তানের ক্ষেত্রেও হয়। অথচ এসব মায়েরা তাদের সন্তানের এসব বিষয় নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন। বাচ্চা মুখে এটা-সেটা পুরে পেটের অসুখ বাঁধিয়ে বসবে—এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার তাদের কাছে।
সারাদিন পরিশ্রম করে বাচ্চার জন্য বাড়তি সময় দেয়ার কথা তারা ভাবতেই পারেন না। আর এসব অসচেতনতার শিকার হলো পেটভর্তি কৃমি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো বস্তির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। আর সর্দি-কাশি এতো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার এ শ্রেণীর সন্তানদের। তবে যারা শিক্ষিত সমাজে বসবাস করেন তারা একটু চেষ্টা করলেই নিম্নবিত্ত শ্রেণীর এসব মায়েদের সচেতন করে তুলতে পারেন। নানা রকম কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তির মায়েদের সচেতন করে তোলা যায়। তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে যে, নোংরা পরিবেশে সন্তানকে বড় করা তার অর্থাত্ সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা, ‘এরকম নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোনরকম যত্ন-আত্তি ছাড়া অবহেলায় বড় হলে শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হতে পারে। সুতরাং এসব শিশুর সুন্দর ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে সমাজ সচেতন প্রতিটি মানুষকে।
পাঁচটা বাড়িতে বুয়ার কাজ করে নিলুফা। সকাল আটটা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত চলে তার ডিউটি। প্রতিটি বাড়িতেই হাজির হতে হয় ঠিক সময়ে। সকালে দেড় বছরের ছেলে ছোটনকে রেখে আসে পাশের ঘরের আপার কাছে। সঙ্গে দিয়ে দেয় ডাল-চালে রান্না করা নরম খিচুড়ি। সারাদিনে একবারও আর ছেলের খবর নিতে পারে না সে। হাড়ভাঙা খাটুনির পর ছেলের বাড়তি কোনো যত্ন নিতেও ইচ্ছে করে না তার। ঘরে ফিরে কোনোরকমে ছেলেকে রাতের খাবার খাইয়ে শরীর এলিয়ে দেয় বিছানায়। সন্তানের পুষ্টি, স্বাস্থ্য—এত কিছু নিয়ে ভাববার তার সময় কোথায়?
আশা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মায়ের একটি দৃষ্টান্ত। এরকম প্রচুর মা রয়েছেন আমাদের সমাজে, যারা সন্তানের ব্যাপারে খুবই সজাগ ও সচেতন। কেননা, তারা শিক্ষিত। তারা বইপত্র, পত্র-পত্রিকা পড়ে এবং টিভি থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক তথ্য জানতে পারে। কোন বয়সে শিশুর জন্য কোন জিনিসটি প্রয়োজন তা তারা সহজেই বুঝতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণেও তারা অনেক কিছু জানতে পারছেন খুব সহজেই। আর এতসব তথ্যের ভিড় থেকে তারা তাদের সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়টি জেনে বাস্তবে তার প্রয়োগও করছেন সন্তানের ক্ষেত্রে। এই যেমন—ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য শুধু মায়ের বুকের দুধই আদর্শ খাদ্য, কিংবা শিশুর জন্মের পর জীবন বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় টিকার কথা বা শিশুর খেলার ছলে নোংরা এটা-সেটা মুখে দিয়ে পেটের অসুখ বাঁধিয়ে ফেলল কিনা, কোনো বদঅভ্যাস তার মধ্যে গড়ে উঠছে কিনা, অথবা তার কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কিনা, এ ধরনের হাজারও ব্যাপারে এসব মায়েরা সচেতন।
ঠিক একই সমস্যা কিন্তু নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মায়ের সন্তানের ক্ষেত্রেও হয়। অথচ এসব মায়েরা তাদের সন্তানের এসব বিষয় নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন। বাচ্চা মুখে এটা-সেটা পুরে পেটের অসুখ বাঁধিয়ে বসবে—এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার তাদের কাছে।
সারাদিন পরিশ্রম করে বাচ্চার জন্য বাড়তি সময় দেয়ার কথা তারা ভাবতেই পারেন না। আর এসব অসচেতনতার শিকার হলো পেটভর্তি কৃমি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো বস্তির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। আর সর্দি-কাশি এতো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার এ শ্রেণীর সন্তানদের। তবে যারা শিক্ষিত সমাজে বসবাস করেন তারা একটু চেষ্টা করলেই নিম্নবিত্ত শ্রেণীর এসব মায়েদের সচেতন করে তুলতে পারেন। নানা রকম কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তির মায়েদের সচেতন করে তোলা যায়। তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে যে, নোংরা পরিবেশে সন্তানকে বড় করা তার অর্থাত্ সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা, ‘এরকম নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোনরকম যত্ন-আত্তি ছাড়া অবহেলায় বড় হলে শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হতে পারে। সুতরাং এসব শিশুর সুন্দর ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে সমাজ সচেতন প্রতিটি মানুষকে।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


