ফিচার : শীতার্ত মানুষের পাশে বসুন্ধরা
আলাউদ্দিন আরিফ, মানিকগঞ্জ থেকে ফিরে
জবেদা খাতুনের বয়স নব্বইয়ের ঘরে। বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে যাওয়া এই বৃদ্ধা একটু হেঁটে এসেই হাঁপাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে থাকার পরও এই বৃদ্ধা চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। দরিদ্র এই বৃদ্ধার ছেলেমেয়ে সবারই দৈন্যদশা। তারা মাকে সহায়তা করতে অসমর্থ। তাই নিদারুণ কষ্টে কাটে জবেদার জীবন। শীতের দিনে তার কষ্টের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। খাওয়ার দুশ্চিন্তা, অসুখের যন্ত্রণার পাশপাশি প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দেয় শীত। এ বাড়ি-ও বাড়ি থেকে চেয়েচিন্তে আনা দু’একটি পুরনো কাপড়, আর পাটের বস্তায় তৈরি মোটা কাঁথাই তার শীত তাড়ানোর হাতিয়ার। এগুলোতে শীত মানতে চায় না। অনেক দিন থেকে মনে মনে চেয়েছেন যদি একখানা কম্বল পাওয়া যেত। গতকাল দুপুরে তার সেই চাওয়া পূরণ হয়। তাকে নতুন একখানা কম্বল উপহার দেয়া হয় বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে। কম্বল পেয়ে মহাখুশি এই বৃদ্ধা বলেন, ‘এইবার শীত থেইক্যা একটু আরামে ঘুমান যাব। যারা আমারে কম্বল দিছে আল্লা তাগোর বালা করুক।’
গতকাল মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর খাটাগ্রা আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রায় ৫ হাজার হতদরিদ্র অসহায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করে বসুন্ধরা গ্রুপ।
বৈকুণ্ঠপুর এলাকাটি মানিকগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। এলাকায় সড়ক বলতে একটি মাটির রাস্তা। তাও আবার ব্রিজ-কালভার্টগুলো ভাঙা। ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এই এলাকাটির রাস্তাঘাট বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে থাকে পানির নিচে। তখন যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় রিকশা-ভ্যান কিংবা টেম্পো চলে। এলাকার মানুষের প্রধান পেশা চাষাবাদ। তবে এখন এলাকায় ধানের পরিবর্তে তামাক চাষের দৃশ্য দেখা যায় বেশি। একরের পর একর জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। ধান, সরিষার ক্ষেতও আছে মাঝে মাঝে। এলাকার বেশির ভাগ বাসিন্দাই হতদরিদ্র, অসহায়। এসব অসহায় মানুষের মধ্যে গতকাল বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ হাসান রনু। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুর রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা তাইবুর রহমান টিপু, মাহাবুবুর রহমান জনিসহ অনেকে। এখানে বিতরণ করা হয় ৫ হাজার কম্বল, ২ হাজার সোয়েটার ও এক হাজার শাড়ি।
বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, আজ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে দৌলতপুর উপজেলার যমুনার চর এলাকা বাচামারা, চরকাটারি, বাগদিয়া ও জিয়ানপুর ইউনিয়নে। অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও দুস্থসহ ৫ সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয় এসব শীতবস্ত্র। ছিন্নবস্ত্রপরা এসব মানুষ শীতবস্ত্র পেয়ে মুহূর্তের জন্য হলেও দারুণ খুশি হয়।
সিংজুরী ইউনিয়নের চরমাইজখারা গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আশেক আলী ও বৈলতলা গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল খালেক জানান, তাদের এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রায় প্রতি বছরই শীতবস্ত্র, খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য বিতরণ করা হয়। এগুলো তাদের মতো গরিব ও অসহায় মানুষের বেশ কাজে আসে। বছরে ৪-৫ বার তারা বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে সাহায্য পান। এছাড়াও এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে একটি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও হাসপাতাল করা হয়েছে।
