সেচ সঙ্কট : বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো আবাদ কমে যাচ্ছে
মোঃ সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী (রাজশাহী)
বরেন্দ্র জনপদের সবগুলো উপজেলায় বোরো আবাদের প্রস্তুতি চলছে। সেচ সঙ্কটের কারণে চলতি বছর রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের সব উপজেলায় বোরো আবাদের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভরা বর্ষাতেও বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রচণ্ড খরা দেখা দেয়। কৃষকরা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে ব্যাপক রোপা আমনের চাষ করলেও গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ নিয়ে রোপা আমন ধানকে বাঁচানো হয়। মারাত্মক খরার কারণে চলতি রোপা আমন মৌসুমে বিঘাপ্রতি ১৬ মণের স্থলে মাত্র ৮ মণ ধান উত্পাদন হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোপা আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ অঞ্চলের কৃষকরা চলতি বোরো মৌসুমে আবাদের পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বীজতলা তৈরি করেছে। কিন্তু বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) হঠাত্ নোটিশ পাওয়ার পর কৃষকরা বোরো আবাদ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বিএমডিএ’র অধীন গভীর নলকূপগুলোর পানির স্তর খরার কারণে গত বছরের চেয়ে ৫/১০ ফিট নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপগুলোতে পানি কম উঠছে। বর্তমানে ৬০ ফুট নিচে পানি পাওয়া যাচ্ছে বলে গভীর নলকূপের অপারেটররা জানান। অথচ গত বছর এসব গভীর নলকূপে মাত্র ৪৫-৫০ ফিট নিচে পানি পাওয়া গিয়েছিল। গোদাগাড়ী কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর গোদাগাড়ী উপজেলায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে সেচ ও বিদ্যুত্ সঙ্কটের আশঙ্কায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেয়ে আরও কম জমিতে বোরো আবাদ হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছে। বিএমডিএ গোদাগাড়ী জোন সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলায় ৭০৯টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে ৭০৫টি গভীর নলকূপ সচল রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে প্রতিটি নলকূপের অধীনে ৩ থেকে ৫শ’ বিঘা পর্যন্ত জমি আবাদ হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের অজুহাতের কারণে সেচ দেয়া নিশ্চিত হবে না এ মর্মে কৃষকদের বোরো জমির আবাদ কমিয়ে গমের আবাদ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে নোটিশ দিয়েছে বিএমডিএ। বিএমডিএ’র নোটিশে জানানো হয়, কৃষকরা প্রতিটি নলকূপের অধীনে মাত্র ১শ’ বিঘা বোরো আবাদ করতে পারবে। বিএমডিএ’র এ সিদ্ধান্তের কারণে গভীর নলকূপের অধীনে চলতি বছর গোদাগাড়ীতে মাত্র ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হবে। ফলে গোদাগাড়ী উপজেলায় কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বরেন্দ্র অঞ্চলে পড়ায় গত ৬ মাসে মোটেও বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে প্রচণ্ড কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা ও টমেটোসহ শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে কৃষকরা জানান।
এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলা করে বরেন্দ্র অঞ্চলকে বাঁচাতে আন্দোলনে নেমেছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জামাত খান জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে বাঁচাতে ও সেচ নিশ্চিত করতে এবং বিএমডিএ’র প্রকল্পকে স্থায়ীরূপ দিতে ভূউপরস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড গৃহীত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করে বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশকে বাঁচাতে হবে। উল্লেখ্য, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীতে দুটি পাম্প বসিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের তিনটি জেলায় সেচ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলা করে বরেন্দ্র অঞ্চলকে বাঁচাতে আন্দোলনে নেমেছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জামাত খান জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে বাঁচাতে ও সেচ নিশ্চিত করতে এবং বিএমডিএ’র প্রকল্পকে স্থায়ীরূপ দিতে ভূউপরস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড গৃহীত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করে বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশকে বাঁচাতে হবে। উল্লেখ্য, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীতে দুটি পাম্প বসিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের তিনটি জেলায় সেচ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


