আগামীকাল ফল প্রকাশ : প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল দ্রুত প্রকাশের নেপথ্যে
দিলরুবা সুমী
ঈদুল আজহার আগের দিন সকাল ৮টার মধ্যেই তড়িঘড়ি করে ঘর থেকে বের হন বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। এর আগের দু’দিনও তিনি একই সময়ে বের হয়েছেন। তিন দিনই তাকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে সন্ধ্যার পর। ঈদে পারিবারিক কোনো কাজেই তিনি যোগ দিতে পারেননি। তার মতো এই উপজেলার ৯৬ জন শিক্ষককেই প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণী শেষে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে হয়েছে। শুধু খাতা মূল্যায়নই নয়, পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি থেকে শুরু করে পরীক্ষা নেয়া, খাতায় কোড নম্বর দেয়া, বিতরণ করা, খাতা দেখার পর নিরীক্ষা করা, রেজাল্ট শিট প্রস্তুত সব কাজই করতে হয়েছে খুব কম সময়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফকিরহাট উপজেলার ওই শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছিল দু’দিনের মধ্যে বেশিরভাগ খাতা মূল্যায়নের কাজ শেষ করতে হবে। অনেক পরীক্ষক তা পেরেছেনও। কিন্তু তিনি নিজে একটু ভালো করে খাতা মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলেন। তাই তিন দিনই তাকে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে খাতা দেখতে হয়েছে। এই উপজেলার পরীক্ষকরা প্রতিজন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১২৫টি করে খাতা দেখেছেন।
দেশের বিভিন্ন উপজেলায় খাতা মূল্যায়নকারী বেশ কয়েকজন পরীক্ষক আমার দেশ-এর কাছে স্বীকার করেন, কোনো কোনো উপজেলায় খুব কম সময় পাওয়ায় এবং ঈদ থাকায় তাড়াহুড়োর কারণে তারা খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি। অনেকেই গড় নম্বর দিয়েছেন।
তবে সব পরীক্ষকের অবস্থা এক রকম ছিল না। অনেক উপজেলার পরীক্ষকরা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত খাতা দেখার সময় পেয়েছেন। একেক উপজেলায় একেক রকম সময়ে খাতা মূল্যায়ন করেছেন পরীক্ষকরা। কেউ সময় পেয়েছেন দু’দিন, কেউ আবার সেই একই সংখ্যক খাতা দেখেছেন ১০/১২ দিনে। এমনকি খাতা নিজের বাসায় নিয়ে দেখারও সুযোগ পেয়েছেন রাজধানী ঢাকাসহ অনেক জেলা-উপজেলার পরীক্ষকরা। এ বিষয়গুলো পরীক্ষার সার্বিক ফলের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করেই এবার দেয়া হবে পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি। আলাদা করে কোনো বৃত্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না। তাই বৃত্তির ফলেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরকম প্রেক্ষাপটেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত শনিবারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল প্রকাশ হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে এ ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। পরীক্ষার ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও এসএসসি পরীক্ষার প্রায় দ্বিগুণ ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় তিনগুণের সমান। এ বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ১০ লাখ ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ দু’টি পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে ৬০ দিনে। আর প্রথমবার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সারাদেশের প্রায় ২০ লাখ ছাত্রছাত্রী।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে জানা যায়, এ পরীক্ষায় মোট ১৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৩১ জন ছাত্রছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করেছিল। তদের মধ্যে ছাত্রী ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৮ জন। আর ছাত্র ৯ লাখ ৯ হাজার ৫২৯ জন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোট ১৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৪৯ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৮ লাখ ৩১ হাজার ৯৭১ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭৮ জন।
এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা এত কম সময়ে নেয়া ও ফল প্রকাশকে অনেকে বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবার প্রচণ্ড পরিশ্রম ও চাপ। একইসঙ্গে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও দক্ষতার অভাবে হয়েছে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি। ব্যাহত হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ের অন্যান্য কার্যক্রম। তবে কম সময়ের মধ্যে ও প্রথমবার এই পরীক্ষা নেয়ার কারণে এসব সমস্যা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। আগামীতে এ সমস্যাগুলো আর থাকবে না বলে আশা করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দুয়েকটি বিষয়ের খাতা একদিনে মূল্যায়ন করেছেন অনেক পরীক্ষক। ফকিরহাট উপজেলার পরীক্ষকরা সময় পেয়েছেন দুই থেকে তিন দিন। এ দুই উপজেলার পরীক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে খাতা মূল্যায়ন করেছেন।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মহাসম্পাদক ও গাজীপুর জেলার আওতাধীন টঙ্গীর আরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আবদুস সালাম আমার দেশকে জানান, তার প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে খাতা বাসায় নিয়ে গেছেন। তিনি খোঁজ নিয়ে জানান, শুধু তাদের স্কুলের পরীক্ষকরাই নন, গাজীপুর জেলার সব পরীক্ষকই নিজ বাড়িতে বসে খাতা মূল্যায়ন করেছেন। ২৬ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারিভাবে স্কুলগুলোতে ঈদের ছুটি থাকায় ২২ থেকে ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে খাতা বাসায় নিয়ে গেছেন পরীক্ষকরা। ছুটি শেষে তারা ৭ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসে খাতা জমা দিয়েছেন। এই চার দিন একইসঙ্গে খাতা নিরীক্ষা ও কোড নম্বর সংযোগ করার কাজও হয়েছে। এই জেলায় একজন পরীক্ষক সর্বোচ্চ প্রায় ২০০টি করে খাতা মূল্যায়ন করেছেন।
