তিন শত্রুর আক্রমণে বিপর্যস্ত সুন্দরবন অস্তিত্ব সঙ্কটের আশঙ্কা
এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা
একাধিক শত্রুর নানামুখী আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সুন্দরবন। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় টপডাইং (আগামরা) রোগের প্রকোপ বাড়ছে। আর চোরাশিকারিরা একদিকে নির্বিচারে হরিণ শিকার করছে, অন্যদিকে কাঠচোর সিন্ডিকেট মূল্যবান কাঠ কেটে পাচার করছে। প্রকৃতি ও মানুষের এ ধরনের বৈরী আচরণ চলতে থাকলে সুন্দরবনের মৃত্যু ঠেকানো যাবে না বলে পরিবেশবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর বন পুনর্গঠনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপে ক্ষতি কোনো রকমে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় সুন্দরবন। কিন্তু নতুন করে হানা দেয় আইলা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আঘাত। গত কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় উজানের নোনা পানি সুন্দরবনের ভেতরের সব নদী-খালে প্রবেশ করতে শুরু করে। আর তাতেই মারা যাচ্ছে সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী গাছ। ৭০’র দশকের শুরু থেকে আগামরা রোগাক্রান্ত গাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে গেলেই দেখা যায় শত শত আগামরা গাছ। সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিডরের জলোচ্ছ্বাসে সাগরের লবণ পানি ঢুকে যায় সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাইলের পর মাইল এলাকায়। সেখানকার পশুপাখিরা চলে আসে পশ্চিম সুন্দরবন এলাকায়। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে পূর্ব থেকে পশ্চিমে এলেও চোরাশিকারিদের হাতে প্রতিনিয়ত প্রাণ দিতে হচ্ছে পশুপাখিদের। প্রতিদিনই সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার শিকারিরা ফাঁদ পেতে শিকার করছে হরিণ ও পাখি। সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন হাট-বাজারে তা দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকা থেকে পঁচিশ কেজি মাংস ও ৭টি হরিণ উদ্ধার করে বন বিভাগ। যার ছয়টি মারা যায় উদ্ধারের পরদিন।
সূত্র জানায়, সুন্দরবন থেকে গড়ে প্রতিদিন শতাধিক মায়াবি হরিণ শিকারিদের হাতে ধরা পড়ে। এই হরিণ বিক্রির টাকার ভাগ বন বিভাগের কর্মকর্তারাও পান বলে জানা যায়।
এছাড়া সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান কাঠ। প্রতিদিন এ বিভাগ থেকে পাচার হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ। যে পরিমাণ কাঠ পাচার হচ্ছে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করছে তার সামান্য অংশ। এ এলাকার গাছ পশুর ও শিবসা নদী দিয়ে পাচার করা হয়। খুলনা রেঞ্জের বটিয়াঘাটা টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এ কাঠ চলে আসে রূপসা ও লবণচরা এলাকায়। পূর্ব বন বিভাগ থেকে পাচার হওয়া কাঠ উদ্ধার হয়েছে গোপালগঞ্জ, টেকেরহাট, খুলনার চালনা, বটিয়াঘাটা, রূপসা, মংলা, পাথরঘাটা, আমুরবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে।
এ ব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুন্দরবন থেকে কাঠ ও অন্যান্য সম্পদ পাচার হয়ে আসছে বছরের পর বছর। বন বিভাগের কিছু সংখ্যক লোক পাচার ও শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকায় তা প্রতিরোধে বন আইনের কোনো পদক্ষেপই কাজে আসে না। এর আগে পাচার প্রতিরোধের ব্যবস্থা হিসেবে মংলার ফুয়েল জেটিতে টহল জোরদার, আমুরবুনিয়ায় মোবাইল টিমে জনবল বৃদ্ধি ও পশুর নদীতে ৫ সদস্যের টিম দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা তো রয়েছেই। কিন্তু নিজেরা সত্ না হলে কোনো পদক্ষেপই কাজে আসবে না। তা ছাড়া লোকবল খুবই কম সুন্দরবন পাহারার জন্য। তা ছাড়া পরিবহন সমস্যা তো লেগেই আছে। দেশি-বিদেশি বনদস্যু ও পাচারকারীরা অত্যন্ত শক্তিশালী যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা যায় না।
ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর বন পুনর্গঠনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপে ক্ষতি কোনো রকমে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় সুন্দরবন। কিন্তু নতুন করে হানা দেয় আইলা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আঘাত। গত কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় উজানের নোনা পানি সুন্দরবনের ভেতরের সব নদী-খালে প্রবেশ করতে শুরু করে। আর তাতেই মারা যাচ্ছে সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী গাছ। ৭০’র দশকের শুরু থেকে আগামরা রোগাক্রান্ত গাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে গেলেই দেখা যায় শত শত আগামরা গাছ। সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিডরের জলোচ্ছ্বাসে সাগরের লবণ পানি ঢুকে যায় সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাইলের পর মাইল এলাকায়। সেখানকার পশুপাখিরা চলে আসে পশ্চিম সুন্দরবন এলাকায়। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে পূর্ব থেকে পশ্চিমে এলেও চোরাশিকারিদের হাতে প্রতিনিয়ত প্রাণ দিতে হচ্ছে পশুপাখিদের। প্রতিদিনই সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার শিকারিরা ফাঁদ পেতে শিকার করছে হরিণ ও পাখি। সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন হাট-বাজারে তা দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকা থেকে পঁচিশ কেজি মাংস ও ৭টি হরিণ উদ্ধার করে বন বিভাগ। যার ছয়টি মারা যায় উদ্ধারের পরদিন।
সূত্র জানায়, সুন্দরবন থেকে গড়ে প্রতিদিন শতাধিক মায়াবি হরিণ শিকারিদের হাতে ধরা পড়ে। এই হরিণ বিক্রির টাকার ভাগ বন বিভাগের কর্মকর্তারাও পান বলে জানা যায়।
এছাড়া সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান কাঠ। প্রতিদিন এ বিভাগ থেকে পাচার হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ। যে পরিমাণ কাঠ পাচার হচ্ছে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করছে তার সামান্য অংশ। এ এলাকার গাছ পশুর ও শিবসা নদী দিয়ে পাচার করা হয়। খুলনা রেঞ্জের বটিয়াঘাটা টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এ কাঠ চলে আসে রূপসা ও লবণচরা এলাকায়। পূর্ব বন বিভাগ থেকে পাচার হওয়া কাঠ উদ্ধার হয়েছে গোপালগঞ্জ, টেকেরহাট, খুলনার চালনা, বটিয়াঘাটা, রূপসা, মংলা, পাথরঘাটা, আমুরবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে।
এ ব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুন্দরবন থেকে কাঠ ও অন্যান্য সম্পদ পাচার হয়ে আসছে বছরের পর বছর। বন বিভাগের কিছু সংখ্যক লোক পাচার ও শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকায় তা প্রতিরোধে বন আইনের কোনো পদক্ষেপই কাজে আসে না। এর আগে পাচার প্রতিরোধের ব্যবস্থা হিসেবে মংলার ফুয়েল জেটিতে টহল জোরদার, আমুরবুনিয়ায় মোবাইল টিমে জনবল বৃদ্ধি ও পশুর নদীতে ৫ সদস্যের টিম দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা তো রয়েছেই। কিন্তু নিজেরা সত্ না হলে কোনো পদক্ষেপই কাজে আসবে না। তা ছাড়া লোকবল খুবই কম সুন্দরবন পাহারার জন্য। তা ছাড়া পরিবহন সমস্যা তো লেগেই আছে। দেশি-বিদেশি বনদস্যু ও পাচারকারীরা অত্যন্ত শক্তিশালী যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা যায় না।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