গতকাল কম্বল নিতে আসা বড়বিল্লালাই গ্রামের ৮৫ বছরের বৃদ্ধা নূরজাহান বেগম জানান, তিনি কাজকর্ম করতে পারেন না, ছেলেমেয়েদেরও অবস্থা ভালো না। ঘরে শীতের কাপড় নেই। এই অবস্থায় সামান্য হলেও কম্বলটি তার বেশ উপকারে আসবে। বিল্লালাই গ্রামের অপর বাসিন্দা অশীতিপর বৃদ্ধ মোঃ কানু মিয়া বলেন, ‘তাগো দেয়া কম্বলখানা ভালোই, রাইতে গায়ে দিমু।’ বৃদ্ধা ফাতেমুনও বলেন একই কথা।
সিংজুরী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এলাকায় অনেক ধনী লোক আছে। তাদের অনেকেই এলাকার দিকে ফিরেও তাকায় না। সেক্ষেত্রে বসুন্ধরা গ্রুপের এসব উদ্যাগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদ, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
গতকাল মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর খাটাগ্রা আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রায় ৫ হাজার হতদরিদ্র অসহায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করে বসুন্ধরা গ্রুপ।
বৈকুণ্ঠপুর এলাকাটি মানিকগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। এলাকায় সড়ক বলতে একটি মাটির রাস্তা। তাও আবার ব্রিজ-কালভার্টগুলো ভাঙা। ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এই এলাকাটির রাস্তাঘাট বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে থাকে পানির নিচে। তখন যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় রিকশা-ভ্যান কিংবা টেম্পো চলে। এলাকার মানুষের প্রধান পেশা চাষাবাদ। তবে এখন এলাকায় ধানের পরিবর্তে তামাক চাষের দৃশ্য দেখা যায় বেশি। একরের পর একর জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। ধান, সরিষার ক্ষেতও আছে মাঝে মাঝে। এলাকার বেশির ভাগ বাসিন্দাই হতদরিদ্র, অসহায়। এসব অসহায় মানুষের মধ্যে গতকাল বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ হাসান রনু। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুর রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা তাইবুর রহমান টিপু, মাহাবুবুর রহমান জনিসহ অনেকে। এখানে বিতরণ করা হয় ৫ হাজার কম্বল, ২ হাজার সোয়েটার ও এক হাজার শাড়ি।
বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, আজ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে দৌলতপুর উপজেলার যমুনার চর এলাকা বাচামারা, চরকাটারি, বাগদিয়া ও জিয়ানপুর ইউনিয়নে। অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও দুস্থসহ ৫ সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয় এসব শীতবস্ত্র। ছিন্নবস্ত্রপরা এসব মানুষ শীতবস্ত্র পেয়ে মুহূর্তের জন্য হলেও দারুণ খুশি হয়।
সিংজুরী ইউনিয়নের চরমাইজখারা গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আশেক আলী ও বৈলতলা গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল খালেক জানান, তাদের এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রায় প্রতি বছরই শীতবস্ত্র, খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য বিতরণ করা হয়। এগুলো তাদের মতো গরিব ও অসহায় মানুষের বেশ কাজে আসে। বছরে ৪-৫ বার তারা বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে সাহায্য পান। এছাড়াও এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে একটি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও হাসপাতাল করা হয়েছে।
গতকাল কম্বল নিতে আসা বড়বিল্লালাই গ্রামের ৮৫ বছরের বৃদ্ধা নূরজাহান বেগম জানান, তিনি কাজকর্ম করতে পারেন না, ছেলেমেয়েদেরও অবস্থা ভালো না। ঘরে শীতের কাপড় নেই। এই অবস্থায় সামান্য হলেও কম্বলটি তার বেশ উপকারে আসবে। বিল্লালাই গ্রামের অপর বাসিন্দা অশীতিপর বৃদ্ধ মোঃ কানু মিয়া বলেন, ‘তাগো দেয়া কম্বলখানা ভালোই, রাইতে গায়ে দিমু।’ বৃদ্ধা ফাতেমুনও বলেন একই কথা।
সিংজুরী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এলাকায় অনেক ধনী লোক আছে। তাদের অনেকেই এলাকার দিকে ফিরেও তাকায় না। সেক্ষেত্রে বসুন্ধরা গ্রুপের এসব উদ্যাগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদ, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


