সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ : জয় ও তারেককে মাইনাস করার জন্যই এ অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
রাজনীতিতে নতুন করে মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এবার মাইনাস করা হচ্ছে বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে। সজীব ওয়াজেদ জয়কে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন। এবারের মাইনাস টু ফর্মুলার সঙ্গে বিরোধী দল বিএনপি জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, শিশু বয়স থেকে প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয়কে জড়িয়ে মিথ্যা খবর পরিবেশন ব্যালেন্সিংয়ের মতো। এনাদার টাইপ অব মাইনাস টু এখানে শুরু হচ্ছে। যেমন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার পরিকল্পনা হয়েছিল। এখন এটা বিএনপির পক্ষ থেকে মাইনাস টু ফর্মুলা শুরু হয়েছে যে, জয়কে মাইনাস কর, তারেককেও মাইনাস কর। গত ১৭ ডিসেম্বর আমার দেশ পত্রিকায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহীকে জড়িয়ে কম্প্রেসার স্থাপন বিষয়ক ৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ক সংবাদের প্রতিবাদে গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি মাইনাস টু ফর্মুলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এটার পেছনে মাহমুদুর রহমানের (আমার দেশ সম্পাদক) উদ্দেশ্য কী আমি অনুধাবন করতে পারছি না।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া খবর প্রকাশের পর আমার দেশ-এর সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের ওপর হামলায় আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করে বলেন, তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার দেশসহ অপর দু’একটি পত্রিকায় কম্প্রেসার স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিরত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রিধারী সজীব ওয়াজেদ জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের জবাব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জনৈক আবু সিদ্দিকীর কথিত অভিযোগের বরাত দিয়ে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন কেবল অনৈতিক ও সংবাদপত্রের নীতিমালারই পরিপন্থী নয়, মৌলিক নাগরিক মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন বটে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দু’একটি সংবাদপত্র তাদের প্রভুদের অসত্ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার নীতিমালা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এবং সংবাদের প্রকৃত সত্যাসত্য যাচাই না করে সম্পূর্ণ অসত্ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জয় এবং অন্যদের চরিত্র হননের জন্য ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করছে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের দেশ ও জাতিবিরোধী কুকর্ম আড়াল করতে কুিসত নোংরামিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের প্রধান পৃষ্ঠপোষক খালেদা জিয়া এবং ওইসব কর্মকাণ্ডের প্রধান হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বিচারাধীন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ মাফিয়াডন তারেক রহমানের সমন্তরাল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে চাকরিরত বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয়কেও সমকাতারে চিহ্নিত করার চেষ্টায় লাগামহীন মিথ্যা প্রচারণায় নেমেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের শাসনামলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়াতে এবং গ্যাস খাতের উন্নয়নে ব্যর্থ হলেও তার সহযোগীদের নিয়ে তারেক রহমানগং খাম্বা সরবরাহের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছে। তারা এখনও চায় না দেশে বিদ্যুত্, গ্যাস ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান হোক। মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘব হোক এবং দেশ শিল্পায়িত হোক। এ কারণেই তারা অলিক অভিযোগ এনে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত ও উন্নয়নের ধারাকে বানচালের নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, কোপেনহেগেনে জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ উত্সাহিত করতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘রোড শো’কে কলঙ্কিত করতেই এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি কোনো অনৈতিক ঘটনা ঘটেনি। কোনো ধরনের লেনদেন এখানে হয়নি। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান বিএনপি সরকারের সময় জ্বালানি ও বিদ্যুত্ উপদেষ্টা ছিলেন। নিজে এক মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বাড়াতে পারেননি। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক বলে বাধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের ভিত্তিহীন, অসত্ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিথ্যা প্রচারণা থেকে দৈনিক আমার দেশসহ সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী এবং সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর। একই সঙ্গে সব সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশনায় সর্বোচ্চ বস্তুনিষ্ঠতা, নীতি-নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, যে মুহূর্তে জাতি গভীর আগ্রহের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে; সেই মুহূর্তে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। দেশের জনগণ এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ও গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের যে কোনো অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রেখে শান্তি, নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে দেশবাসী সর্বদা সহযোগিতা করবে।
আমার দেশ পত্রিকায় পরিবেশিত সংবাদের প্রতিবাদ করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য বিকৃতভাবে পরিবেশন করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন।
আমার দেশ-এর সংবাদের বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে কোনো কর্মসূচি আসবে কিনা জানতে চাইলে আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে এলেই আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবু সিদ্দিকীকে অস্তিত্বহীন বলে উল্লেখ করা হলেও আশরাফুল ইসলাম মৌখিক বক্তব্যে এটার সংশোধনী দেন। তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাদের জানানো হয়েছে আবু সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তি পেট্রোবাংলায় আছেন। তবে তিনি কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি।। আবু সিদ্দিকীর পদ-পদবী জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমাদের জানা নেই। আপনারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন।
বিষয়টি আপনারা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের মধ্যে জয় স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র থাকেন। আর জ্বালানি উপদেষ্টাও ওই সময় দেশের বাইরে ছিলেন। আজ দেশে ফিরেছেন আইনি প্রক্রিয়ায় কিভাবে বিচার পেতে পারি সে বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ উঠলে তদন্ত করা উচিত। তবে বেনামী অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণত তদন্ত করা হয় না। ওই রিপোর্টে আবু সিদ্দিকী নামে যে ব্যক্তির পক্ষ থেকে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি। তিনি আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংবাদিকদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণ করা গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে সরকার।