শরীয়তপুরের চরপিলিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া জানান, তিনি গণিতের ১৫১টি খাতা ২৫ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১ দিনে মূল্যায়ন করেছেন।
এদিকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় প্রায় ৬০ জন পরীক্ষক প্রায় সাড়ে ৫ হাজার খাতা মূল্যায়ন করেছেন চার দিনে। তবে এ উপজেলায় পরীক্ষার্থী কম থাকায় এক জন পরীক্ষক সর্বোচ্চ ১০০টি খাতা মূল্যায়ন করেছেন।
উপজেলাভেদে খাতা মূল্যায়নের সময় কম-বেশি দেয়ার কারণ সম্পর্কে একাধিক পরীক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকাকেই দায়ী করেছেন। এছাড়া ২৬ নভেম্বর থেকে প্রায় ১০ দিন স্কুলে ঈদের ছুটি ছিল। তাই অনেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাড়াহুড়ো করে ঈদের আগেই খাতা মূল্যায়নের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন পরীক্ষকদের। আর স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপজেলা শিক্ষা অফিসে বসেই পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধান পরীক্ষকের কাছে খাতা জমা দেয়ার সময় ছিল ৫ থেকে ৭ ডিসেম্বর। উত্তরপত্র নিরীক্ষা করার সময় দেয়া হয়েছিল ৭ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা যথাসময়ে শুরু, শেষ ও ফল প্রকাশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে অধিকাংশ স্কুলের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের বছরের শেষে এসে অবহেলিত হতে হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে তাদের স্বাভাবিক পাঠদান। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এ বছর থেকেই নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম এ পরীক্ষায় স্কুলের ফল ভালো করতে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রদের দিকে বিশেষ নজরদারি শুরু করে। পরীক্ষা নেয়া ও নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই ফল প্রকাশ করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রচণ্ড ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যার কারণে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দুই মাস পরপর উপজেলায় অনুষ্ঠিত সাব ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ দায়সারাভাবে দেয়া হয়েছে।
প্রচণ্ড চাপের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলেও প্রশ্ন সহজ হওয়ায় এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা পরীক্ষার্থীর প্রায় ৮০ ভাগই পাস করবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, পরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী জানুয়ারির শেষদিকে এই পরীক্ষার ভিত্তিতে বৃত্তির ফল ঘোষণা করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফকিরহাট উপজেলার ওই শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছিল দু’দিনের মধ্যে বেশিরভাগ খাতা মূল্যায়নের কাজ শেষ করতে হবে। অনেক পরীক্ষক তা পেরেছেনও। কিন্তু তিনি নিজে একটু ভালো করে খাতা মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলেন। তাই তিন দিনই তাকে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে খাতা দেখতে হয়েছে। এই উপজেলার পরীক্ষকরা প্রতিজন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১২৫টি করে খাতা দেখেছেন।
দেশের বিভিন্ন উপজেলায় খাতা মূল্যায়নকারী বেশ কয়েকজন পরীক্ষক আমার দেশ-এর কাছে স্বীকার করেন, কোনো কোনো উপজেলায় খুব কম সময় পাওয়ায় এবং ঈদ থাকায় তাড়াহুড়োর কারণে তারা খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি। অনেকেই গড় নম্বর দিয়েছেন।
তবে সব পরীক্ষকের অবস্থা এক রকম ছিল না। অনেক উপজেলার পরীক্ষকরা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত খাতা দেখার সময় পেয়েছেন। একেক উপজেলায় একেক রকম সময়ে খাতা মূল্যায়ন করেছেন পরীক্ষকরা। কেউ সময় পেয়েছেন দু’দিন, কেউ আবার সেই একই সংখ্যক খাতা দেখেছেন ১০/১২ দিনে। এমনকি খাতা নিজের বাসায় নিয়ে দেখারও সুযোগ পেয়েছেন রাজধানী ঢাকাসহ অনেক জেলা-উপজেলার পরীক্ষকরা। এ বিষয়গুলো পরীক্ষার সার্বিক ফলের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করেই এবার দেয়া হবে পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি। আলাদা করে কোনো বৃত্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না। তাই বৃত্তির ফলেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরকম প্রেক্ষাপটেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত শনিবারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল প্রকাশ হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে এ ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। পরীক্ষার ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও এসএসসি পরীক্ষার প্রায় দ্বিগুণ ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় তিনগুণের সমান। এ বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ১০ লাখ ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ দু’টি পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে ৬০ দিনে। আর প্রথমবার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সারাদেশের প্রায় ২০ লাখ ছাত্রছাত্রী।