কনভেনশনে অধ্যাপক মোজাফফর : ক্ষমতার জন্য হাসিনা বাম-ডান দলকে ব্যবহার করছেন
স্টাফ রিপোর্টার
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) জাতীয় সম্মেলনে বাম রাজনীতিবিদরা বলেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য শেখ হাসিনা বাম ও ডানপন্থী রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করছেন। ১৪ দলের সঙ্গে চুক্তি করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার ভাগীদার করেছে পতিত স্বৈরাচার এরশাদকে। এক বছরে ১৪ দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি সরকার। বক্তব্যে তারা বিকল্প ও শক্তিশালী রাজনৈতিক ফ্রন্ট হিসেবে বাম দলগুলোর সমন্বয়ে ঐক্যজোট গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানান। সম্মেলনে দেয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বে ঐক্যজোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ উপস্থিত অন্য নেতারা। তবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বলেন, ‘মন্ত্রিত্ব পাওয়ার আশায় সরকারের সঙ্গে লেগে আছে মেনন-ইনু। আজ ঐক্যের জন্য তারা যে ডাক দিলেন, মন্ত্রিত্ব পেয়ে গেলে সেটা ভুলে যাবেন। আমেরিকার পরামর্শে সরকার মন্ত্রী বানাতে পারে তোফায়েল আহমেদ, ভারতের পরামর্শে আবদুর রাজ্জাকের মতো আওয়ামী লীগ নেতাদের। মেনন-ইনুর আশা তাই পূরণ নাও হতে পারে।’ দলের পঞ্চম সম্মেলন উপলক্ষে গতকাল ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোজাফফর এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের গণবিরোধী কর্মকাণ্ড, মন্ত্রিসভার ব্যর্থতা, প্রশাসনে দলীয়করণ, সরকারের বিদেশনীতি সম্পর্কে উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা ও হতাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ন্যাপের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা এবং করণীয় সম্পর্কেও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ ভট্টাচার্য, গণতন্ত্রী পার্টির আজিজুল হক, প্রবীণ রাজনীতিক অজয় রায়, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবিএম গোলাম মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শওকত আরা হোসেন প্রমুখ।
অধ্যাপক মোজাফফর বলেন, ‘দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, মানুষের পেটে জ্বলছে ক্ষুধার আগুন। আর শেখ হাসিনা কোপেনহেগেনে গিয়ে বিদেশিদের সঙ্গে ডিনারে মত্ত। তার এ আচরণ রোম পোড়ার সময় নিরোর বাঁশি বাজানোর কথা মনে করিয়ে দেয়।’ পুঁজিবাদী বিশ্ব এখন সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকছে দাবি করে তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরামর্শেই শেখ হাসিনা বাম সংগঠনের কতিপয় সাবেক কর্মীকে তার সরকারের মন্ত্রী বানিয়েছেন। এসব অনভিজ্ঞ মন্ত্রী বিশৃঙ্খলভাবে কাজকর্ম করছেন। দেশের মৌলিক সমস্যার সমাধান বাদ দিয়ে তারা জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদল নিয়ে ব্যস্ত। বক্তব্যে তিনি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খানের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাদের ‘ধন্যবাদ’ জানান।
জাতীয় সংসদ প্রসঙ্গে এ রাজনীতিক বলেন, ‘সরকারের এমপিরা সেখানে বকাউল্লাহ, তারা বকছেন। স্পিকার আবদুল হামিদ শোনাউল্লাহ, তিনি শুনছেন। কিন্তু ‘করিমুল্লাহ’ (শেখ হাসিনা) কী করছেন, তা স্পষ্ট নয়।’ বিষয়টি নিয়ে স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান টেলিফোনে সম্প্রতি তার কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেও তিনি জানান।
প্রশাসনে দলীয়করণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মোজাফফর বলেন, ‘আগে মেরিট, সিনিয়রিটি’র ভিত্তিতে পদোন্নতি হতো। এখন হচ্ছে ‘আমাদের লোক’-এর ভিত্তিতে। রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সরকারের প্রতি জনগণ আস্থা রাখতে পারছে না। জনগণের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে হতাশাবোধ। কারণ দুর্নীতির ধারা থেকে আমরা বের হতে পারিনি।’
হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশ এখন রক্তপাতহীন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। প্রশাসন, অর্থনীতিসহ সর্বত্র চারদলীয় জোট সরকারের সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক শক্তির ঘাঁটি এখনও বিদ্যমান। শেখ হাসিনা জঞ্জালের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন মহাজোটের ঝাণ্ডা নিয়ে। সামনে কেবল বিপদ আর বিপদ। গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
গতকাল সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও পঞ্চাশ জেলার প্রতিনিধিরা ‘মোজাফফরের পথ ধরো-সমাজতন্ত্র কায়েম কর’, ‘ন্যাপের আলো-ঘরে ঘরে জ্বালো’সহ নানা স্লোগানে সম্মেলনে অংশ নেন। ন্যাপ নেতারা দ্রব্যমূল্য কমানো, গ্রাম-শহরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, তেল-গ্যাস-কয়লা জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করাসহ বায়াত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রবর্তনের জন্য সম্মেলনে সরকারের উদ্দেশ্যে দাবি জানান।
অধ্যাপক মোজাফফর বলেন, ‘দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, মানুষের পেটে জ্বলছে ক্ষুধার আগুন। আর শেখ হাসিনা কোপেনহেগেনে গিয়ে বিদেশিদের সঙ্গে ডিনারে মত্ত। তার এ আচরণ রোম পোড়ার সময় নিরোর বাঁশি বাজানোর কথা মনে করিয়ে দেয়।’ পুঁজিবাদী বিশ্ব এখন সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকছে দাবি করে তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরামর্শেই শেখ হাসিনা বাম সংগঠনের কতিপয় সাবেক কর্মীকে তার সরকারের মন্ত্রী বানিয়েছেন। এসব অনভিজ্ঞ মন্ত্রী বিশৃঙ্খলভাবে কাজকর্ম করছেন। দেশের মৌলিক সমস্যার সমাধান বাদ দিয়ে তারা জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদল নিয়ে ব্যস্ত। বক্তব্যে তিনি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খানের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাদের ‘ধন্যবাদ’ জানান।
জাতীয় সংসদ প্রসঙ্গে এ রাজনীতিক বলেন, ‘সরকারের এমপিরা সেখানে বকাউল্লাহ, তারা বকছেন। স্পিকার আবদুল হামিদ শোনাউল্লাহ, তিনি শুনছেন। কিন্তু ‘করিমুল্লাহ’ (শেখ হাসিনা) কী করছেন, তা স্পষ্ট নয়।’ বিষয়টি নিয়ে স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান টেলিফোনে সম্প্রতি তার কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেও তিনি জানান।
প্রশাসনে দলীয়করণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মোজাফফর বলেন, ‘আগে মেরিট, সিনিয়রিটি’র ভিত্তিতে পদোন্নতি হতো। এখন হচ্ছে ‘আমাদের লোক’-এর ভিত্তিতে। রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সরকারের প্রতি জনগণ আস্থা রাখতে পারছে না। জনগণের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে হতাশাবোধ। কারণ দুর্নীতির ধারা থেকে আমরা বের হতে পারিনি।’
হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশ এখন রক্তপাতহীন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। প্রশাসন, অর্থনীতিসহ সর্বত্র চারদলীয় জোট সরকারের সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক শক্তির ঘাঁটি এখনও বিদ্যমান। শেখ হাসিনা জঞ্জালের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন মহাজোটের ঝাণ্ডা নিয়ে। সামনে কেবল বিপদ আর বিপদ। গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
গতকাল সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও পঞ্চাশ জেলার প্রতিনিধিরা ‘মোজাফফরের পথ ধরো-সমাজতন্ত্র কায়েম কর’, ‘ন্যাপের আলো-ঘরে ঘরে জ্বালো’সহ নানা স্লোগানে সম্মেলনে অংশ নেন। ন্যাপ নেতারা দ্রব্যমূল্য কমানো, গ্রাম-শহরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, তেল-গ্যাস-কয়লা জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করাসহ বায়াত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রবর্তনের জন্য সম্মেলনে সরকারের উদ্দেশ্যে দাবি জানান।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


