Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, ১০ পৌষ ১৪১৬, ৬ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পা ঠ ক ক লা ম : আমেরিকান বর...

সোহরাব আলম
লন্ডন প্রবাসী এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি টাকা-পয়সা ও জায়গা-জমির লোভ দেখিয়ে বিয়ে করেছেন ১৭ বছরের খাদিজাকে (ছদ্মনাম)। বরের লন্ডনে স্ত্রী, ছেলেমেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর তিনি মাঝে মাঝে বাংলাদেশে বেড়াতে আসতেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরেও ছেলের জন্ম হয়েছে। কয়েক মাস হলো লোকটি মারা যাওয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েছে খাদিজা (ছদ্মনাম)।
এক ধনাঢ্য শিল্পপতি ১৫ বছরের কিশোরীকে বিয়ে করতে গিয়ে সংবাদ হয়েছেন। মেয়ের বাবাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে এ বিয়ে করেন তিনি। শুধু ঘটককেই দিয়েছেন ২ লাখ টাকা। অথচ বরের বয়স ষাটের বেশি।
মিথ্যে পরিচয় ও মিথ্যে আশ্বাসে বিয়ের ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই দেখা যায় বৃদ্ধ বর লোভের ফাঁদে ফেলে কোনো কিশোরীকে বিয়ে করেছেন। এসব বিয়েতে থাকে মোটা অংকের টাকার কারসাজি। গ্রামাঞ্চলের অসচ্ছল ও অসতর্ক অভিভাবকরাই এসব টোপের শিকার হন। বরের ‘লন্ডনী’, ‘আমেরিকান’, ‘কানাডীয়’ পরিচয় পেয়ে বয়স বা বরের পরিবার সম্পর্কে না খোঁজ নিয়েই গরিব অভিভাবক কম বয়সী মেয়েকে পাত্রস্থ করে। কখনও কখনও শহুরে ধনবান পুরুষরাও গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল মানুষকে প্রভাবিত করে একটি কিশোরী মেয়েকে নিজের দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে প্রতারিত করেন।
শুধু এই দুটি ঘটনাই নয়, আমাদের চারপাশে অহরহ ঘটছে এমন ঘটনা। গ্রামের অশিক্ষিত মেয়েরা প্রতিনিয়ত অসম ও প্রতারণামূলক বিয়ের শিকার হচ্ছে। এমনকি বিদেশি পাসপোর্টধারী পাত্রের কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়ে মেয়ের জীবনের সচ্ছলতা চাইতে গিয়েও প্রতারিত হচ্ছেন অনেক শিক্ষিত শহুরে পিতা-মাতা।
গ্রামাঞ্চলের সুন্দরী কিশোরী মেয়েরা এরকম অসম বিয়ের শিকার হচ্ছে। বৃদ্ধ বর, কিশোরী স্ত্রী। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বার্ধক্যজনিত কারণে স্বামী হারাচ্ছে মেয়েটি। যে টাকা আর সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে এসব বিয়ে হয় পরে প্রায় ক্ষেত্রেই তার কিছুই পায় না মেয়েটি। ফলে অসহায় মেয়েটি সামাজিক ও আর্থিকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। স্বামীর প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা মা হিসেবে তাকে মেনে নিতে পারে না, অন্যদিকে মা-বাবার কাছে মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে মেয়েটি ভুগতে থাকে মানসিক অস্থিরতায়।
বর্তমানে শহরাঞ্চলে শিক্ষিত মেয়েরাও এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা ইউরোপের দেশগুলোর নাম ভাঙিয়ে মেয়েদের প্রলোভিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে একশ্রেণীর অসাধু ঘটক ও ম্যারেজ মিডিয়া দালালির কাজ করে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে অনেক অভিভাবকই পরে সত্য ঘটনা শুনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, আমেরিকার নাগরিক পরিচয় দেয়া ছেলেটি আসলে বাংলাদেশে বেকার যুবক। এমনকি এরকম বিয়ের মাধ্যমে কোনো কোনো মেয়ে পাচারের শিকারও হচ্ছে।
শুধু পাত্র নয়, অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে অনেক মেয়েকে বিদেশি পাত্রী সাজিয়ে পাত্রকে প্রতারণা করার ঘটনা অহরহ ঘটছে আমাদের সমাজে। যেসব ঘটনা প্রকাশিত হলে সামাজিকভাবে ধিকৃত হচ্ছে মেয়েটিই। আসল প্রতারক অনেক ক্ষেত্রে গা ঢাকা দিচ্ছে। প্রতারণার শিকার যাতে না হতে হয় বা প্রতারণা ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাতে মেয়েদের সামাজিক অবস্থান দুর্বল না হয়ে পড়ে সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে সবাইকেই।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?