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে জানা যায়, এ পরীক্ষায় মোট ১৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৩১ জন ছাত্রছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করেছিল। তদের মধ্যে ছাত্রী ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৮ জন। আর ছাত্র ৯ লাখ ৯ হাজার ৫২৯ জন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোট ১৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৪৯ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৮ লাখ ৩১ হাজার ৯৭১ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭৮ জন।
এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা এত কম সময়ে নেয়া ও ফল প্রকাশকে অনেকে বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবার প্রচণ্ড পরিশ্রম ও চাপ। একইসঙ্গে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও দক্ষতার অভাবে হয়েছে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি। ব্যাহত হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ের অন্যান্য কার্যক্রম। তবে কম সময়ের মধ্যে ও প্রথমবার এই পরীক্ষা নেয়ার কারণে এসব সমস্যা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। আগামীতে এ সমস্যাগুলো আর থাকবে না বলে আশা করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দুয়েকটি বিষয়ের খাতা একদিনে মূল্যায়ন করেছেন অনেক পরীক্ষক। ফকিরহাট উপজেলার পরীক্ষকরা সময় পেয়েছেন দুই থেকে তিন দিন। এ দুই উপজেলার পরীক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে খাতা মূল্যায়ন করেছেন।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মহাসম্পাদক ও গাজীপুর জেলার আওতাধীন টঙ্গীর আরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আবদুস সালাম আমার দেশকে জানান, তার প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে খাতা বাসায় নিয়ে গেছেন। তিনি খোঁজ নিয়ে জানান, শুধু তাদের স্কুলের পরীক্ষকরাই নন, গাজীপুর জেলার সব পরীক্ষকই নিজ বাড়িতে বসে খাতা মূল্যায়ন করেছেন। ২৬ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারিভাবে স্কুলগুলোতে ঈদের ছুটি থাকায় ২২ থেকে ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে খাতা বাসায় নিয়ে গেছেন পরীক্ষকরা। ছুটি শেষে তারা ৭ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসে খাতা জমা দিয়েছেন। এই চার দিন একইসঙ্গে খাতা নিরীক্ষা ও কোড নম্বর সংযোগ করার কাজও হয়েছে। এই জেলায় একজন পরীক্ষক সর্বোচ্চ প্রায় ২০০টি করে খাতা মূল্যায়ন করেছেন।
শরীয়তপুরের চরপিলিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া জানান, তিনি গণিতের ১৫১টি খাতা ২৫ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১ দিনে মূল্যায়ন করেছেন।
এদিকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় প্রায় ৬০ জন পরীক্ষক প্রায় সাড়ে ৫ হাজার খাতা মূল্যায়ন করেছেন চার দিনে। তবে এ উপজেলায় পরীক্ষার্থী কম থাকায় এক জন পরীক্ষক সর্বোচ্চ ১০০টি খাতা মূল্যায়ন করেছেন।
উপজেলাভেদে খাতা মূল্যায়নের সময় কম-বেশি দেয়ার কারণ সম্পর্কে একাধিক পরীক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকাকেই দায়ী করেছেন। এছাড়া ২৬ নভেম্বর থেকে প্রায় ১০ দিন স্কুলে ঈদের ছুটি ছিল। তাই অনেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাড়াহুড়ো করে ঈদের আগেই খাতা মূল্যায়নের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন পরীক্ষকদের। আর স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপজেলা শিক্ষা অফিসে বসেই পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধান পরীক্ষকের কাছে খাতা জমা দেয়ার সময় ছিল ৫ থেকে ৭ ডিসেম্বর। উত্তরপত্র নিরীক্ষা করার সময় দেয়া হয়েছিল ৭ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা যথাসময়ে শুরু, শেষ ও ফল প্রকাশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে অধিকাংশ স্কুলের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের বছরের শেষে এসে অবহেলিত হতে হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে তাদের স্বাভাবিক পাঠদান। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এ বছর থেকেই নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম এ পরীক্ষায় স্কুলের ফল ভালো করতে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রদের দিকে বিশেষ নজরদারি শুরু করে। পরীক্ষা নেয়া ও নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই ফল প্রকাশ করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রচণ্ড ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যার কারণে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দুই মাস পরপর উপজেলায় অনুষ্ঠিত সাব ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ দায়সারাভাবে দেয়া হয়েছে।
প্রচণ্ড চাপের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলেও প্রশ্ন সহজ হওয়ায় এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা পরীক্ষার্থীর প্রায় ৮০ ভাগই পাস করবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, পরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী জানুয়ারির শেষদিকে এই পরীক্ষার ভিত্তিতে বৃত্তির ফল ঘোষণা করা হবে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


