Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ২১ ডিসেম্বর ২০০৯, ৭ পৌষ ১৪১৬, ৩ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

খুলনা জেনারেল হাসপাতালে সিজার রোগীর অর্ধেকই ইনফেকশনে আক্রান্ত

খুলনা অফিস
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে গৃহবধূ নাছিমা গত ৮ নভেম্বর ভর্তি হন। ওই দিন সিজারের মাধ্যমে তার একটি পুত্র সন্তান হয়। ৭ দিন পর সেলাই কাটা হয়। তার পরদিন ক্ষত স্থানে ইনফেকশন ধরা পড়ে। পুনরায় ১৬ দিন পর আবারও সেলাই করা হয়। এর ১২ দিন পর সেলাই কাটা হলে সেখানে আবারও ইনফেকশন দেখা দেয়। শুধু নাছিমার ক্ষেত্রে নয়, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের অধিকাংশই রোগীকেই এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত এক মাসে গাইনি বিভাগে অপারেশন হওয়ার পর প্রায় ৩০-৩৫ রোগীর ইনফেকশন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো রোগীকে ২ থেকে ৩ বার নতুন করে ক্ষত স্থানে সেলাই করা হয়েছে। অনেক রোগী ইনফেকশনের কারণে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিত্সা গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, গত এক মাসে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে মোট অপারেশনের রোগীর সংখ্যা ৩০৭ জন। এর মধ্যে সার্জারি বিভাগে ৫০, অর্থোপেডিক্স বিভাগে ৯, গাইনি বিভাগে ৬৩, চক্ষু বিভাগে ২৩ এবং ডেন্টাল বিভাগে ১৬২ রোগীর অপারেশন হয়। এর মধ্যে গাইনি বিভাগে অপারেশনের অর্ধেক রোগীর ক্ষত স্থানে ইনফেকশন দেখা দেয়।
নূরুল ইসলাম বলেন, অসচ্ছলতার কারণে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি না করে এখানে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত তার ১৫ হাজার টাকার ওপরে খরচ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হলে তার ৬ হাজারের ঊর্ধ্বে খরচ হতো না। এ পর্যন্ত গাইনি বিভাগে অপারেশন করা অনেক রোগীর ইনফেকশন হয়েছে। তিনি বলেন, ২-৩ দিন আগে এলে আরও রোগীর একই অবস্থা দেখতে পেতেন। অনেকে পালিয়ে যায় বলে তিনি জানান। একইভাবে অভিযোগ করলেন গাইনি বিভাগে ১১ ও ১২নং বেডের ভুক্তভোগী সুমা ও পপি রানী দাস।
গৃহবধূ সুমা জানান, ১ মাস ৩ দিন ধরে এ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন। তার অপারেশন করে শিশু সন্তান জন্ম হয়। এর ৮ দিন পর তার ক্ষত স্থানে ইনফেকশন দেখা দিলে আবার সেলাই করা হয়। গৃহবধূ পপি রানী দাস জানান, ১৯ দিন আগে তার অপারেশন করা হয়। এ পর্যন্ত তার ক্ষত স্থানে দু’বার ইনফেকশন হয়েছে এবং দু’বারই তাকে নতুন করে সেলাই করা হয়। তিনি বলেন, ক্ষত স্থান থেকে পুঁজ ও দুর্গন্ধ বের হতো। ড্রেসিং করতে গেলে খুবই যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো। অনেকে এ যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত তার চিকিত্সা খরচ পড়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
রোগীরা জানান, হাসাপাতালের গাইনি বিভাগের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর। এখানে সেবিকারা রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়া গাইনি বিভাগে জুনিয়র কনসালন্ট্যান্ট ডা. ইতি সাহা রোগীদের সঙ্গে প্রায় দুর্ব্যবহার করে থাকেন। অনেকের অভিযোগ, জেনারেল বেডে অপারেশন চার্জ বাদে যাবতীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। সিরিঞ্জ একটির স্থলে ৩ থেকে ৪টি স্লিপে লিখে দেন। ওষুধের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বাকি সিরিঞ্জ ও ওষুধ নার্সরা নিয়ে যান। কিছু জিজ্ঞাসা করলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। হাসপাতলের একটি সূত্র জানায়, যন্ত্রপাতি জীবণামুক্ত করার ওপর নির্ভর করে ইনফেকশন। এছাড়া অপরিষ্কার ও নোংরা পরিবেশ থেকে রোগীদের ক্ষত স্থানে ইনফেকশন দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালন্ট্যান্ট ডা. ইতি সাহার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ কেটে দেন।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইসহাক আলী আমার দেশ’কে জানান, গাইনি বিভাগে অপারেশন রোগীদের স্বজনদের উপস্থিতি বেশি হওয়া, রোগীর বেডে বসা, নোংরা থাকার কারণেও ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখছি।
ডা. ইতি সাহার রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। সর্তক করে দেয়ায় এখন তিনি (ডা. ইতি সাহা) অনেকটা কন্ট্রোলে এসেছেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?