Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ২১ ডিসেম্বর ২০০৯, ৭ পৌষ ১৪১৬, ৩ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রাজনগরে সবুজ বিপ্লব

আউয়াল কালাম বেগ, মৌলভীবাজার থেকে
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার অনেক কৃষক শীতকালীন সবজি চাষ করে বিপুল মুনাফা করেছেন । রাজনগর থেকেই প্রতিদিন শত শত মণ রকমারি সবজি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। এ উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের কৃষক নানান জাতের সবজি চাষ করেন। মাঠের পর মাঠ সবজির সমাহার দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। এখানকার কৃষকরা সবজির ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার করেন না তারা মেহগনি গাছের ফল দিয়ে নিজের তৈরি করা কীটনাশক ব্যবহার করেন। উপজেলার কর্নিগ্রাম, মেসহস্র, পার্শিপাড়া, বাজুয়া, গ্রাম রাজনগর, প্রেমনগর, নন্দীউড়া, ভুজবল, মজিদপুর, দাসটিলা, মশাজান ও স্বাসমহল গ্রামে ব্যাপক হারে সবজি চাষ হয়ে থাকে। উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অভিনাশ চন্দ্র দাস বলেন, এখানকার জমিও সবজি চাষের জন্য উপযুক্ত। গত কৃষি দিবসে তিনজন সফল সবজি চাষীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এরা হলেন, কর্নিগ্রামের আকলু মিয়া চৌধুরী বরুন, মোনায়েম খান গেদন ও ৩য় পুরস্কার পেয়েছেন স্বাসমহল গ্রামের প্রবীর দত্ত। সরেজমিন দেখা গেছে, সবজি চাষীরা পরিবারের সদস্য নিয়ে যে যার মতো ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। স্কুলছাত্র তারেক আল হোসাইন বলেন, তারা দাদার আমল থেকেই এখানে সবজি চাষ করে আসছেন । আকলু মিয়া চৌধুরী জানান, তিনি ৮ বিঘা জমিতে সবজির চাষ করেছেন, প্রতি বিঘা জমির সবজি বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা মুনাফা পাবেন বলে আশাবাদী। এর পেছনে খরচ পড়বে ৪০ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, সবজি ক্ষেতের রোগবালাই, পোকা দমনের জন্য বাজারি কীটনাশক ক্ষেতে ব্যবহার করেন না তিনি। নিজেদর তৈরি মেহগনি গাছের ফল থেকে ভেষজ কীটনাশক তৈরি ও ব্যবহার করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে মোট ৭৫০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা রকমারি সবজি চাষ করেছিলেন। ২০০৯-১০ অর্থবছরে আবাদকৃত জমির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৮৪০ হেক্টর, এ পর্যন্ত চাষ হয়েছে ৩২৫ হেক্টর জমিতে।
লালশাক, পালংশাক, শিম, আলু, মুলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, লাউ, ওলকপি, পরাস শিম, মিষ্টি কুমড়া, লাউশাক ও পানিকচু চাষ হয়েছে বেশি। শীতকালীন সবজিতে বাজার সয়লাব, দামও অনেক কম। পাইকারি সবজি বিক্রেতা স্বপন দেব ও সজল বৈদ্য জানান, সবজির মাঠ ও হাট থেকে সবজি কিনে পরিবহন খরচ শ্রমিকের মজুরি প্রভৃতি পরিশোধের পর তারা সামান্য লাভ করতে পারেন। কখনও কখনও সবজি বেছে লোকসানও গুনতে হয় । পচনশীল দ্রব্য হওয়ায় সবজি সংরক্ষণ করা যায় না, বাধ্য হয়ে কম দামে ক্রেতার কাছে ছেড়ে দিতে হয় ।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?