তিনি বলেন, শনিবার বিকালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার রিপোর্টারের ওপর আক্রমণের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছি ওই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়। বিষয়টি পুলিশি তদন্ত হচ্ছে, যারাই দোষী হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান সৈয়দ আশরাফ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া খবর প্রকাশের পর আমার দেশ-এর সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের ওপর হামলায় আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করে বলেন, তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার দেশসহ অপর দু’একটি পত্রিকায় কম্প্রেসার স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিরত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রিধারী সজীব ওয়াজেদ জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের জবাব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জনৈক আবু সিদ্দিকীর কথিত অভিযোগের বরাত দিয়ে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন কেবল অনৈতিক ও সংবাদপত্রের নীতিমালারই পরিপন্থী নয়, মৌলিক নাগরিক মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন বটে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দু’একটি সংবাদপত্র তাদের প্রভুদের অসত্ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার নীতিমালা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এবং সংবাদের প্রকৃত সত্যাসত্য যাচাই না করে সম্পূর্ণ অসত্ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জয় এবং অন্যদের চরিত্র হননের জন্য ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করছে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের দেশ ও জাতিবিরোধী কুকর্ম আড়াল করতে কুিসত নোংরামিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের প্রধান পৃষ্ঠপোষক খালেদা জিয়া এবং ওইসব কর্মকাণ্ডের প্রধান হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বিচারাধীন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ মাফিয়াডন তারেক রহমানের সমন্তরাল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে চাকরিরত বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয়কেও সমকাতারে চিহ্নিত করার চেষ্টায় লাগামহীন মিথ্যা প্রচারণায় নেমেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের শাসনামলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়াতে এবং গ্যাস খাতের উন্নয়নে ব্যর্থ হলেও তার সহযোগীদের নিয়ে তারেক রহমানগং খাম্বা সরবরাহের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছে। তারা এখনও চায় না দেশে বিদ্যুত্, গ্যাস ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান হোক। মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘব হোক এবং দেশ শিল্পায়িত হোক। এ কারণেই তারা অলিক অভিযোগ এনে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত ও উন্নয়নের ধারাকে বানচালের নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, কোপেনহেগেনে জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ উত্সাহিত করতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘রোড শো’কে কলঙ্কিত করতেই এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি কোনো অনৈতিক ঘটনা ঘটেনি। কোনো ধরনের লেনদেন এখানে হয়নি। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান বিএনপি সরকারের সময় জ্বালানি ও বিদ্যুত্ উপদেষ্টা ছিলেন। নিজে এক মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বাড়াতে পারেননি। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক বলে বাধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের ভিত্তিহীন, অসত্ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিথ্যা প্রচারণা থেকে দৈনিক আমার দেশসহ সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী এবং সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর। একই সঙ্গে সব সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশনায় সর্বোচ্চ বস্তুনিষ্ঠতা, নীতি-নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, যে মুহূর্তে জাতি গভীর আগ্রহের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে; সেই মুহূর্তে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। দেশের জনগণ এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ও গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের যে কোনো অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রেখে শান্তি, নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে দেশবাসী সর্বদা সহযোগিতা করবে।
আমার দেশ পত্রিকায় পরিবেশিত সংবাদের প্রতিবাদ করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য বিকৃতভাবে পরিবেশন করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন।
আমার দেশ-এর সংবাদের বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে কোনো কর্মসূচি আসবে কিনা জানতে চাইলে আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে এলেই আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবু সিদ্দিকীকে অস্তিত্বহীন বলে উল্লেখ করা হলেও আশরাফুল ইসলাম মৌখিক বক্তব্যে এটার সংশোধনী দেন। তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাদের জানানো হয়েছে আবু সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তি পেট্রোবাংলায় আছেন। তবে তিনি কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি।। আবু সিদ্দিকীর পদ-পদবী জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমাদের জানা নেই। আপনারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন।
বিষয়টি আপনারা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের মধ্যে জয় স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র থাকেন। আর জ্বালানি উপদেষ্টাও ওই সময় দেশের বাইরে ছিলেন। আজ দেশে ফিরেছেন আইনি প্রক্রিয়ায় কিভাবে বিচার পেতে পারি সে বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ উঠলে তদন্ত করা উচিত। তবে বেনামী অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণত তদন্ত করা হয় না। ওই রিপোর্টে আবু সিদ্দিকী নামে যে ব্যক্তির পক্ষ থেকে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি। তিনি আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংবাদিকদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণ করা গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে সরকার।
তিনি বলেন, শনিবার বিকালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার রিপোর্টারের ওপর আক্রমণের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছি ওই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়। বিষয়টি পুলিশি তদন্ত হচ্ছে, যারাই দোষী হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান সৈয়দ আশরাফ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


