Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ২১ ডিসেম্বর ২০০৯, ৭ পৌষ ১৪১৬, ৩ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ঢাকা মেডিকেলে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ব্যয়বহুল নির্বাচনী প্রচারণা : এত টাকার উত্স কোথায়?

নেসার উদ্দিন আহমেদ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেহারা হঠাত্ করেই পাল্টে গেছে। হাসপাতালের বাইরে ও ভেতরে শুধু পোস্টার আর পোস্টার। আর এই পোস্টারগুলো হলো হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের। রঙবেরঙের পোস্টার দেখে হাসপাতালে আসা অনেকেই মন্তব্য করছেন, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আয়ের উত্স কোথায়? এত বর্ণিল পোস্টার সংসদ নির্বাচনের অনেক প্রার্থীকেও হার মানিয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, নির্বাচনের কারণে অধিকাংশ প্রার্থী এরই মধ্যে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছে না। অফিস চলাকালেই তারা নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছে। হঠাত্ করেই বের করছে মিছিল। এতে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে উঠছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশই প্রার্থীরা মানছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, হাজার হাজার টাকা খরচ করছেন প্রার্থীরা পোস্টার ও প্রচারণায়।
গতকাল সরেজমিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরের দোকানগুলোও ঢাকা মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। আর হাসপাতালে তো কথাই নেই। জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে বহির্বিভাগ পর্যন্ত দেয়ালে শুধু রঙিন পোস্টার আর পোস্টার। কথা হয় হাসপাতালের এক কর্মচারীর সঙ্গে। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এবারের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন। প্রার্থীরা ইচ্ছেমতো টাকা খরচ করছেন। কেউ কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় বলছেন, নির্বাচনে পাস করার জন্য টাকা কোনো ব্যাপার নয়। লাখ লাখ টাকা খরচ করতে অনেক প্রার্থীই প্রস্তুত রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি এমএ হান্নান আমার দেশকে জানান, এবার ১৭টি পদের জন্য প্রার্থী সংখ্যা ৮৪ জন। এর মধ্যে ৩ জন সহ-সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৩ জন। ৩ জন সদস্য পদের জন্য প্রার্থী সংখ্যা ১৬ জন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যথাক্রমে ৩ জন ও ৫ জন করে প্রার্থী। তিনি বলেন, এর আগে নির্বাচন হতো দুটি প্যানেলে। এবার কোনো প্যানেল নেই। সবাই এককভাবে নির্বাচন করছেন। অনেক প্রার্থীই কোনো নিয়ম-নীতি মানছেন না।
আগামী ২৯ ডিসেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে একটানা বিকাল ৫টা পর্যন্ত নির্বাচন চলবে। নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থীরা হলেন—এম এ হান্নান, মোঃ আব্দুল খালেক এবং মোঃ ফিরোজ মিয়া। আর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হলেন—এসএম শাহজাহান কবির, মোঃ সামসুল আলম, মোঃ আনোয়ারুল আলম, মোঃ জুলহাস মিয়া ও মোঃ মোস্তফা কামাল।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, এর মধ্যে কর্মচারীদের ভোট কেনা হচ্ছে। অনেক প্রার্থী টাকা ছড়াচ্ছেন এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তাদের এই টাকার উত্স কোথায়? কারণ, একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বেতন সর্বসাকল্যে প্রায় ৭ হাজার টাকা মাত্র। এর মধ্যে অনেকের বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য বিল কেটে রাখা হয়। এই সামান্য টাকার মধ্যে প্রার্থীরা কীভাবে এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন? এমনই প্রশ্ন করেছেন হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা। আর এ ব্যাপারে কোনো কর্মচারীকে প্রশ্ন করা যায় না বলে ওই কর্মকর্তারা জানান। কারণ, ওই সব প্রার্থী নির্বাচনে জয়ের আগেই সরকার দলীয় লোক বলে হুমকি দিচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু কোনো কর্মচারীই তা মানছেন না। এ ব্যাপারে এম এ হান্নন বলেন, কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশ তারা পাননি। যদি তাদের কোনো নির্দেশ দেয়া হয় তবে তা অবশ্যই পালন করবেন।সূত্র জানায়, হাসপাতালের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের এলিফ্যান্ট রোড ও আজিমপুরের স্টাফ কোয়ার্টারগুলোতেও নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। একজন প্রার্থী জানান, কোয়ার্টারগুলোতে চলছে টাকার ছড়াছড়ি।
হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এসএম শাহজাহান কবীর বলেন, হাসপাতালের ভেতরে কোনো পোস্টার লাগানো যাবে না। সমিতির পক্ষ থেকে এমনই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কিন্তু কেউই সে সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা করছে না।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?