Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ২১ ডিসেম্বর ২০০৯, ৭ পৌষ ১৪১৬, ৩ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে বগুড়া আযিযুল হক কলেজ বন্ধ

বগুড়া অফিস
বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজে গতকাল আওয়ামী ছাত্রলীগ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক আহত হয়েছে। আহতরা শজিমেক, মোহাম্মদ আলী ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক এবং ঢাকায় চিকিত্সাধীন রয়েছে। চার ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কলেজ ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকা। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ১৮/২০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উভয় দলের পক্ষ থেকে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজ নিজ দলের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। এ ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর সোয়া ১২টায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের পৃথক কর্মসূচি চলাকালে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবাদ বাধে। একপর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় ককটেল ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ কলেজ ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে ১৮/২০টি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। উভয় পক্ষ দাবি করেছে এ ঘটনায় তাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সাতমাথা-তিনমাথা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই সড়কে চলাচলরত সাধারণ জনতাকে মারপিট ও ৪টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এছাড়াও কলেজের বিভিন্ন কক্ষ ভাংচুর করা হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় কলেজের তিতুমীর ছাত্রাবাস, আক্তার আলী মুন ও শেরেবাংলা হল ও আশপাশের কয়েকটি ছাত্রাবাসে। এ সময় ব্যাপক লুটপাট করা হয়। বর্তমানে এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সময় জামিলনগরে ৪টি বাড়ির বৈদ্যুতিক মিটারও ভাংচুর করা হয়। ছাত্রলীগ একপর্যায়ে কলেজের সামনের মাহফুজার রহমান চৌধুরীর গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করে ১ হাজার ২০০ বস্তা ধান পুড়িয়ে ফেলে। ওই গোডাউনে রক্ষিত ছিল আড়াই হাজার মণ ধান। পরে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সমাবেশ করে। তবে ছাত্রশিবির পুলিশের লাঠিপেটায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। ছাত্রলীগ আযিযুল হক কলেজের তিনটি ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ হল ত্যাগের নির্দেশ দেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেন। তবে কলেজে শুধু ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এছাড়াও দুদলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে পুলিশের হাবিলদার জাহিদুল ইসলাম আহত হয়।
এদিকে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সরকারি আযিযুল হক কলেজ শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাদশা বলেন, প্রতিদিনের মতো শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শিবির নিজস্ব টেন্টে অবস্থান করছিল। এ অবস্থায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রলীগ কর্মী মিছিল করে তাদের টেন্টে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা পোড়াচ্ছিল এবং ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পিস্তল, রামদা, হকিস্টিক, কাটারাইফেল নিয়ে ছাত্রশিবিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ছাত্ররা প্রতিরোধ করলে ছাত্রলীগ পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শিবিরকর্মী ও সাধারণ কর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে কলেজ সেক্রেটারি মানিক হোসেনের চোখে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাস সভাপতি মোতাসিম বিল্লাহ ও শিবিরকর্মী ওবায়েদের মাথায় রামদা দিয়ে কোপানো হয়। তাদেরকেও ঢাকা মেডিকেল কজেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই হামলায় আহত হয়েছে হাসান, শামীম, আশিকুর, আতিক, মিরাজুল, শাহাদত, কাওছার, শহিদুল, নাজমুল, শিফাত, রাশেদ, ছালাম পারভেজ, এমদাদুল হক, মেহেদী হাসান, এয়াকুবসহ অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। এ সময় কলেজ প্রিন্সিপালের সাহায্য চাওয়া হলেও তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর ছাত্রলীগ শহীদ তিতুমীর হলের ৩৮টি, আকতার আলী মুন হলের ১৮টি ও শেরেবাংলা হলের ৫টি কক্ষের ছাত্রশিবিরের কর্মীদের আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগ ও ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়াও পুরনো বগুড়ায় শিবির নিয়ন্ত্রিত সিয়াম ছাত্রাবাস, টিসামনি, বন্ধন, লাবনী, রিমু ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে মূল্যবান মালামাল লুট করে। হামলা চলাকালে হলের ছাত্রশিবিরের ৩ কর্মী আজাদুল ইসলাম, ফাইম ইসলাম ও আবু হানিফ নিখোঁজ রয়েছে। সম্মেলনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, অবিলম্বে কলেজ ও হলগুলো খুলে দেয়া এবং কলেজে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনে শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম আকন্দ, পৌর কাউন্সিলর এরশাদুল বারী এরশাদ, সাবেক নেতা মাজেদুর রহমান জুয়েল, জাকির হোসেন সেলিম, বায়জীদ আহম্মেদ, আজগর আলী, শাহাদত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে বগুড়া প্রেসক্লাবে সম্মেলনে ছাত্রলীগ কলেজ শাখার আহ্বায়ক আবু জাফর মোঃ মাহমুদুন নবী রাসেল বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ড. সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে একটি জাতীয় পত্রিকায় বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুয়ায়ী সমাবেশ চলাকালে শিশির নামধারী সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। এতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। আহতরা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছে মাশরাফি হিরো, সাজ্জাদুর রহমান নুর, সাগর ও অসীম। এছাড়াও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, রতন রায়, বেনজির আহম্মেদ, লিটন, শাহীন, রাহী, বিজয়, আতিক, শরিফুল ইসলাম, জনি, ফেরদৌস, জগলুল পাশা, রবিউল ইসলাম লিটন, লক্ষ্মণচন্দ্র দাস, আতিকুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এছাড়াও শিবিরের নেতাকর্মীরা দিগন্ত ছাত্রাবাস, সারোয়ারী, শুভ ম্যানসন, তালুকদার ছাত্রাবাস, নামহীন ছাত্রাবাস, এজেড ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জামিলনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলে আযিযুল হক কলেজে রাজনীতি করছে শিবির। তাই অবিলম্বে অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আহ্বান জানান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি, কামরুল হুদা উজ্জ্বল, কামরুল হাসান ডালিম, আমিনুল হক ডাবলু প্রমুখ।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?